ঋণ ও বিকল্প কর্মসংস্থান না থাকায় এলাকা ছাড়ার কথা ভাবছেন অনেক কৃষক
মে ১৪, ২০২৬
আইনজীবীর পোশাকে কলকাতা হাই কোর্টে মমতা ব্যানার্জি
মে ১৪, ২০২৬
ঋণ ও বিকল্প কর্মসংস্থান না থাকায় এলাকা ছাড়ার কথা ভাবছেন অনেক কৃষক
মে ১৪, ২০২৬
আইনজীবীর পোশাকে কলকাতা হাই কোর্টে মমতা ব্যানার্জি
মে ১৪, ২০২৬

ট্রাম্প-শি বৈঠকে বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদারে আশাবাদ, তাইওয়ান ইস্যুতে সতর্কতা

চলমান আলোচনায় তুলনামূলকভাবে দুর্বল অবস্থানে রয়েছেন ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রের আদালত তার শুল্ক আরোপের ক্ষমতাকে সীমিত করেছে সম্প্রতি। পাশাপাশি ইরান যুদ্ধ ঘরোয়া মূল্যস্ফীতি বাড়িয়েছে এবং রিপাবলিকান পার্টির নির্বাচনী অবস্থান দুর্বল করেছে। অন্যদিকে চীনের অর্থনীতি কিছুটা ধীর হলেও শি জিনপিং তেমন কোনো রাজনৈতিক চাপের মুখে নেই

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বলেছেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে চলমান বাণিজ্য আলোচনায় অগ্রগতি হচ্ছে। তবে তিনি সতর্ক করে বলেছেন, তাইওয়ান ইস্যু নিয়ে মতবিরোধ দুই দেশের সম্পর্ককে বিপজ্জনক পথে ঠেলে দিতে পারে। খবর রয়টার্স।

চীনের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়া জানিয়েছে, আজ দুই দিনের শীর্ষ বৈঠকের শুরুতেই শি জিনপিং এ মন্তব্য করেন। বেইজিংয়ের গ্রেট হল অব দ্য পিপলে জাঁকজমকপূর্ণ সংবর্ধনার পর বৈঠকটি শুরু হয়, যা ট্রাম্পের ভাষায় ‘সম্ভবত সবচেয়ে বড় শীর্ষ বৈঠক’।

ইরান যুদ্ধের কারণে দেশে-বিদেশে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, এমন প্রেক্ষাপট সফরটি গুরুত্ব বাড়িয়েছে। ২০১৭ সালের পর এবারই প্রথম কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে প্রধান কৌশলগত প্রতিদ্বন্দ্বী দেশ চীন সফর করছেন তিনি।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে গার্ড অব অনার এবং শিশুরা ফুল ও পতাকা নেড়ে স্বাগত জানায় অতিথিদের। এর পর শি জিনপিং বলেন, বিশ্বের দুই বৃহত্তম অর্থনীতির মধ্যে স্থিতিশীল সম্পর্ক পুরো বিশ্বের জন্যই উপকারী।

তিনি বলেন, ‘আমরা সহযোগিতা করলে দুই পক্ষই লাভবান হয়; আর মুখোমুখি হলে দুই পক্ষই ক্ষতিগ্রস্ত হয়।’

এর জবাবে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘আপনি একজন মহান নেতা, অনেকেই হয়তো আমার এ কথা পছন্দ করেন না, কিন্তু আমি এটাই বলি। কেউ কেউ বলছে, এটি হতে পারে সবচেয়ে বড় শীর্ষ বৈঠক।’

পরে রুদ্ধদ্বার বৈঠকে শি জিনপিং বলেন, আগের দিনে অনুষ্ঠিত বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক দলের আলোচনা ‘সামগ্রিকভাবে ভারসাম্যপূর্ণ ও ইতিবাচক’ ছিল।

এ আলোচনা মূলত গত অক্টোবরে ট্রাম্প ও শি-র মধ্যে হওয়া বাণিজ্য যুদ্ধবিরতি বজায় এবং ভবিষ্যৎ বিনিয়োগ ও বাণিজ্যের কাঠামো নির্ধারণের লক্ষ্যেই অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

শি জিনপিং বৈঠকে তাইওয়ান ইস্যুও তোলেন। স্বশাসিত ও গণতান্ত্রিকভাবে পরিচালিত দ্বীপটিকে চীন নিজেদের অংশ বলে দাবি করে। অন্যদিকে অঞ্চলটিকে অস্ত্রসহ সমর্থন দিয়ে থাকে যুক্তরাষ্ট্র।

চীনের প্রেসিডেন্ট বলেন, যুক্তরাষ্ট্র-চীন সম্পর্কের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু তাইওয়ান। এটি ভুলভাবে পরিচালিত হলে সংঘাত ও অত্যন্ত বিপজ্জনক পরিস্থিতির দিকে নিয়ে যেতে পারে।

বৈঠকে ট্রাম্পের সঙ্গে ছিলেন একদল শীর্ষ সিইও, যারা চীনের সঙ্গে ব্যবসায়িক সমস্যা সমাধানে আগ্রহী। তাদের মধ্যে ছিলেন ইলন মাস্ক, এনভিডিয়ার সিইও জেনসেন হুয়াং ও অ্যাপলের সিইও টিম কুক।

ট্রাম্প বলেছেন, তার প্রথম অনুরোধ হবে চীনকে যুক্তরাষ্ট্রের শিল্পখাতের জন্য আরো ‘উন্মুক্ত করা’।

দুই নেতার মধ্যে একাধিক বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। প্রথম বৈঠকের পর তারা ইউনেস্কো-স্বীকৃত টেম্পল অব হেভেন পরিদর্শন করবেন এবং আজ রাষ্ট্রীয় নৈশভোজে অংশ নেবেন। এরপর শুক্রবার তারা একসঙ্গে চা ও মধ্যাহ্নভোজ করবেন—হোয়াইট হাউজ সূত্রে এমনটাই জানা গেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের আগের বেইজিং সফরের তুলনায় এবার ক্ষমতার ভারসাম্য বদলে গেছে।

ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের যুক্তরাষ্ট্র-চীন সম্পর্ক বিষয়ক জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা আলি ওয়াইন বলেন, এবার যুক্তরাষ্ট্র নিজ থেকেই এই ‘স্ট্যাটাস’ স্বীকার করে নিচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, ট্রাম্প আগের বৈঠকে ‘জিটু’ বা দুই পরাশক্তির ধারণা পুনরায় সামনে এনেছিলেন।

চলমান আলোচনায় তুলনামূলকভাবে দুর্বল অবস্থানে রয়েছেন ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রের আদালত তার শুল্ক আরোপের ক্ষমতাকে সীমিত করেছে সম্প্রতি। পাশাপাশি ইরান যুদ্ধ ঘরোয়া মূল্যস্ফীতি বাড়িয়েছে এবং রিপাবলিকান পার্টির নির্বাচনী অবস্থান দুর্বল করেছে। অন্যদিকে চীনের অর্থনীতি কিছুটা ধীর হলেও শি জিনপিং তেমন কোনো রাজনৈতিক চাপের মুখে নেই।

তবুও উভয় পক্ষই গত অক্টোবরে প্রতিশ্রুত বাণিজ্য যুদ্ধবিরতি বজায় রাখতে আগ্রহী। ওই চুক্তিতে চীনা পণ্যের ওপর উচ্চ শুল্ক স্থগিত করেন ট্রাম্প এবং চীন দুষ্প্রাপ্য খনিজ সরবরাহ সীমিত করার হুমকি থেকে সরে আসে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *