৫ বছরে ৭ হাজার কিলোমিটার খাল খনন করা হবে —ত্রাণমন্ত্রী
মে ১১, ২০২৬
আকুর বিল পরিশোধের পর রিজার্ভ কমল দেড় বিলিয়ন ডলার
মে ১১, ২০২৬
৫ বছরে ৭ হাজার কিলোমিটার খাল খনন করা হবে —ত্রাণমন্ত্রী
মে ১১, ২০২৬
আকুর বিল পরিশোধের পর রিজার্ভ কমল দেড় বিলিয়ন ডলার
মে ১১, ২০২৬

নিলামে চা বিক্রি চট্টগ্রাম কেন্দ্রে দাম বাড়লেও শ্রীমঙ্গল-পঞ্চগড়ে কমছে

দেশে চা নিলামের মধ্যে চট্টগ্রামে দাম ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। তবে প্রথম নিলামের তুলনায় দ্বিতীয় নিলামে শ্রীমঙ্গল ও পঞ্চগড়ে চায়ের দাম কমতে শুরু করেছে।

মান অনুযায়ী ভালো চা সরবরাহ কম থাকায় দাম নিম্নমুখী বলছে ক্রেতাপ্রতিষ্ঠানগুলো।

চা বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৭ এপ্রিল শুরু হওয়া চট্টগ্রাম নিলামে (প্রথম নিলাম) ১৪ লাখ ৭৬ হাজার ২৪৭ কেজি চা বিক্রি হয়েছে। কেজিপ্রতি চা ২৭৪ টাকায় বিক্রি হয়। ৪ মে দ্বিতীয় নিলামে চা সরবরাহ কমে গেলে মোট বিক্রি হয় ১০ লাখ ১২ হাজার ৫১২ কেজি। তবে সরবরাহ কমায় চায়ের গড় দাম উঠে যায় কেজিপ্রতি ২৮০ টাকা ৫২ পয়সায়। চট্টগ্রামে দাম বাড়লেও অন্য দুটি নিলাম কেন্দ্রে সরবরাহ ও দাম দুটোই নিম্নমুখী বলে জানিয়েছেন চা সংশ্লিষ্টরা।

তথ্যমতে, ২৯ এপ্রিল শ্রীমঙ্গলের প্রথম নিলামে বিক্রি হয় ৪৪ হাজার ১২৯ কেজি চা। কেজিপ্রতি চায়ের গড় দাম ছিল ২৬৭ টাকা। ৫ মে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় নিলামে সরবরাহ কমার সঙ্গে সঙ্গে কেজিপ্রতি গড় দামও কমে যায়। শ্রীমঙ্গলের দ্বিতীয় নিলামে ২৬ হাজার ৯৭০ কেজি চা গড়ে ২৪৩ টাকা ৭৫ পয়সায় বিক্রি করেছেন বাগান মালিকরা। আবার ২৮ এপ্রিল পঞ্চগড়ের প্রথম নিলামে ৫২ হাজার ৩৭৭ কেজি চা গড়ে ২৩১ টাকা ৯৩ পয়সায় লেনদেন হয়েছে। পঞ্চগড়ের দ্বিতীয় নিলামেও চায়ের সরবরাহ ও দাম দুটোই কমে যাওয়ায় শঙ্কা জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

দেশের প্রধান চা নিলাম কেন্দ্র চট্টগ্রাম। দেশে উৎপাদনের পর লেনদেন হওয়া ৯৫ শতাংশেরও বেশি চা এ নিলামে প্রস্তাব করেন বাগান মালিকরা। দ্বিতীয় নিলামে ১২ লাখ ৬ হাজার ৮০০ কেজি চা বিক্রির জন্য প্রস্তাব করা হলেও ৮৪ শতাংশ চা কিনে নিয়েছেন বায়ার প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা। তৃতীয় নিলামে ১৬ লাখ ৬১ হাজার ৮০০ কেজি চা বিক্রির প্রস্তাবের ঘোষণা দিয়েছে ব্রোকার্স প্রতিষ্ঠানগুলো, যা আগের বছরের একই নিলামের তুলনায় ২ লাখ ৪৮ হাজার ১৮৪ কেজি বেশি। চলতি বছর এপ্রিলে পর্যাপ্ত আগাম বৃষ্টি ও অনুকূল পরিবেশ থাকায় নিলামে আগের বছরের তুলনায় বাড়তি চা সরবরাহের সুযোগ পাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন বাগান মালিকরা।

জানতে চাইলে ন্যাশনাল টি ব্রোকার্সের জ্যেষ্ঠ ব্যবস্থাপক অঞ্জন দেব বর্মণ বণিক বার্তাকে বলেন, ‘চট্টগ্রামের চা নিলাম কেন্দ্র শত বছরের বেশি সময় ধরে চা নিলামের সঙ্গে যুক্ত। বর্তমানে দেশে আরো দুটি নিলাম কেন্দ্র চালু হলেও পুরনো কেন্দ্র হিসেবে চট্টগ্রামে ভালো মানের ও সর্বোচ্চ পরিমাণ চা সরবরাহ করে বাগানগুলো। নতুন মৌসুমেও চট্টগ্রামে চায়ের চাপ বেশি, ক্রেতারা বাড়তি দামে হলেও এখানকার চা কিনে নিচ্ছেন। চলতি মৌসুমে আবহাওয়া ভালো থাকায় ভালো মানের চা উৎপাদনের কারণে মৌসুমটা চা খাতের জন্য ভালো যাবে বলে আশা করি।’

ব্রোকার্স প্রতিষ্ঠানের তথ্যমতে, প্রথম নিলামে সর্বোচ্চ দামে চা বিক্রি করেছে মধুপুর চা বাগান। এ বাগানের ক্লোনাল ব্রোকেন ক্যাটাগরির ১০ প্যাকেজ জিবিওপি চা (৫০০ কেজি) কেজিপ্রতি ৭০০ টাকা দাম উঠেছে। দ্বিতীয় নিলামেও মধুপুর বাগানের চা ক্লোনাল ব্রোকেন জিবিওপি চা (৫০০ কেজি) ৪৮০ টাকা কেজি দরে কিনে নিয়েছে রাজধানী টি কোম্পানি। এছাড়া প্রথম ও দ্বিতীয় নিলামে জেরিন, মির্জাপুর, গাজীপুর, খৈয়াছড়া, করিমপুর, দাঁড়াগাঁও, বালিচেরা, রুথনা, কাদেরপুর বাগানগুলো সবচেয়ে বেশি দামে চা বিক্রির তালিকায় উঠে এসেছে।

দেশে বার্ষিক চায়ের চাহিদা নয় কোটি কেজিরও বেশি। সর্বশেষ মৌসুমে ৯ কোটি ৪৯ লাখ ২৭ হাজার কেজি চা উৎপাদন করেছে দেশের ১৭২টি বাগান। চলতি মৌসুমে ১০ কোটি ৪০ লাখ কেজি চা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ চা বোর্ড। যদিও ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দুই মাসে ৫ লাখ ৯৭ হাজার কেজি চা উৎপাদন করেছে বাগানগুলো। এপ্রিলে দেশে পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত হওয়ায় আগামী মাসগুলোয় চা উৎপাদন পূর্ববর্তী বছরগুলোর তুলনায় বাড়বে বলে আশা করছেন চা খাতসংশ্লিষ্টরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *