
এখন পর্যন্ত ৪৫টি জাহাজ ঘুরিয়ে দিয়েছে মার্কিন বাহিনী: সেন্টকম
মে ২, ২০২৬
মে দিবসের আলোচনায় আইনমন্ত্রী মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী শক্তি কারা সেটি এখন প্রতিষ্ঠিত সত্য
মে ২, ২০২৬বিগত কয়েক বছরে যেসব কলকারখানা বন্ধ হয়ে গেছে, সেগুলো পর্যায়ক্রমে আবার চালু করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
মে দিবস উপলক্ষে গতকাল বিকালে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত শ্রমিক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।
আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবসে সমাবেশের শুরুতেই বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বিভিন্ন সময় শহীদ শ্রমিকদের শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। তিনি বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বাংলাদেশের মানুষ স্বৈরাচারকে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মাধ্যমে বিদায় করে দিয়েছে এ দেশ থেকে। সেই স্বৈরাচারের সময়ে আমরা দেখেছি এ দেশের প্রত্যেকটি খেটে খাওয়া মানুষকে তার অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। আমরা দেখেছি স্বৈরাচারের সময় কীভাবে দেশের অর্থনীতিকে লুটপাটের মাধ্যমে ধ্বংস করে দেয়া হয়েছিল। দেশের শিল্প-কারখানাগুলোকে ধীরে ধীরে বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল এবং এক পর্যায়ে গিয়ে ধ্বংস করে দেয়া হয়েছিল। কিন্তু এখন হচ্ছে শ্রমিক, শিক্ষক, ছাত্র, নারী, পুরুষ সবাই মিলে দেশ গড়ার পালা।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা ১২ তারিখে নির্বাচনের আগে বলেছিলাম এ দেশকে পুনর্গঠন করা ছাড়া, রাষ্ট্র মেরামত করা ছাড়া কোনো উপায় নেই। আমরা প্রায় আড়াই-তিন বছর আগে কীভাবে রাষ্ট্র মেরামত করা যায়, কীভাবে সংস্কার করা যায়, তার প্রত্যেকটি ৩১ দফায় জনগণের সামনে উপস্থাপন করেছিলাম।’
তিনি বলেন, ‘নির্বাচনের আগে বলেছিলাম সরকার গঠনে সক্ষম হলে আমরা শ্রেণী-পেশার যাদেরকে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছি সে অনুযায়ী কাজ শুরু করব। আপনারা দেখেছেন, আমরা সরকার গঠন করার সঙ্গে সঙ্গে আমাদের প্রতিশ্রুতি নিয়ে কাজ শুরু করেছি। নারীদের জন্য ফ্যামিলি কার্ড দিয়েছি, যা ধীরে ধীরে সব পরিবারের কাছে পৌঁছাবে।’
তারেক রহমান বলেন, ‘আমরা কৃষক ভাইদের পাশে দাঁড়িয়েছি, ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ মওকুফ করার কথা বলেছিলাম, সেই কৃষি ঋণও আমরা মওকুফ করেছি। তাদের কৃষক কার্ড দেয়ার কাজও শুরু করেছি।’
তিনি বলেন, ‘শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান যেমন দেশের শিশুদের মধ্য থেকে প্রতিভাবানদের নতুন কুঁড়ি প্রতিযোগিতার মাধ্যমে বের করে নিয়ে এসেছিলেন, আমরাও ঠিক সেই কাজটি শুরু করেছি। নতুন কুঁড়ি প্রতিযোগিতায় আগামী প্রজন্মের ভালো খেলোয়াড়দের আমরা বের করে নিয়ে আসব।’
দেশের মানুষ ১২ ফেব্রুয়ারি থেকে হারিয়ে যাওয়া গণতান্ত্রিক যাত্রা শুরু করেছে মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা অতীতে দেখেছি যখনই বাংলাদেশ গণতন্ত্রের পক্ষে যাত্রা করেছে, ধীরে ধীরে এ দেশে মিল-কলকারখানা গড়ে উঠেছে, অর্থনীতি ধীরে ধীরে শক্তিশালী হয়েছে। বাংলাদেশ যখনই গণতন্ত্রের পক্ষে যাত্রা শুরু করেছে, আমরা দেখেছি ধীরে ধীরে বাংলাদেশ দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিশ্বদরবারে এমার্জিং টাইগারের খেতাবে ভূষিত হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘কিন্তু বাংলাদেশ যখনই গণতন্ত্রের পথে যাত্রা শুরু করে, কিছু মহলের সেটি পছন্দ নয়। সেই মহল চায় না দেশের মানুষ তার ভাগ্য পরিবর্তনে পরিশ্রম শুরু করুক। ১২ তারিখের পর বাংলাদেশ তো আবার গণতন্ত্রের পক্ষের পথে চলা শুরু করল। এখন তারা চেষ্টা করছে বিশ্বদরবারে প্রথমে বাংলাদেশকে বিতর্কিত একটি অবস্থানে নিয়ে যাওয়ার জন্য। কিন্তু বিশ্ব দেখছে বর্তমান সরকারের পেছনে বাংলাদেশের জনগণের সমর্থন রয়েছে। এ সরকার জনগণের দ্বারা গঠিত সরকার।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এখন দেশ গড়তে চাই। দেশের মানুষ পরিশ্রম করে যেভাবে সামনে এগিয়ে যাচ্ছে, তাদের পাশে থেকে আমরা দেশকে গড়ে তুলতে চাই। এজন্য আমাদের নির্বাচনের সময় স্লোগান ছিল “করব কাজ গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ।” এটি আমাদের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ স্লোগান।’
সমাবেশে আরো বক্তব্য দেন শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেইন, স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান, স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খান, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর শিল্পবিষয়ক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী, শ্রমিক দলের প্রধান সমন্বয়ক ও সংসদ সদস্য শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, ঢাকা-২ আসনের সংসদ সদস্য আমান উল্লাহ আমান, ঢাকা দক্ষিণ সিটির প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুস সালাম, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। এর আগে বিরূপ আবহাওয়া উপেক্ষা করে সকাল থেকেই মানুষ সমাবেশস্থলে আসা শুরু করে। লাল টুপি, টি-শার্ট পরে ও হাতে ব্যানার নিয়ে নেতাকর্মীরা খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে নয়াপল্টনে আসতে শুরু করেন। তাদের স্লোগান ও করতালিতে মুখরিত হয় সমাবেশস্থল।


