
বৈদ্যুতিক গ্রিড ও ডিজিটাল নেটওয়ার্কে ৭০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ প্রতিশ্রুতি এডিবির
মে ৪, ২০২৬
মেহেরপুরে এয়ার ফ্লো মেশিন ব্যবহারেও সংরক্ষণাগারে পচে যাচ্ছে পেঁয়াজ
মে ৪, ২০২৬সংসদের প্রথম অধিবেশনকে ‘ব্যর্থ’ আখ্যা দিয়ে সংস্কার প্রতিশ্রুতি থেকে সরকারের সরে যাওয়ার অভিযোগ তুলেছেন এনসিপির নেতা ও অন্য বিশ্লেষকরা।
তাদের মতে, গণভোট বাস্তবায়ন নিয়ে অনিশ্চয়তা ও রাজনৈতিক আপসকামিতা রাষ্ট্রের জবাবদিহিতা ও ক্ষমতার ভারসাম্যকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে। একই সঙ্গে জ্বালানি খাতে বাড়তে থাকা আমদানিনির্ভরতা, উচ্চ ব্যয় এবং বিনিয়োগ স্থবিরতা পরিস্থিতিকে আরো জটিল করে তুলছে, যা দেশকে নতুন করে গভীর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকটের দিকে ঠেলে দিতে পারে বলে তারা সতর্ক করেন। বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যারা সংস্কার চেয়েছে, প্রতিফলন না দেখলে তারা রাজপথে নেমে আসবে।
গতকাল রাজধানীর কাকরাইলের ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটের মুক্তিযোদ্ধা হলে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সংস্কার বাস্তবায়ন কমিটির আয়োজিত ‘জ্বালানি, অর্থনীতি, মানবাধিকার, সংস্কার ও গণভোট’ শীর্ষক জাতীয় কনভেনশন অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা, অর্থনীতিবিদ, জ্বালানি বিশেষজ্ঞ, ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক ও সুধীজনরা অংশ নেন। তারা নির্বাচন-পরবর্তী রাষ্ট্র সংস্কার প্রক্রিয়া নিয়ে মতবিনিময় করেন। আলোচনায় অর্থনৈতিক পুনর্গঠন, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও ব্যাংক খাতের শৃঙ্খলা, জ্বালানি নিরাপত্তা, মানবাধিকার পরিস্থিতি এবং গণভোট বাস্তবায়নের বিষয়গুলো বিশেষ গুরুত্ব পায়। উদ্বোধনী ও সমাপনীসহ মোট ছয়টি সেশনে দিনভর কনভেনশনটি অনুষ্ঠিত হয়।
কনভেনশনে স্বাগত বক্তব্য রাখেন এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার। এ সময় তিনি বিএনপি সরকার আর সংস্কার করতে চায় না বলে মন্তব্য করেন। সারোয়ার তুষার বলেন, ‘সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোয় দলীয় লোক বসানো এবং সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ বাতিলের মাধ্যমে তারা (বিএনপি) জনগণের সঙ্গে দেয়া প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছে।’
সংসদের প্রথম অধিবেশন ব্যর্থ হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। সভাপতির বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘প্রথম অধিবেশনে বিভিন্ন সংস্কার প্রস্তাব কীভাবে বাস্তবায়ন হবে, সে বিষয়ে আলোচনা হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সরকার তা না করে নিজের মতো সংসদ পরিচালনা করেছে। এভাবে করলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আন্দোলন আমাদের একমাত্র পথ হয়ে দাঁড়াবে।’
রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক ড. দিলারা চৌধুরী বলেন, ‘জুলাই সনদে বর্ণিত বিচার বিভাগ ও দুদকের সংস্কার থেকে সরকার সরে আসছে। জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় না মানলে দেশ আবারো কর্তৃত্ববাদী শাসনের দিকে ফিরে যাবে।’
এনসিপির সদস্য সচিব ও সংসদ সদস্য আখতার হোসেন বলেন, ‘বিএনপি নিরঙ্কুশ ক্ষমতা উপভোগ করতে চায়। গণভোটে ৩০টি বিষয়ে ঐকমত্য থাকা সত্ত্বেও এখন আপত্তি তোলা হচ্ছে। সংসদের মাধ্যমে সংশোধনী আর গণপরিষদের মাধ্যমে নতুন সংবিধানের মাঝামাঝি একটা আইডিয়ার ব্যাপারে আমরা একমত হই। সেটাই ছিল সংবিধান সংস্কার পরিষদ। কিন্তু বিএনপি এখন সেটা থেকে দূরে সরে এসেছে। জনগণের রায়কে অমর্যাদা করা হলে তা দেশের জন্য নেতিবাচক হবে।’
এনসিপির সমন্বয়ক ও সংসদ সদস্য আব্দুল হান্নান মাসউদ বলেন, ‘সংসদের প্রথম অধিবেশনের পরেই আমি বলেছি, এটা প্রতারণা ও প্রবঞ্চণার সংসদ। যে অধ্যাদেশগুলো আইন করলে সরকারের ক্ষমতা বাড়বে, সেগুলোকে তারা আইনে পরিণত করেছে। কিন্তু যেগুলো সরকারের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করবে, সেগুলো তারা ল্যাপস করে বাতিল করে দিয়েছে।’
এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেন, ‘গত ১৬ বছরে আওয়ামী লীগ দেশকে লুটের রাজ্যে পরিণত করেছে। আগামীতে মেগা প্রকল্পের নামে যেন মেগা ডাকাতি না হয়।’
সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ দুর্নীতি রোধে আয়কর ও শুল্ক ব্যবস্থাকে ক্যাশলেস ও পেপারলেস এবং এনআইডি অন্তর্ভুক্তকরণের মাধ্যমে কর ও শুল্ক অটোমেশন করা এখন সময়ের দাবি বলে উল্লেখ করেন।
এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া বলেন, ‘মানবাধিকার একটি সর্বজনীন বিষয় হওয়া উচিত। কিন্তু আমাদের যথেষ্ট আইনি কাঠামো না থাকার কারণে আমরা তা অনুশীলন করতে পারছি না। যথাযথ আইনি কাঠামো না থাকায় যারা ফ্যাসিবাদ হয়ে উঠতে সহায়তা করেছেন, তাদের এখন একটা হিরো ট্রিটমেন্ট দেয়া হচ্ছে। অথচ তাদের আরো ভয়াবহ শাস্তি হওয়া দরকার ছিল।’
ক্যাবের জ্বালানি উপদেষ্টা অধ্যাপক শামসুল আলম বলেন, ‘বিগত দেড় দশকে দেশের জ্বালানি খাতে ভয়াবহ লুণ্ঠন সংঘটিত হয়েছে। আইনের অপপ্রয়োগ ও পরিবর্তনের মাধ্যমে এসব অনিয়মকে আইনি সুরক্ষা দেয়া হয়েছে। এ লুণ্ঠনকারীরা বর্তমানে শক্তিশালী অলিগার্কে পরিণত হয়ে অর্থনীতি ও রাজনীতি নিয়ন্ত্রণ করছে। এ অলিগার্কদের মোকাবেলা করতে হলে রাজনীতিবিদদের সংগ্রামী হতে হবে। লুণ্ঠন বন্ধে এবং অধিকার আদায়ে এখন জাতীয় একতা ও সমতা প্রয়োজন।’
মতপ্রকাশের কারণে এখন মানহানির মামলা করছে বলে অভিযোগ করেন জাতীয় যুবশক্তির সভাপতি তরিকুল ইসলাম।
জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘এখন সরকার জনগণকে বিভ্রান্ত করছে। সংসদে তারা ঐকমত্য কমিশনের বই হাতে নিয়ে বলে, আমরা এ জুলাই সনদের সব অক্ষরে অক্ষরে মানব। কিন্তু কোনোদিন তারা বলে না, গণভোটে জনগণ যে রায় দিয়েছে আমরা তা অক্ষরে অক্ষরে মানব। রাষ্ট্রপতির আদেশ নিয়ে সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, এটা জনগণের সঙ্গে অন্তহীন প্রতারণা। এটি যদি অন্তহীন প্রতারণা হয়, তাহলে চার মাস ধরে কেন বলেননি।’


