উচ্চশিক্ষাবিষয়ক জাতীয় কর্মশালা উদ্বোধন গবেষণা ও উদ্ভাবনে মনোযোগী হতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান
মে ১৩, ২০২৬
গ্রেফতার
মে ১৩, ২০২৬
উচ্চশিক্ষাবিষয়ক জাতীয় কর্মশালা উদ্বোধন গবেষণা ও উদ্ভাবনে মনোযোগী হতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান
মে ১৩, ২০২৬
গ্রেফতার
মে ১৩, ২০২৬

রেলে ইঞ্জিন-কোচ সংকট ও বেহাল সড়ক, দুর্ভোগের শঙ্কা ঈদযাত্রায়

ঈদুল আজহা উপলক্ষে ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু হচ্ছে আজ। ঈদযাত্রায় নিয়মিত ২৯৫টি যাত্রীবাহী ট্রেনের পাশাপাশি ১০ জোড়া বিশেষ ট্রেন পরিচালনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে।

এসব ট্রেনের বিপরীতে রেলের বহরে ইঞ্জিন (লোকোমোটিভ) আছে ২৯৭টি। অর্ধেকের বেশি (প্রায় ৫১ শতাংশ) ইঞ্জিন আবার অর্থনৈতিক আয়ুষ্কাল অতিক্রম করেছে। ট্রেন পরিচালনার সময় তাই প্রায়ই বিকল বা দুর্ঘটনায় পড়ছে পুরনো সব ইঞ্জিন। আছে কোচের সংকটও। সম্প্রতি বেশ কয়েকটি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ইঞ্জিন ও কোচ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় এ সংকট আরো প্রকট হয়েছে। এ কারণে আসন্ন ঈদযাত্রায় ট্রেন পরিচালনা বিঘ্নিত হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা ধারণা করছেন, আসন্ন ঈদযাত্রায় ঢাকা থেকে বিভিন্ন গন্তব্যে যাতায়াত করবেন প্রায় দেড় কোটি মানুষ। সিংহভাগই আবার যাতায়াত করেন সড়কপথে। এর সঙ্গে প্রায় এক কোটি কোরবানির পশু পরিবহন করা হবে। যদিও ঘরমুখী মানুষ ও কোরবানির পশু পরিবহনের চাপ সামাল দেয়ার অবস্থায় নেই দেশের সড়ক-মহাসড়কগুলো। বৃষ্টিতে এরই মধ্যে বিভিন্ন সড়কে খানাখন্দ দেখা দিয়েছে, যেগুলোর কারণে বিঘ্নিত হচ্ছে যান চলাচল।

এমন প্রেক্ষাপটে ঈদযাত্রার সময়ও যদি বৃষ্টি থাকে, তাহলে পরিস্থিতি সামাল দেয়া আরো কঠিন হয়ে পড়বে বলে মনে করছেন স্বয়ং সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌ-পরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। সচিবালয়ে গত সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘‌গতবার (ঈদুল ফিতর) একদিনের ঝড়-বৃষ্টি আমাদের চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছিল। এবার তো পুরোদমে বর্ষাকাল চলছে। প্রতিকূল আবহাওয়ায় রাস্তায় পর্যাপ্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন রাখা এবং জলজট ও যানজট নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন। এ বিষয়গুলো মাথায় রেখে এবার আমরা বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় প্রস্তুতিও নিয়েছি।’

আসন্ন ঈদযাত্রায় সড়কপথে ঘরমুখী মানুষের দুর্ভোগের কারণ হতে পারে ৯৪টি যানজটপ্রবণ স্পট। হাইওয়ে পুলিশের হিসাব অনুযায়ী, ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে সাতটি, ঢাকা-টাঙ্গাইল-রংপুর মহাসড়কে ২৫, ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে সাত, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে ২১, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ২৫, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে আট এবং ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের মাদারীপুর অংশে একটি যানজটপ্রবণ স্পট রয়েছে। এসব স্পট ছাড়াও শ্রমিক অধ্যুষিত গাজীপুর, আব্দুল্লাহপুর, বাইপাইল এলাকার সড়কে যানজটের আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

rr
আসন্ন ঈদে বাড়ি ফেরার পথে দেশের চারটি প্রধান মহাসড়কে ভিন্ন কারণে ভোগান্তির আশঙ্কা রয়েছে। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে বৃষ্টির কারণে তৈরি হওয়া খানাখন্দ, মেঘনা সেতুর টোল প্লাজায় ধীরগতি এবং সড়কের ধারের পশুর হাট যানজট সৃষ্টি করতে পারে। ঢাকা-উত্তরবঙ্গ মহাসড়কে যমুনা সেতুর সরু পথ বা ‘বটলনেক’, এলেঙ্গায় ফ্লাইওভারের নির্মাণকাজ এবং চন্দ্রা মোড়ে রাস্তা সরু হয়ে যাওয়ায় যানবাহনের জটলা হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে চার লেনের কাজ চলায় খোঁড়াখুঁড়ি, রাস্তার গর্ত এবং যেখানে-সেখানে বাস থামানোর কারণে যাত্রীদের দেরি হতে পারে। এছাড়া ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের গাজীপুর অংশে বৃষ্টি হলেই পানি জমে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়, যা এ পথের ঘরমুখী মানুষের জন্য বড় ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়াবে।

ঈদযাত্রায় সড়কে ভোগান্তির শঙ্কা করা হলেও দেশের ৯০ শতাংশ সড়ক ভালো অবস্থায় থাকার দাবি করেছেন সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী সৈয়দ মঈনুল হাসান। এ প্রসঙ্গে তিনি বণিক বার্তাকে বলেন, ‘আমাদের আওতায় থাকা ৯০ শতাংশ সড়ক ভালো অবস্থায় রয়েছে এবং এসব সড়কে ঈদের সময় মানুষের যাতায়াতে কোনো সমস্যা হবে না। তবে উন্নয়নকাজ চলমান থাকায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে যাতায়াতে কিছুটা সমস্যা হতে পারে।’

রেলওয়ের অর্ধেকের বেশি ইঞ্জিন পুরনো হয়ে যাওয়ায় এবারের ঈদযাত্রায় ট্রেন চলাচল নির্বিঘ্ন রাখা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। রেলওয়ের বহরে থাকা ২৯৭টি ইঞ্জিনের বিপরীতে ২৯৫টি যাত্রীবাহী ট্রেন এবং ১০ জোড়া বিশেষ ট্রেন পরিচালনা করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ও চ্যালেঞ্জিং বলে মনে করছেন রেলের কর্মকর্তারা। তারা বলছেন, যেহেতু বহরের অর্ধেকের বেশি ইঞ্জিন মেয়াদোত্তীর্ণ, তাই যান্ত্রিক ত্রুটির আশঙ্কা অনেক বেশি। এ অবস্থায় সব ইঞ্জিন নিয়মিত ট্রেনে ব্যবহার করে ফেললে মাঝপথে কোনো একটি ইঞ্জিন নষ্ট হলে তা পাল্টানোর মতো কোনো বাড়তি ইঞ্জিন পাওয়া কঠিন হয়ে যাবে। ফলে একটি ট্রেনের সমস্যার কারণে পুরো শিডিউল এলোমেলো হয়ে যেতে পারে এবং যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়তে পারেন।

এমন ঘটনা যেন না ঘটে, সেজন্য ঈদের আগেই পুরনো ইঞ্জিনগুলো মেরামত করার উদ্যোগ নিয়েছে রেলওয়ে। পূর্বাঞ্চল রেলের পাহাড়তলী ডিজেল শপে ৫৫টি ও ঢাকা বিভাগে ৩৫টি ইঞ্জিন মেরামত করার কথা জানিয়েছেন রেলের প্রকৌশলীরা। একইভাবে পশ্চিমাঞ্চল রেলেও প্রয়োজনীয়সংখ্যক ইঞ্জিন মেরামত করার কথা জানিয়েছেন তারা।

এর পরও ইঞ্জিন সংকট দূর হবে না বলে জানিয়েছেন রেলের কর্মকর্তারা। এ প্রসঙ্গে পূর্বাঞ্চল রেলওয়ের চিফ পাওয়ার কন্ট্রোলার মিজানুর রহমান বলেন, ‘পূর্বাঞ্চলে প্রতিদিন স্বাভাবিক ট্রেন পরিচালনায় প্রায় ১০০টি ইঞ্জিন প্রয়োজন হলেও সাধারণ সময়ে পাওয়া যায় ৭৮-৮০টি। ঈদের সময় পণ্যবাহী ট্রেন বন্ধ থাকায় কিছু বাড়তি ইঞ্জিন পাওয়া যেতে পারে।’

যদিও ইঞ্জিন সংকটের কারণে পণ্যবাহী ট্রেনগুলো ঠিকমতো চলাচল করতে পারছে না বলে বণিক বার্তাকে জানিয়েছেন বাংলাদেশ রেলওয়ের সহযোগী প্রতিষ্ঠান কনটেইনার কোম্পানি অব বাংলাদেশ লিমিটেডের (সিসিবিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মিয়াজাহান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *