
দেশব্যাপী ধাপে ধাপে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ করা হবে: প্রধানমন্ত্রী
এপ্রিল ৭, ২০২৬
শিল্পমন্ত্রীর সঙ্গে থাইল্যান্ডের রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ
এপ্রিল ৭, ২০২৬মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেয়া নতুন আলটিমেটাম শেষ হওয়ার ঠিক আগের দিন যুদ্ধ অবসানের একটি খসড়া পরিকল্পনা পর্যালোচনা করছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান।
এ শান্তি পরিকল্পনায় দুই স্তরের একটি পদ্ধতির কথা বলা হয়েছে। প্রথম ধাপে একটি তাৎক্ষণিক যুদ্ধবিরতি আর পরবর্তী সময়ে একটি পূর্ণাঙ্গ ও দীর্ঘমেয়াদি সমঝোতা চুক্তি। তবে ইরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, মার্কিন চাপের মুখে কোনো সাময়িক যুদ্ধবিরতির অংশ হিসেবে তারা হরমুজ প্রণালি খুলে দেবে না। হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে যুদ্ধ পুরোপুরি শেষ করতে হবে বলে জানিয়েছে তেহরান।
গত রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লেখেন, মঙ্গলবার রাত ৮টার ইস্টার্ন টাইমের (বাংলাদেশ সময় বুধবার সকাল ৬টা) মধ্যে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি সরবরাহ সচল করার চুক্তি না হলে তেহরানের ওপর ‘জাহান্নাম’ নামিয়ে আনা হবে। লক্ষ্যবস্তু হবে ইরানের বিদ্যুৎ কেন্দ্র, সেতুসহ বেসামরিক অবকাঠামো। গতকালও হোয়াইট হাউজে একই বক্তব্য পুনরাবৃত্তি করেন তিনি। সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, ‘হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করা ও যুদ্ধ বন্ধের বিষয়ে ইরানকে যে সময় দেয়া হয়েছে, সেটিই শেষ সময়সীমা। এর আর কোনো পরিবর্তন হবে না।’ ইরান যে প্রস্তাব দিয়েছে তা যথেষ্ট নয় বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
এদিকে, কোনো সাময়িক যুদ্ধবিরতির আওতায় ইরান হরমুজ প্রণালি খুলে দেবে না। তেহরান মনে করে, পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতিতে পৌঁছার জন্য ওয়াশিংটনের প্রস্তুতিতে ঘাটতি আছে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন, তারা মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে তাদের দাবিগুলো জানিয়ে দিয়েছেন। তবে তিনি স্পষ্ট করেন, যুদ্ধাপরাধের হুমকি আর আলটিমেটাম দিয়ে আলোচনা সম্ভব নয়। একই বক্তব্য আইআরজিসির। সংগঠনটি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, হরমুজ প্রণালি আর আগের অবস্থায় ফিরবে না। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের জন্য।
তবে প্রস্তাবিত পরিকল্পনার রূপরেখা নিয়ে এখনই কিছু বলতে রাজি হয়নি পাকিস্তান। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ৪৫ দিনের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব অথবা ১৫ দফা নিয়ে কিছু প্রতিবেদন নজরে এসেছে। আমরা সেগুলো নিয়ে কোনো মন্তব্য করছি না। তবে শান্তির প্রক্রিয়া চলমান।
অন্যদিকে হোয়াইট হাউজ জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবটি নিয়ে আলোচনা চললেও ট্রাম্প এখনো এতে স্বাক্ষর করেননি। ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন সামরিক অভিযান ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ অব্যাহত রয়েছে বলেও জানানো হয়েছে। গতকাল অঞ্চলজুড়ে নতুন করে বিমান হামলার খবর পাওয়া গেছে। ইরানজুড়ে ‘বিশাল আকারের’ বিমান হামলা চালানোর ঘোষণা দিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। এ অভিযানে রাজধানী তেহরানসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
হামলায় ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) কুদস ফোর্সের বিশেষ অপারেশন ইউনিটের কমান্ডার আসগর বাঘেরিকে হত্যার দাবি করছে ইসরায়েল। সামরিক কাজে ব্যবহারের অভিযোগে দেশটির তিনটি প্রধান বিমানবন্দরকে লক্ষ্য করে হামলা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে মেহরাবাদ বিমানবন্দর, বাহরাম বিমানবন্দর ও আজমায়েশ বিমানবন্দর। এছাড়া ইরানের বৃহত্তম পেট্রোকেমিক্যাল স্থাপনায় শক্তিশালী আঘাত করেছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। এটি ইরানের প্রায় ৫০ শতাংশ পেট্রোকেমিক্যাল উৎপাদন করে।
পাঁচ সপ্তাহ ধরে চলা এ যুদ্ধে কয়েক হাজার মানুষ নিহত হয়েছে এবং জ্বালানি তেলের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় বিশ্ব অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার জবাবে ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিয়েছে। সেই সঙ্গে ইসরায়েলসহ উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও জ্বালানি অবকাঠামোতে পাল্টা হামলা চালাচ্ছে ইরান।


