ফেরিতে উঠতে গিয়ে পদ্মায় যাত্রীবাহী বাসডুবি আর কারো মরদেহ মেলেনি উদ্ধার অভিযান সমাপ্ত ঘোষণা
মার্চ ৩১, ২০২৬
জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি ও টিকিটের চড়া দাম উভয় সংকটে বৈশ্বিক এয়ারলাইনস খাত
মার্চ ৩১, ২০২৬
ফেরিতে উঠতে গিয়ে পদ্মায় যাত্রীবাহী বাসডুবি আর কারো মরদেহ মেলেনি উদ্ধার অভিযান সমাপ্ত ঘোষণা
মার্চ ৩১, ২০২৬
জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি ও টিকিটের চড়া দাম উভয় সংকটে বৈশ্বিক এয়ারলাইনস খাত
মার্চ ৩১, ২০২৬

রাঙ্গামাটিতে বোরো আবাদে বিলম্ব অর্জিত হয়নি লক্ষ্যমাত্রা

পাহাড়ি জেলা রাঙ্গামাটিতে নির্ধারিত সময়ে বোরো আবাদ করতে পারেননি কৃষক।

কারণ হিসেবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিগত কয়েক বছর কাপ্তাই হ্রদের পানি বিলম্বে কমতে থাকায় জলেভাসা জমিতে ফসল ফলাতেও বিলম্ব হচ্ছে। এ বছরও হ্রদের পানি দেরিতে কমেছে। আবার বর্ষায় উজানের ঢল ও বৃষ্টির পানিতে ফসলহানি হওয়ার শঙ্কায় অনেকে আবাদ কমিয়েছেন। এজন্য লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা থাকলেও সেটি অর্জিত হয়নি চলতি মৌসুমে। দেরিতে বীজতলা তৈরি ও চারা রোপণের কারণে নির্ধারিত সময়ে ফসল ঘরে তোলা নিয়েও শঙ্কায় রয়েছেন কৃষক। বছরব্যাপী খাদ্যনিরাপত্তার জন্য কাঙ্ক্ষিত খাদ্যশস্য উৎপাদন ও সংরক্ষণ করতে না পারলে বড় ঝুঁকিতে পড়তে পারেন প্রান্তিক কৃষকরা।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর রাঙ্গামাটি কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলতি ২০২৫-২৬ মৌসুমে জেলার ১০ উপজেলায় ৯ হাজার ১ হেক্টর জমিতে হাইব্রিড ও উফশী জাতের বোরো ধান আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। এর মধ্যে ৮ হাজার ৭৭৯ হেক্টর জমিতে আবাদ হয়েছে। তবে এবার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত না হলেও সাড়ে ৯৬ শতাংশ জমিতে বোরোর আবাদ হয়েছে। জেলার ৪ হাজার ৯০০ হেক্টর জমিতে হাইব্রিড ধান আবাদের লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও অর্জিত হয়েছে ৪ হাজার ৭৭৬ হেক্টরে। অন্যদিকে ৪ হাজার ২০০ হেক্টরে উফশী জাতের ধান আবাদের লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও আবাদ হয়েছে ৪ হাজার ৩ হেক্টরে।

এ বছর জেলায় সবচেয়ে বেশি বোরো আবাদ হয়েছে বাঘাইছড়ি উপজেলায়। এরপর লংগদু ও রাঙ্গামাটি সদরে। বিলাইছড়িতে সবচেয়ে কম আবাদ হয়েছে।

কৃষি বিভাগ বলছে, ১৫ নভেম্বর থেকে ১৫ মার্চ পর্যন্ত বোরো ধানের বীজতলা তৈরি ও রোপণের সময় থাকে। বীজতলা তৈরি থেকে রোপণ, পরিচর্যা ও ফলন ঘরে তুলতে সব মিলিয়ে সময় লাগে ১৫০-১৫৫ দিন। কৃষি বিভাগ প্রান্তিক চাষীদের বীজতলা তৈরি, চারা রোপণ, পরিচর্যাসহ অন্যান্য কারিগরি সহায়তা দিয়ে থাকে।

চাষীরা বলছেন, বিগত কয়েক বছর কাপ্তাই হ্রদের পানি ধীরে কমার কারণে বীজতলা তৈরি করতে বিলম্ব হচ্ছে। হ্রদের জলেভাসা জমি ভেসে উঠতেও সময় লাগছে। এতে করে জমিতে ধান রোপণ করতে দেরি হচ্ছে।

নানিয়ারচর উপজেলার উৎস দেবনাথের পরিবারের বছরব্যাপী খাদ্যশস্য নিশ্চিত করা হয় মূলত বোরো ধান দিয়ে। তবে সাম্প্রতিক কয়েক বছর ফসল তোলার আগেই বর্ষায় নষ্ট হয়েছে। ফসলহানির কারণে উপজেলার অনেক কৃষক চলতি মৌসুমে বোরো আবাদ কমিয়েছেন বলে জানিয়েছেন উৎস দেবনাথ।

তিনি বণিক বার্তাকে বলেন, ‘চলতি মৌসুমেও দ্রুত কাপ্তাই হ্রদের পানি বাড়তে থাকলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ফসল ঘরে তোলা নিয়ে সংশয় রয়েছে। আর যদি এমনটি হয় তাহলে অনেক কৃষক ক্ষতির মুখে পড়বেন। কাঙ্ক্ষিত খাদ্যশস্য ঘরে তোলা না গেলে বছরব্যাপী খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত হবে না। সেক্ষেত্রে ঘাটতিতে পড়তে পারেন চাষীরা। দেরিতে হ্রদের পানি কমায় ফসলহানির ঝুঁকি থাকায় আমরাও আবাদ কমিয়ে দিয়েছি।’

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর রাঙ্গামাটি কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. মনিরুজ্জামান বণিক বার্তাকে বলেন, ‘কাপ্তাই হ্রদের পানি চলতি মৌসুমে দেরিতে কমার ফলে প্রায় ৩০০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ কম হয়েছে। এ বছর উৎপাদনও কিছু কম হবে। তবে চারা দেরিতে রোপণের ফলে ফলন আসতেও দেরি হয়। সেজন্য আমরা কৃষকদের পরামর্শ দিয়েছি, কিছুটা উঁচু এলাকা ও বয়স্ক চারা ঘন করে রোপণের জন্য। এতে করে ফলন কিছুটা কম হলেও অন্তত ফসলহানি হবে না।’

জ্বালানি সংকটের প্রভাব সেচ ব্যবস্থাপনায় পড়ছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এখন পর্যন্ত জ্বালানি তেল সংকটের কারণে সেচ ব্যবস্থাপনা ব্যাহতের তেমন বড় খবর আমরা পাইনি। সদর উপজেলায় একটা খবর পেয়েছিলাম, আমাদের কৃষি অফিসারকে বিষয়টি দেখার জন্য বলা হয়েছে। একই সঙ্গে সব উপজেলার কৃষি কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে কৃষকদের এ বিষয়ে সহায়তা করার জন্য। বোরো চাষীরা যেন সেচ নিয়ে কোনো ধরনের ভোগান্তিতে না পড়েন।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *