
বৃষ্টিতে উৎপাদন ব্যাহত কোরবানির আগে বাড়ছে লবণের দাম, বিনামূল্যে সরবরাহ কমার আশঙ্কা
মে ৭, ২০২৬
ফার্মগেটে চলন্ত মাইক্রোবাসে আগুন
মে ৭, ২০২৬সকাল থেকেই ছিল ঝলমলে রোদ। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এ রোদের তীব্রতাও বাড়তে থাকে। টানা বৃষ্টির দুর্যোগ-দুর্ভোগের পর এমন রোদে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন কিষান-কিষানিরা।
তারা ধান তোলা ও শুকানোয় মহাব্যস্ত সময় পার করছেন। গতকাল সুনামগঞ্জ ও কিশোরগঞ্জ এলাকায় হাওরজুড়ে ফিরে আসে কর্মচাঞ্চল্য। ডুবে যাওয়া খেত ও খলায় স্তূপ করে রাখা ধান রক্ষায় ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। কেউ পানি থেকে ধান তুলছেন, কেউ আবার খলায় রাখা ধান শুকাচ্ছেন।
কৃষকরা বলছেন, এভাবে আরো তিন থেকে চারদিন রোদ পাওয়া গেলে হাওরের কাটা ও মাড়াই করা ধান শুকানো সম্ভব হবে। একই সঙ্গে যেসব জমির ধান তলিয়ে যায়নি, সেগুলো কাটা যাবে। তবে যদি বৃষ্টি হয়, তাহলে ধান শুকাতে ভোগান্তি বাড়বে।
জেলার আবহাওয়া বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, সুনামগঞ্জে সকাল ৯টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় কোনো বৃষ্টি হয়নি। জেলার সুরমা, কুশিয়ারাসহ অন্য নদ-নদীর পানি কিছুটা কমেছে। আগামী তিনদিন পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে। তবে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির পূর্বাভাস আছে। আর কিশোরগঞ্জ জেলার ইটনা পয়েন্টে ধনু-বৌলাই নদীর পানি কমে ৩ দশমিক ২৮ মিটারে নেমেছে, যা আগের দিনের তুলনায় ২ সেন্টিমিটার কম। চামড়াঘাটে মেঘনা নদীর পানি রয়েছে ২ দশমিক ৯৫ মিটার, কমেছে ১ সেন্টিমিটার। ভৈরব বাজারে মেঘনা নদীর পানি কমে ১ দশমিক ৬৪ মিটারে দাঁড়িয়েছে, যা ৭ সেন্টিমিটার হ্রাস পেয়েছে।
সকালে সুনামগঞ্জ হাওরের খলায় আসেন কিষানি রহিমা বেগম (২৫)। আগের দিন কিছু ধান শুকিয়েছেন, কিন্তু খলায় জায়গা কম থাকায় আরো অনেক ধান রয়ে গেছে। সেই ধান বিছিয়ে দিয়েছেন। কাঠফাটা রোদ মাথায় নিয়েই তিনি সেই ধান বিছিয়ে দিচ্ছিলেন। আবার কিছুক্ষণ পর সেই ধান থেকে চিটা ছাড়াচ্ছিলেন বাতাসে উড়িয়ে। সঙ্গে তার দুই মেয়েও কাজে যোগ দিয়েছেন।
রহিমার বাড়ি সদর উপজেলার ইসলামপুর গ্রামে। কাজের ফাঁকে তিনি বলেন, ‘আগের কয় দিন বড় খারাপ গেছেল। কোনো কাজ করতে পারছি না। এখন দুইটা দিন ভালো পেয়েছি। যা পারি, তাড়াতাড়ি ধান শুকাতে হবে। কোন সময় মেঘ শুরু হয়, ইটার ঠিক নাই।’
কৃষি বিভাগের হিসাবে সুনামগঞ্জে চলতি মৌসুমে হাওরাঞ্চলে বোরো ধান কাটা ৭২ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। তবে এ তথ্যের সঙ্গে মাঠপর্যায়ের বাস্তবতার মিল নেই বলে দাবি করেছেন হাওরকেন্দ্রিক সংগঠনের নেতারা। সুনামগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর জেলার ১৩৭টি হাওরে ২ লাখ ২৩ হাজার ৫১১ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে প্রায় ১৪ লাখ টন। এর মধ্যে হাওরের নিচু অংশে আবাদ হয়েছে ১ লাখ ৬৫ হাজার ২৭৫ হেক্টর এবং হাওর নয় বা উঁচু জমিতে ৫৮ হাজার ২৩৬ হেক্টর। অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে এ পর্যন্ত ১৬ হাজার ৩৯৫ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এ বিষয়ে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ ওমর ফারুক বলেন, ‘ক্ষয়ক্ষতির চূড়ান্ত হিসাব এখনো প্রস্তুত হয়নি, এটি করতে সময় লাগবে।’ তিনি বলেন, ‘কয়েক দিন রৌদ্রোজ্জ্বল আবহাওয়া থাকায় পরিস্থিতি কিছুটা স্বস্তিদায়ক হয়েছে। এ অবস্থা বজায় থাকলে কৃষকরা অবশিষ্ট ধান ঘরে তুলতে পারবেন।’
কিশোরগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. সাদিকুর রহমান জানান, মাঠপর্যায়ের সর্বশেষ তথ্যমতে প্রায় ১৩ হাজার হেক্টর জমি পানিতে তলিয়ে ৫০ হাজার কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এর মধ্যে ইটনা ও অষ্টগ্রাম উপজেলায় ক্ষতির পরিমাণ বেশি। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা প্রণয়নের কাজ চলছে। (প্রতিবেদন তৈরিতে তথ্য দিয়ে সহায়তা করেছেন বণিক বার্তার কিশোরগঞ্জ ও সুনামগঞ্জের প্রতিনিধি)


