ক্রিমিয়ায় রুশ সামরিক উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত, নিহত ২৯
এপ্রিল ১, ২০২৬
ইরান যুদ্ধ থেকে পিছু হটার ইঙ্গিত ট্রাম্পের
এপ্রিল ২, ২০২৬
ক্রিমিয়ায় রুশ সামরিক উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত, নিহত ২৯
এপ্রিল ১, ২০২৬
ইরান যুদ্ধ থেকে পিছু হটার ইঙ্গিত ট্রাম্পের
এপ্রিল ২, ২০২৬

হামের প্রাদুর্ভাবে সন্তানদের স্কুলে পাঠাতে ভয় অভিভাবকদের

গত কয়েকদিন ধরে দেশজুড়ে হামের প্রকোপ বেড়েছে। হাম আক্রান্ত হয়ে চলতি বছর এখন পর্যন্ত অন্তত ৩৮ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। যাদের মধ্যে শুধু মার্চেই মারা গেছে ৩২ শিশু।

এ পরিস্থিতিতে দেশের অনেক অভিভাবকই শিশুদের নিয়ে শঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। হাম একটি সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ হওয়ায় অনেক অভিভাবক সন্তানদের বিদ্যালয়ে পাঠাতেও ভয় পাচ্ছেন। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্কুলপড়ুয়াদের নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশুদের বয়স সাধারণত পাঁচ বা তার বেশি। তাদের এরই মধ্যে হামের দুটি টিকা পাওয়ার কথা। ফলে সংক্রমণের ঝুঁকি নেই।

রাজধানীর বারিধারা এলাকার একটি বেসরকারি বিদ্যালয়ে প্লে শ্রেণীতে পড়ছে মারিয়া আক্তারের চার বছর বয়সী সন্তান। তিনি বলেন, ‘আমার সন্তানের দুটো টিকাই দেয়া কিন্তু এর পরও ভয় কাজ করছে। বিশেষত আমার দুই বছর বয়সী মেয়ে রয়েছে। তার জন্য বেশি ভয় পাচ্ছি। কোনো কারণে বড় সন্তান বিদ্যালয়ে গিয়ে তার মাধ্যমে ছোট সন্তানও সংক্রমিত হয় কিনা।’

স্বাস্থ্য বিভাগ ও হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, রাজধানীর মহাখালীর সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে এখন পর্যন্ত ২১ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর বাইরে বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটে ছয়জন, ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঁচজন, চাঁপাইনবাবগঞ্জে চারজন এবং রাজশাহী ও পাবনায় একজন করে শিশু মারা গেছে।

ঢাকার বিভাগীয় পরিচালকের (স্বাস্থ্য) কার্যালয় থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, সোমবার ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা বিভাগের ঢাকা জেলা ব্যতীত ১৩ জেলায় নতুন করে হাম শনাক্ত হয়েছে ৪০ জনের আর গত জানুয়ারি থেকে সোমবার পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা ২৯৫।

গোপালগঞ্জের গৃহিণী রেশমা খানমের বড় সন্তান স্থানীয় এক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তৃতীয় শ্রেণীতে পড়ছে। হামের প্রাদুর্ভাবের মধ্যে তিনি তার সন্তানকে স্কুলে পাঠাতে চান না। বণিক বার্তাকে তিনি বলেন, ‘হাম সারা দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। এটি খুবই ছোঁয়াচে হওয়ায় আমার ছেলেকে স্কুলে পাঠাতে ভয় পাচ্ছি। কারণ স্কুলে অনেক বাচ্চা একসঙ্গে থাকে এবং সবার টিকা দেয়া কিনা সেটা তো আমরা জানি না। আবার টিকা দেয়া থাকলেও সন্তান পুরোপুরি নিরাপদ কিনা সেটিও বুঝতে পারছি না।’

গত কয়েকদিন ধরে রাজশাহী ও বরিশাল বিভাগেও হাম আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। বিশেষত রাজশাহী সদর, পাবনা, বরগুনা জেলায় অধিক প্রকোপ দেখা গেছে। রাজশাহীতে হাম ছড়িয়ে পড়ায় প্রাথমিক বিদ্যালয় পড়ুয়া শিশুরা কতটা হামের ঝুঁকিতে রয়েছে এবং তাদের সুরক্ষায় কী পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে জানতে চাইলে রাজশাহী সিভিল সার্জন রাজিউল করিম বণিক বার্তাকে বলেন, ‘প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বাচ্চাদের মধ্যে হাম ছড়িয়ে পড়ার খুব একটা আশঙ্কা নেই। কারণ এরই মধ্যে তারা টিকা পেয়েছে। বর্তমানে হাম যাদের হয়েছে তাদের বেশির ভাগই চার থেকে নয় মাস বয়সী শিশু। আর আমরা হামের টিকা দিয়ে থাকি নয় মাসে একটি এবং ১৫ মাসে একটি। অর্থাৎ আক্রান্তরা এখনো টিকা পায়নি। তবে বিদ্যালয় পড়ুয়া যেসব শিশু একটা টিকা নিয়েছে, কিন্তু পরের টিকা আর নেয়নি তাদের মধ্যে হাম সংক্রমণ হতে পারে। এজন্য আমরা সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার জন্য আহ্বান জানাচ্ছি। আমরা এরই মধ্যে গ্রাম থেকে শহর সব জায়গায় আমাদের মাঠকর্মী ও কর্মকর্তাদের সচেতনতামূলক প্রচারকাজে নিয়োজিত করেছি। কোনো বাচ্চা যদি আক্রান্ত হয়ে থাকে তাকে দ্রুত আইসোলেট করে ফেলতে হবে এবং তার প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিতে হবে।’

স্কুলপড়ুয়াদের নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই বলে মনে করছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরাও। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. আবু জাফর ফয়সাল বণিক বার্তাকে বলেন, ‘প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিশুদের বয়স সাধারণত পাঁচ বা তার বেশি। আর হামের দুটি টিকাই দেয়া হয় ১৫ মাস বয়সের মধ্যে। অর্থাৎ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যারা পড়ছে তাদের এরই মধ্যে হামের দুটি টিকা পাওয়ার কথা এবং তারা সংক্রমণের ঝুঁকিতে নেই। তবে কেউ যদি টিকা না দিয়ে থাকে তাহলে ঝুঁকি থাকে। এক্ষেত্রে অভিভাবকদের প্রতি পরামর্শ থাকবে যদি সন্তানদের টিকা দেয়া থাকে তবে তাদের আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই। আর যদি কোনো শিশুরে মধ্যে হামের উপসর্গ দেখা যায় তবে তাকে দ্রুত আইসোলেট করে ফেলতে হবে। দেরি না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *