দ্বৈত কর পরিহার ও তালিকাভুক্ত কোম্পানির কর কমানোর দাবি
এপ্রিল ২, ২০২৬
হাসিনার পদত্যাগপত্র পাওয়ার কথা সামনাসামনি স্বীকার করেছিলেন রাষ্ট্রপতি: জামায়াত আমির
এপ্রিল ২, ২০২৬
দ্বৈত কর পরিহার ও তালিকাভুক্ত কোম্পানির কর কমানোর দাবি
এপ্রিল ২, ২০২৬
হাসিনার পদত্যাগপত্র পাওয়ার কথা সামনাসামনি স্বীকার করেছিলেন রাষ্ট্রপতি: জামায়াত আমির
এপ্রিল ২, ২০২৬

এআই নিয়ে বাড়ছে মার্কিন তরুণদের উদ্বেগ, ট্রাম্পের নীতি ঘিরে বিতর্ক

যুক্তরাষ্ট্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের ব্যবহার বাড়লেও প্রযুক্তিটি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ও হতাশা বাড়ছে।

বিশেষ করে প্রযুক্তি সচেতন হিসেবে পরিচিত জেনজি প্রজন্মের মধ্যেও এআই নিয়ে নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি হচ্ছে। কুইনিপিয়াক ইউনিভার্সিটির সাম্প্রতিক এক জরিপে এমন তথ্য উঠে এসেছে। খবর দ্য ন্যাশনাল নিউজ

জরিপ অনুযায়ী, ১৯৯৭-২০০৮ সালের মধ্যে জন্ম নেয়া জেনজির একটি বড় অংশ তাদের কর্মসংস্থান নিয়ে শঙ্কিত। এ প্রজন্মের ৭৮ শতাংশ মানুষ এআই নিয়ে গভীর বা মাঝারি ধরনের উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। সামগ্রিকভাবে জরিপে অংশগ্রহণকারীদের ৮০ শতাংশই এআই নিয়ে চিন্তিত, যেখানে মাত্র ১৮ শতাংশের মধ্যে কোনো উদ্বেগ দেখা যায়নি।

কুইনিপিয়াক ইউনিভার্সিটির কম্পিউটিং অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং স্কুলের সহযোগী চেয়ারম্যান চেতন জয়সওয়াল জানান, প্রায় ৫১ শতাংশ মানুষ গবেষণা, লেখালেখি বা তথ্য বিশ্লেষণের কাজে এআই ব্যবহার করছেন। তবে চ্যাটবটের তথ্যের ওপর পূর্ণ আস্থা রয়েছে মাত্র ২১ শতাংশের। তার মতে, মার্কিন নাগরিকরা এআই গ্রহণ করলেও তা গভীর বিশ্বাসের বদলে চরম দ্বিধা নিয়ে করছেন। এর আগে কেপিএমজির এক গবেষণায় দেখা যায়, এআইয়ে আস্থার দৌড়ে যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো দেশগুলো অনেক এগিয়ে আছে।

জনগণের ক্রমবর্ধমান উদ্বেগের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এআই-সংক্রান্ত একটি জাতীয় নীতিমালা প্রকাশ করেছেন। চীনের সঙ্গে প্রযুক্তি যুদ্ধে এগিয়ে থাকতে ট্রাম্প প্রশাসন এআই কোম্পানিগুলোকে নিয়ন্ত্রণের বেড়াজাল থেকে মুক্ত রেখে কাজ করার স্বাধীনতা দিতে চায়। তবে অনেকে বলছেন, এ নীতিমালার একটি বিতর্কিত দিক হলো অঙ্গরাজ্যগুলোর এআই নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা খর্ব করা। ট্রাম্পের ফ্রেমওয়ার্কে বলা হয়েছে, এআই একটি আন্তঃরাষ্ট্রীয় বিষয় এবং এর সঙ্গে জাতীয় নিরাপত্তা জড়িত। তাই অঙ্গরাজ্যগুলোর নিজস্ব আইন থাকা উচিত নয়। বরং কংগ্রেসকে এআইয়ের জন্য একটি ন্যূনতম জাতীয় মানদণ্ড নির্ধারণ করতে বলা হয়েছে।

ফিউচার অব লাইফ ইনস্টিটিউটের পলিসি প্রধান মাইকেল ক্লেইনম্যান এ পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, এআই শিশু, কর্মসংস্থান ও সমাজের জন্য যে হুমকি তৈরি করছে, তা মোকাবেলায় অঙ্গরাজ্যগুলোই অগ্রণী ভূমিকা রাখছে। ট্রাম্পের নীতিমালায় শিশুদের সুরক্ষার কথা বলা হলেও ক্লেইনম্যান একে ‘ভণ্ডামি’ বলে অভিহিত করেছেন। কারণ সরকার শিশুদের সুরক্ষায় তৈরি অঙ্গরাজ্যের আইনগুলো বাতিল করতে চাইছে।

অন্যদিকে অ্যাবানডেন্স ইনস্টিটিউটের এআই পলিসি প্রধান নিল চিলসন এ ফ্রেমওয়ার্ককে স্বাগত জানিয়েছেন। তার মতে, উদ্ভাবকদের শাস্তি না দিয়েই এআইকে নিরাপদ করার একটি আশাবাদী পথ দেখিয়েছেন প্রেসিডেন্ট। তবে ইরান যুদ্ধের কারণে রাজনৈতিক পুঁজি কমে যাওয়ায় ট্রাম্পের এ নীতিমালা শেষ পর্যন্ত আইনে পরিণত হবে কিনা, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *