জ্বালানি সংকটের প্রভাব তৈরি পোশাক খাতে উৎপাদন সক্ষমতা হ্রাস পেয়েছে ২০-৩০%
এপ্রিল ১০, ২০২৬
ইসলামাবাদে আগামীকাল বসছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান
এপ্রিল ১০, ২০২৬
জ্বালানি সংকটের প্রভাব তৈরি পোশাক খাতে উৎপাদন সক্ষমতা হ্রাস পেয়েছে ২০-৩০%
এপ্রিল ১০, ২০২৬
ইসলামাবাদে আগামীকাল বসছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান
এপ্রিল ১০, ২০২৬

ছয় মাসে ৪৪৯৯ শরণার্থী যুক্তরাষ্ট্রে, তিনজন বাদে সবাই এক দেশের

গত বছর যুক্তরাষ্ট্রে দক্ষিণ আফ্রিকার রাষ্ট্রদূত ইব্রাহিম রাসুলকে দেশ থেকে বহিষ্কার করা হয়। কারণ তিনি ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ‘শ্বেতাঙ্গ আধিপত্যকে উসকে দেয়া’ এবং ‘হোয়াইট ভিক্টিমহুডকে রাজনৈতিক বার্তা হিসেবে তুলে ধরার’ অভিযোগ এনেছিলেন

গত বছরের অক্টোবর থেকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় চার হাজার শরণার্থী প্রবেশ করেছে। তাদের মধ্যে আফগানিস্তান থেকে যাওয়া তিনজন বাদ দিলে সবাই দক্ষিণ আফ্রিকার। মার্কিন সরকারের দেয়া তথ্যানুযায়ী দেখা যাচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রে অনুমোদিত অভিবাসীর সংখ্যা এবং তাদের জাতীয়তার ক্ষেত্রে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শরণার্থী নীতি পুনর্গঠন। খবর বিবিসি।

রিফিউজি প্রসেসিং সেন্টারের তথ্যানুযায়ী, গত ছয় মাসে ৪ হাজার ৪৯৯ শরণার্থী যুক্তরাষ্ট্রে পুনর্বাসিত হয়েছেন। এদের মধ্যে আফগানিস্তান থেকে এসেছেন তিনজন। বাকিরা সবাই দক্ষিণ আফ্রিকার শেতাঙ্গ নাগরিক।

২০২৩ সালের অক্টোবরে শুরু হওয়া অর্থবছরে বাইডেন প্রশাসন ৮৫টি দেশ থেকে ১ লাখ ২৫ হাজার শরণার্থী গ্রহণ করেছিল।

গত বছর ট্রাম্প সব ধরনের শরণার্থী প্রবেশ সাময়িকভাবে স্থগিত করেন, যার মধ্যে যুদ্ধক্ষেত্র থেকে আসা আবেদনকারীরাও অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। তবে তিনি দক্ষিণ আফ্রিকার শ্বেতাঙ্গ সংখ্যালঘু গোষ্ঠী আফ্রিকানারদের পুনর্বাসনের সুযোগ দেন। ট্রাম্প বলেছিলেন, আফ্রিকানারা নিজ দেশে নির্যাতনের শিকার। দক্ষিণ আফ্রিকা এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছিল।

অভিবাসননীতিতে এ পরিবর্তন প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেছিলেন, এটি জাতীয় নিরাপত্তা ও জননিরাপত্তা আরো শক্তিশালী করতে সাহায্য করবে।

ঘোষণায় বলা হয়, দক্ষিণ আফ্রিকার আফ্রিকানা এবং ‘নিজ নিজ দেশে অবৈধ বা অন্যায্য বৈষম্যের শিকার অন্যান্য মানুষদের’ অগ্রাধিকার দেয়া হবে।

ট্রাম্প হোয়াইট হাউজে ফিরে আসার পর থেকে ওয়াশিংটন ও প্রিটোরিয়ার মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনা বাড়তে শুরু করেছে।

গত বছর যুক্তরাষ্ট্রে দক্ষিণ আফ্রিকার রাষ্ট্রদূত ইব্রাহিম রাসুলকে দেশ থেকে বহিষ্কার করা হয়। কারণ তিনি ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ‘শ্বেতাঙ্গ আধিপত্যকে উসকে দেয়া’ এবং ‘হোয়াইট ভিক্টিমহুডকে রাজনৈতিক বার্তা হিসেবে তুলে ধরার’ অভিযোগ এনেছিলেন।

এরপর মে মাসে ওভাল অফিসে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসার সঙ্গে বৈঠকে ট্রাম্প দাবি করেন, দক্ষিণ আফ্রিকায় শ্বেতাঙ্গ কৃষকরা নিপীড়নের শিকার হচ্ছেন এবং সেখানে ‘গণহত্যা’ চলছে।

রামাফোসা এসব দাবি প্রত্যাখ্যান করেন। তাকে সমর্থন দেন দক্ষিণ আফ্রিকার জোট সরকারে অংশীদার ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্সের শ্বেতাঙ্গ নেতা জন স্টিনহুইসেন। তিনি বলেন, ‘দক্ষিণ আফ্রিকার অধিকাংশ বাণিজ্যিক ও ক্ষুদ্র কৃষকই দেশে থাকতে চান এবং দেশকে টিকিয়ে রাখতে কাজ করতে চান।’

গত অক্টোবরে আফ্রিকানাদের কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের শরণার্থী বিষয়ক সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে দক্ষিণ আফ্রিকা সরকার। দেশটির কর্তৃপক্ষ জানায়, ‘শ্বেতাঙ্গ গণহত্যা’ সম্পর্কিত দাবি ব্যাপকভাবে খণ্ডিত এবং এর কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ নেই।

প্রথম দফায় ৬৮ জন দক্ষিণ আফ্রিকান শরণার্থী গত বছরের মে মাসে যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছায়। চলতি বছর তাদের সংখ্যা বাড়তে থাকে। গত ফেব্রুয়ারি ও মার্চে মোট ২ হাজার ৮৪৮ জন প্রবেশ করে। তারা যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে পুনর্বাসিত হয়েছেন। সবচেয়ে বেশি বসবাস করেছেন টেক্সাসে, ৫৪৩ জন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *