পদত্যাগ করব না, পারলে বরখাস্ত করুক: দৃঢ় কণ্ঠে মমতা
মে ৭, ২০২৬
উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ বায়ার্নকে রুখে দিয়ে টানা দ্বিতীয়বার ফাইনালে পিএসজি
মে ৭, ২০২৬
পদত্যাগ করব না, পারলে বরখাস্ত করুক: দৃঢ় কণ্ঠে মমতা
মে ৭, ২০২৬
উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ বায়ার্নকে রুখে দিয়ে টানা দ্বিতীয়বার ফাইনালে পিএসজি
মে ৭, ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাব পর্যালোচনা করছে ইরান পারমাণবিক কর্মসূচি ও হরমুজ প্রণালি ইস্যু অমীমাংসিত

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া যুদ্ধ শেষ করতে ট্রাম্প বারবার একটি চুক্তির সম্ভাবনার কথা বললেও এখন পর্যন্ত তাতে সফলতা আসেনি। দুই পক্ষ এখনো বেশ কয়েকটি জটিল ইস্যুতে মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ইরানের পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা এবং বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ জ্বালানি তেল ও গ্যাস সরবরাহকারী রুট হরমুজ প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ

যুক্তরাষ্ট্রের দেয়া একটি শান্তি প্রস্তাব পর্যালোচনা করছে ইরান। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, প্রস্তাবে আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধ শেষ করার কথা থাকলেও ওয়াশিংটনের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি এখনো অমীমাংসিত রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি স্থগিত ও হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেয়া। খবর রয়টার্স।

ইরানের বার্তা সংস্থা আইএসএনএ-কে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র জানান, শিগগিরই আনুষ্ঠানিক জবাব দেবে তেহরান।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গতকাল হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের জানান, তিনি বিশ্বাস করেন যে ইরান একটি সমঝোতা চায়।

তার ভাষায়, ‘তারা চুক্তি করতে চায়। গত ২৪ ঘণ্টায় আমাদের খুব ভালো আলোচনা হয়েছে এবং খুব সম্ভবত আমরা একটি চুক্তিতে পৌঁছাব।’

তবে এর আগে গতকাল ট্রাম্প তুলনামূলকভাবে হতাশাবাদী সুরে কথা বলেন। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ইরানে আবারো বোমা হামলা শুরুর হুমকি দেন। একই সঙ্গে ইরান সর্বশেষ মার্কিন প্রস্তাবে সম্মত হবে—এমন সম্ভাবনাকে তিনি ‘বড় ধরনের অনুমান’ বলে উল্লেখ করেন।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া যুদ্ধ শেষ করতে ট্রাম্প বারবার একটি চুক্তির সম্ভাবনার কথা বললেও এখন পর্যন্ত তাতে সফলতা আসেনি। দুই পক্ষ এখনো বেশ কয়েকটি জটিল ইস্যুতে মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ইরানের পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা এবং বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ জ্বালানি তেল ও গ্যাস সরবরাহকারী রুট হরমুজ প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ।

এক পাকিস্তানি সূত্র ও মধ্যস্থতা প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত আরেকটি সূত্র জানিয়েছে, একটি এক পৃষ্ঠার সমঝোতা স্মারকের বিষয়ে অগ্রগতি হয়েছে, যা আনুষ্ঠানিকভাবে সংঘাতের ইতি টানতে পারে। এর পর হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল পুনরুদ্ধার, ইরানের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির সীমা নির্ধারণ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

তবে স্মারকটি গত সপ্তাহে ইরানের প্রস্তাবিত ১৪ দফা পরিকল্পনা থেকে কীভাবে আলাদা, তা স্পষ্ট নয়। এছাড়া সর্বশেষ মার্কিন প্রস্তাবের ব্যাপারে এখনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি তেহরান।

প্রস্তাবটিকে ‘কোনো বাস্তবধর্মী সমাধান নয়, বরং ওয়াশিংটনের চাওয়ার তালিকা’ বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের পার্লামেন্টের পররাষ্ট্রনীতি ও জাতীয় নিরাপত্তা কমিটির মুখপাত্র ইব্রাহিম রেজায়ী।

এদিকে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কালিবফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইংরেজিতে লিখেছেন, ‘অপারেশন ট্রাস্ট মি ব্রো ফেলড’। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালি জাহাজ চলাচলের জন্য খুলতে ব্যর্থ হওয়ার পর এসব প্রতিবেদন মূলত ওয়াশিংটনের প্রচারণা।

মধ্যস্থতা প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত সূত্র জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে আলোচনা নেতৃত্ব দিচ্ছেন ট্রাম্পের দূত স্টিভ উইটকফ এবং জামাতা জ্যারেড কুশনার। প্রাথমিক চুক্তিতে দুই পক্ষ সম্মত হলে ৩০ দিনের বিস্তারিত আলোচনা শুরু হবে।

পূর্ণাঙ্গ চুক্তির আওতায় হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পাল্টাপাল্টি অবরোধ তুলে নেয়া, মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং জব্দ করা ইরানি অর্থ ছাড় করার বিষয় থাকতে পারে। পাশাপাশি ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ওপর কিছু সীমাবদ্ধতাও আরোপ করা হতে পারে।

তবে সূত্রগুলো জানিয়েছে, প্রাথমিক স্মারকে দুই পক্ষের তাৎক্ষণিক কোনো ছাড়ের কথা না থাকলেও অতীতে ওয়াশিংটনের তোলা কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দাবির উল্লেখ নেই। যেমন ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিতে সীমা আরোপ এবং মধ্যপ্রাচ্যের প্রক্সি মিলিশিয়াদের প্রতি সমর্থন বন্ধ করা। এসব দাবি ইরান আগেই প্রত্যাখ্যান করেছে।

এছাড়া ইরানের কাছে থাকা ৪০০ কেজির বেশি প্রায় অস্ত্রমানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত নিয়েও কোনো উল্লেখ নেই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *