আগামী পাঁচ দিনে সারা দেশে ক্রমান্বয়ে বৃষ্টিপাত কমার পূর্বাভাস
মে ৩, ২০২৬
এলডিসি উত্তরণ পেছনোর কারণ জানাতে পরামর্শ সভা অনুষ্ঠিত
মে ৩, ২০২৬
আগামী পাঁচ দিনে সারা দেশে ক্রমান্বয়ে বৃষ্টিপাত কমার পূর্বাভাস
মে ৩, ২০২৬
এলডিসি উত্তরণ পেছনোর কারণ জানাতে পরামর্শ সভা অনুষ্ঠিত
মে ৩, ২০২৬

এনসিপির জাতীয় কনভেনশনে দিলারা চৌধুরী জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না হলে আবার ফ্যাসিবাদের দিকে যাবে দেশ

বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতি প্রসঙ্গে দিলারা চৌধুরী বলেন, আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতি মূলত কর্তৃত্ববাদী। যে-ই ক্ষমতায় আসে, সে-ই কর্তৃত্ববাদী হয়ে ওঠে। আমরা দীর্ঘদিন ধরে স্বপ্নভঙ্গের অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে গেছি—১৯৪৭, ১৯৭১ এবং সর্বশেষ ২০২৪ সালে ১৬-১৭ বছরের অপশাসন ও লুটপাটের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের পরও

রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক দিলারা চৌধুরী বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতি, প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার ও বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বা ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়ন না হলে দেশ আবারো পুরনো স্বৈরাচারী ও ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার দিকে ফিরে যেতে পারে।

রাজধানীর কাকরাইলের আইডিইবি ভবনে অনুষ্ঠিত জ্বালানি, অর্থনীতি, সংস্কার ও গণভোট বিষয়ক জাতীয় কনভেনশনের উদ্বোধনী সেশনে আজ এসব কথা বলেন অধ্যাপক দিলারা চৌধুরী। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সংস্কার বাস্তবায়ন কমিটি এ কনভেনশনের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার, সমাজবিজ্ঞানী মির্জা হাসান, সংসদ সদস্য আক্তার হোসেন ও আব্দুল হান্নান মাসুদসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতি প্রসঙ্গে দিলারা চৌধুরী বলেন, আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতি মূলত কর্তৃত্ববাদী। যে-ই ক্ষমতায় আসে, সে-ই কর্তৃত্ববাদী হয়ে ওঠে। আমরা দীর্ঘদিন ধরে স্বপ্নভঙ্গের অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে গেছি—১৯৪৭, ১৯৭১ এবং সর্বশেষ ২০২৪ সালে ১৬-১৭ বছরের অপশাসন ও লুটপাটের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের পরও।

তিনি আরো বলেন, ১৪০০ সন্তানের প্রাণের বিনিময়ে যে পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়েছে, তার পরিণতি কী হলো? আমরা দেখছি প্রতারণার মাধ্যমে একটা গোষ্ঠী মেটিকুলাসলি প্ল্যান বা সুক্ষ্ম পরিকল্পনা করছে যাতে এ অভ্যুত্থানের স্বপ্ন এবং নতুন নৈতিক বন্দোবস্তের মাধ্যমে নতুন সমাজ গড়ার চেষ্টা ভেস্তে যায়।

সংসদীয় ব্যবস্থায় নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার ঝুঁকি তুলে ধরে তিনি বলেন, দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার একটি বিপজ্জনক দিক আছে—এর মাধ্যমে ইচ্ছামতো সংবিধান পরিবর্তন করা যায়। আমরা ২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময় এবং পরে শেখ হাসিনার আমলে ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ ও অনিয়মের চিত্র দেখেছি।

সংসদীয় ব্যবস্থায় নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার অপব্যবহার নিয়ে তিনি বলেন, ‘দুই-তৃতীয়াংশ মেজরিটির একটা অভিশাপ আছে। এর মানে হলো তারা যা খুশি তাই করতে পারে, সংবিধান বদলে দিতে পারে। আমরা ২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত আমলে এটি দেখেছি, তখন অনেক অনিয়ম হয়েছে। এরপর শেখ হাসিনার আমলে দেখেছি কীভাবে সব ক্ষমতা কুক্ষিগত করা হয়েছিল। শেখ হাসিনা শুধু নিজের ক্ষমতা নয়, ডাইনেস্টি বা রাজবংশ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেছিলেন। তিনি নির্বাচন কমিশনসহ রাষ্ট্রের সব প্রতিষ্ঠানকে দলীয়করণ করেছিলেন।’

দিলারা চৌধুরী আরো বলেন, ‘নির্বাহী ক্ষমতা প্রয়োজন, কিন্তু সেটিকে অবশ্যই চেক অ্যান্ড ব্যালেন্সের মাধ্যমে সীমিত রাখতে হবে। না হলে তা স্বৈরাচারে পরিণত হয়।’

জুলাই সনদ এবং গণভোটের দাবি শুধু রাজনৈতিক নয়, এটি গণতান্ত্রিক পুনর্গঠনের প্রশ্ন। বিএনপিসহ সব রাজনৈতিক শক্তিকে এ বিষয়ে দায়িত্বশীল অবস্থান নিতে হবে বলে মন্তব্য করেন দিলারা চৌধুরী।

তার মতে, ‘জুলাই সনদ এবং গণভোটের এই দাবিগুলো বিএনপিকেও মানতে হবে। না মানলে আমরা আবার শেখ হাসিনার সেই ভয়াবহ শাসনের দিকেই ফিরে যাব। আমাদের ভেতর এবং বাইরে—উভয় দিক থেকে এই সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে হবে। সরকারকে বাধ্য করতে হবে জুলাই সনদকে স্বীকৃতি দিতে এবং বাতিল করা অধ্যাদেশগুলো পুনর্বহাল করতে। যদি আমরা এটি করতে ব্যর্থ হই, তবে দেশ আবার সেই ফ্যাসিস্ট রেজিমের দিকেই ধাবিত হবে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *