
চট্টগ্রাম পৌঁছেছে ২৬ হাজার টন অকটেনবাহী জাহাজ
এপ্রিল ১০, ২০২৬
গ্রেফতার
এপ্রিল ১০, ২০২৬বিচার বিভাগের স্বাধীনতা খর্বের অভিযোগ তুলে বিরোধী দলের সদস্যরা আপত্তি দিলেও সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় ও সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগসংক্রান্ত অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা অধ্যাদেশ বাতিল করেছে জাতীয় সংসদ।
আলাদা দুটি বিল পাসের মাধ্যমে এসব অধ্যাদেশ বাতিল করা হয়। এছাড়া গতকাল স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদ মোট ৩১টি বিল পাস করেছে। এসব বিলের মাধ্যমে অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা সংশ্লিষ্ট অধ্যাদেশগুলো অনুমোদন, বাতিল ও সংশোধন করা হয়েছে।
পাস হওয়া বিলগুলোর মধ্যে ২৭টি বিলে অধ্যাদেশের বিধান অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে, বাকি চারটি বিল আগের অধ্যাদেশ বাতিল বা সংশোধন করে পাস করা হয়েছে। অধ্যাদেশ বাতিলের জন্য পাস হওয়া চারটি বিলের মধ্যে রয়েছে ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (বাতিল ও পুনঃপ্রচলন) বিল ২০২৬’; যার মাধ্যমে অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা অধ্যাদেশ বাতিল করে ২০০৯ সালের জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন পুনর্বহাল করা হয়েছে। এছাড়া বিদ্যমান আইন বাতিল ও সংশোধনের লক্ষ্যে ‘মানবদেহে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ প্রতিস্থাপন বিল, ২০২৬’ পাস করা হয়েছে। অন্য দুটি বিল হলো ‘সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় (রহিতকরণ) বিল ২০২৬’ ও ‘সুপ্রিম কোর্ট বিচারক নিয়োগ (রহিতকরণ) বিল, ২০২৬’; যার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট অধ্যাদেশ বাতিল করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রীরা সংসদে বিলগুলো উত্থাপন ও পাসের প্রস্তাব করেন এবং স্পিকার সেগুলো ভোটে তোলেন। পরে সংসদ সদস্যরা কণ্ঠভোটে বিলগুলো পাস করেন। তবে কয়েকটি বিল পাসে বিরোধী দল জামায়াত ও এনসিপির সদস্যরা একমত ছিলেন না। এর মধ্যে সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় রহিতকরণ বিলটি অবিলম্বে বিবেচনার প্রস্তাব অন্যতম।
প্রস্তাবটি সংসদে তোলেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। এ প্রস্তাব তোলার পরই আপত্তি জানান বিরোধী দলের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান। পাবনা-১ আসনের জামায়াতে ইসলামীর এ সদস্য বলেন, ‘বিলটি বিচার বিভাগের স্বাধীনতার ওপর নগ্ন হস্তক্ষেপ এবং স্বাধীনতার চরম লঙ্ঘন। তার ভাষায়, ফ্যাসিবাদী কায়দায় নিম্ন আদালতকে ব্যবহার করে বিরোধী মত দমনের আয়োজন চলছে।’
আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ড দণ্ডিত জামায়াত নেতা মতিউর রহমান নিজামীর ছেলে নাজিবুর রহমান বলেন, ‘বিচার বিভাগ এখন স্বাধীনভাবে কাজ করছে। বিচার বিভাগের স্বাধীনতার পক্ষে অবস্থান নেয়ায় কিছু বিচারককে শোকজও করা হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘আগে মন্ত্রণালয়ের কথা না শুনলে বিচারকদের দূরবর্তী জেলায় বদলি করা হতো, এখন সেই পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনার চেষ্টা হচ্ছে।’
তার ভাষায়, ১৯৭২ সালের সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদে আনা পরিবর্তন অসাংবিধানিক ঘোষিত হয়েছে এবং মূল ১১৬ অনুচ্ছেদ ‘স্বয়ংক্রিয়ভাবে পুনরুজ্জীবিত’ হয়েছে। সে অনুযায়ী বিচারিক কার্যসম্পাদনকারী ম্যাজিস্ট্রেটদের পদায়ন, পদোন্নতি, ছুটি ও শৃঙ্খলা বিধানের ক্ষমতা সুপ্রিম কোর্টের ওপর ন্যস্ত হয়েছে। জবাবে আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান বলেন, ‘সুপ্রিম কোর্ট কোনো আইন অসাংবিধানিক কিনা তা বলতে পারেন; কিন্তু সংসদকে কোনো আইন করতে “ডিক্টেট” করতে পারেন না।’ মাসদার হোসেন মামলার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘আদালত আইন নিয়ে মত দিতে পারেন, কিন্তু আইন প্রণয়নের ক্ষমতা সংসদের।’ আইনমন্ত্রী বলেন, ‘সরকার বিচার বিভাগের স্বাধীনতা চায় এবং তা রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’
পাস হওয়া ২৭টি বিলের মধ্যে রয়েছে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (সংশোধন) বিল, ২০২৬; বঙ্গবন্ধু ক্রীড়াসেবী কল্যাণ ফাউন্ডেশন (সংশোধন) বিল ২০২৬; শেখ হাসিনা জাতীয় যুব উন্নয়ন ইনস্টিটিউট (সংশোধন) বিল ২০২৬; বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (সংশোধন) বিল ২০২৬; পাবলিক প্রকিউরমেন্ট (সংশোধন) বিল ২০২৬; প্রবাসী কর্মসংস্থান ও অভিবাসন (সংশোধন) বিল ২০২৬; বাংলাদেশ শ্রম (সংশোধন) বিল ২০২৬; স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) (সংশোধন) বিল ২০২৬ ও লিগ্যাল এইড সার্ভিসেস (সংশোধন) বিল ২০২৬।
এছাড়া রয়েছে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (সংশোধন) বিল ২০২৬; ভূমি ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ ও কৃষিজমি সুরক্ষা বিল ২০২৬; বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ (সংশোধন) বিল ২০২৬; বাংলাদেশ গ্যাস (সংশোধন) বিল ২০২৬; বৈদেশিক অনুদান (স্বেচ্ছাসেবী কার্যক্রম) নিয়ন্ত্রণ (সংশোধন) বিল ২০২৬; মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন বিল ২০২৬; বন ও বৃক্ষ সংরক্ষণ বিল ২০২৬; বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নভোথিয়েটার (সংশোধন) বিল ২০২৬; বঙ্গবন্ধু বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ফেলোশিপ ট্রাস্ট (সংশোধন) বিল ২০২৬; জেলা পরিষদ (সংশোধন) বিল ২০২৬ ও স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) (সংশোধন) বিল ২০২৬।
অবশিষ্ট বিলগুলোর মধ্যে রয়েছে স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) (সংশোধন) বিল ২০২৬; উপজেলা পরিষদ (সংশোধন) বিল ২০২৬; বাংলাদেশ বিল্ডিং রেগুলেটরি অথরিটি বিল ২০২৬; রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) বিল ২০২৬; ব্যক্তিগত উপাত্ত সুরক্ষা বিল ২০২৬; বাংলাদেশ হাউজ বিল্ডিং ফাইন্যান্স করপোরেশন (সংশোধন) বিল ২০২৬ ও নেগোশিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্টস (সংশোধন) বিল ২০২৬।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জারি করা মোট ১৩৩ অধ্যাদেশের মধ্যে সংসদীয় বিশেষ কমিটি ৯৮টি বিলকে মূল আকারে এবং ১৫টি বিলকে সংশোধিত আকারে অনুমোদনের সুপারিশ করে। অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ১৩৩ অধ্যাদেশ পর্যালোচনার জন্য গঠিত বিশেষ কমিটি ২ এপ্রিল সংসদে তাদের প্রতিবেদন উপস্থাপন করে।


