৫৫ লাখ পরিবার পাচ্ছে ১৫ টাকায় চাল, ওএমএসেও বড় বরাদ্দ: খাদ্যমন্ত্রী
এপ্রিল ৫, ২০২৬
বিএনপি সংবিধান সংস্কার পরিষদে সই না করার ব্যাখ্যাটা তাদেরকেই দিতে হবে: রুমিন ফারহানা
এপ্রিল ৫, ২০২৬
৫৫ লাখ পরিবার পাচ্ছে ১৫ টাকায় চাল, ওএমএসেও বড় বরাদ্দ: খাদ্যমন্ত্রী
এপ্রিল ৫, ২০২৬
বিএনপি সংবিধান সংস্কার পরিষদে সই না করার ব্যাখ্যাটা তাদেরকেই দিতে হবে: রুমিন ফারহানা
এপ্রিল ৫, ২০২৬

যৌক্তিক মূল্যে নিত্যপণ্য সরবরাহ নিশ্চিতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সক্রিয়: মন্ত্রী

যৌক্তিক মূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ নিশ্চিতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সক্রিয় রয়েছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদীর। আজ রোববার সংসদের অধিবেশনে সংসদ সদস্য সরওয়ার জামাল নিজামের প্রশ্নের লিখিত জবাবে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, দেশে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য-সামগ্রীর বাজার নিয়ন্ত্রণ করার লক্ষ্যে নানা পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। যৌক্তিক মূল্যে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ নিশ্চিতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সক্রিয় রয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কার্যক্রমগুলো হলো,

১। নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার নিয়ন্ত্রণ ও সার্বিক পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে দ্য কন্ট্রোল অফ এসেন্সিয়াল কমোডিটিস অ্যাক্ট, যুগোপযোগী করার জন্য আইনটির প্রয়োজনীয় সংশোধনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

২। (ক) উক্ত আইনের অধীন বর্তমানে ভোজ্য তেলের মূল্য মন্ত্রণালয় হতে নির্ধারণ করে দেয়া হয় এবং তার কাঁচামালের আন্তর্জাতিক বাজারের সাথে সমন্বয় রেখে মূল্যেও সমন্বয় করা হয়। চলতি পঞ্জিকা বছরে তিনবার মূল্যের সমন্বয় করা হয়েছে।

(খ) বিগত পঞ্জিকা বছরব্যাপী অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য মোটামুটি স্থিতিশীল ছিল। (গ) বিগত বছরে পেঁয়াজের বাজার মূল্য বছরব্যাপী উৎপাদন মূল্যের কাছাকাছি ছিল। গত বছরের মাঝামাঝি এবং ডিসেম্বর-জানুয়ারি মাসে পেঁয়াজের মূল্যে ঊর্ধ্বগতি দেখা গিয়েছিল। কৃষি ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের যৌথ সিদ্ধান্তে দুবার আমদানি উন্মুক্ত করার পর মূল্য স্বাভাবিক হয়।

৩। দেশে নিত্যপণ্যের বাজার ও দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে ভারত ও ইন্দোনেশিয়াসহ অপরাপর দেশের প্রচলিত মডেল পর্যালোচনা করে দেশের জন্য একটি আদর্শ মডেল নিরূপণ করার লক্ষ্যে গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করার নিমিত্ত সম্প্রতি বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ডেভলপমেন্ট স্টাডিজকে (বিআইডিএস) দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। ৷

৪। এ বছরে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগের পর জাতীয় রাজস্ব বোর্ড কর্তৃক চিনি, ভোজ্যতেল ও খেজুর আমদানিতে শুল্ক হাস করা হয়েছে। ফলে উক্ত পণ্যসমূহের মূল্য স্বাভাবিক ছিল। এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।

৫। (ক) জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মাধ্যমে ঢাকায় প্রতিদিন ৪টি করে এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ২টি করে বাজার অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এছাড়া সব জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে বাজার অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে এবং অনিয়ম পরিলক্ষিত হলে সতর্ক করাসহ জরিমানা করা হচ্ছে। তবে রমজান মাস বা অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সময়ে এ অভিযানের সংখ্যা বৃদ্ধি করা হয়ে থাকে। এসব অভিযানের মাধ্যমে ব্যবসায়ীদের আইন ও বিধি-বিধান অনুসরণপূর্বক ব্যবসা পরিচালনা করার জন্য সতর্ক করা হচ্ছে এবং আইন লঙ্ঘনকারী প্রতিষ্ঠানসমূহের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

(খ) বিশেষ বিশেষ উৎসবের পূর্বে দেশের বাজারে ভোগ্য পণ্যের মূল্যের ওঠা-নামা দেখা যায়। রমজানের পূর্বে ও রমজানে বেশ কয়েকবার ভোগ্য পণ্যের উৎপাদক, আমদানিকারক ও পাইকারি ও খুচরা বিক্রেতাদের সাথে সভা করে সরবরাহ মূল্য মনিটর করা হয়েছে।

(গ) মন্ত্রী ও সচিব কর্তৃক একাধিক আকস্মিক বাজার পরিদর্শন করা হয়েছে। দেশের প্রধান পাইকারি বাজার চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জের বাজার পরিদর্শন ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে মতবিনিময় করে বাজার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে।

(ঘ) এলপিজি আমদানি ও বিপণনকারীদের সঙ্গে সভা করে সরবরাহ ও মূল্য স্বাভাবিক রাখতে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

(৫) জ্বালানিসহ ভোগ্য পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার জন্য উক্ত পণ্যের আমদানি ও উৎপাদনকারীদের ব্যাংকিং সমস্যা সমাধান করে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

৬। স্থানীয় পর্যায়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বৃহৎ আড়ৎ, গোডাউন, কোল্ড স্টোরেজ ও সাপ্লাই চেইনসহ অন্যান্য স্থানগুলো সরেজমিনে পরিদর্শনের মাধ্যমে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যসামগ্রীর বাজার পরিস্থিতি ও সরবরাহ চেইন তদারকি ও পর্যালোচনার জন্য জেলা পর্যায়ে গঠিত বিশেষ টাস্কফোর্স কর্তৃক নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। দ্রব্যমূল্য যৌক্তিক পর্যায়ে রাখতে এবং উৎপাদক, পাইকারি, ও ভোক্তা পর্যায়ের মধ্যে যাতে দামের পার্থক্য ন্যূনতম থাকে সে লক্ষ্যে এ বিশেষ টাস্কফোর্স নিয়মিত বাজার মনিটরিং এবং অভিযান পরিচালনা করছে।

৭। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় কর্তৃক দেশের সংশ্লিষ্ট শীর্ষ ব্যবসায়ী এবং চেম্বারসমূহের প্রতিনিধিদলসহ সর্বস্তরের ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দের সাথে নিয়মিত বৈঠক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য পর্যালোচনা ও নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে।

৮। টিসিবি কার্ডের মাধ্যমে নিম্ন আয়ের প্রায় এক কোটি জনসাধারণের মধ্যে ভর্তুকি মূল্যে ট্রেডিং কর্পোরেশন অফ বাংলাদেশ (টিসিবি) চাল, সয়াবিন তেল, চিনি ও মশুর ডাল বিতরণ করছে। এর মাধ্যমে এসব পণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখার ব্যবস্থা এবং দরিদ্র জনগণের নিকট সহজে ও ভর্তুকি মূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য প্রাপ্তি নিশ্চিত করা হচ্ছে।

৯। সিলেটে পরীক্ষামূলকভাবে কৃষকদের কাছ থেকে পণ্য সংগ্রহ করে পাইলটিং ভিত্তিতে কৃষি মার্কেট চালু করা হয়েছে। উক্ত পাইলটিং সফল হলে সারা বাংলাদেশে চালুর উদ্যোগ নেয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *