দেশের সবচেয়ে বর্ধনশীল খাত সরকারি ঋণ, প্রবৃদ্ধি ৩০%
মার্চ ৩১, ২০২৬
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিরোধীদলীয় নেতার সাক্ষাৎ
মার্চ ৩১, ২০২৬
দেশের সবচেয়ে বর্ধনশীল খাত সরকারি ঋণ, প্রবৃদ্ধি ৩০%
মার্চ ৩১, ২০২৬
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিরোধীদলীয় নেতার সাক্ষাৎ
মার্চ ৩১, ২০২৬

রাশিয়া থেকে ছয় লাখ টন ডিজেল কিনতে চায় বাংলাদেশ

জ্বালানি তেল সরবরাহ নিরবচ্ছিন্ন রাখতে বিকল্প বিভিন্ন উৎস থেকে আমদানির পরিকল্পনা করেছে সরকার। এরই অংশ হিসেবে রাশিয়া থেকে দুই মাসের জন্য আমদানি সুবিধা অথবা ছয় লাখ টন ডিজেল কিনতে আগ্রহ দেখিয়েছে বাংলাদেশ।

রাশিয়া থেকে ডিজেল আমদানির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ‘স্যাংশন ওয়েভার’ চেয়েছে বাংলাদেশ। এ সুবিধা চেয়ে এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রকে চিঠি দেয়া হয়েছে।

বিষয়টি নিয়ে ঈদের আগে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে। প্রতিবেশী দেশ ভারতের মতো স্যাংশন ওয়েভার সুবিধা পেলে রাশিয়া থেকে পরিশোধিত জ্বালানি তেল কিনতে পারবে বাংলাদেশ। এখনো এ বিষয়ে অনুমতি না মিললেও শিগরিগই তা পাওয়ার প্রত্যাশা করছে জ্বালানি বিভাগ। জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের যুগ্ম সচিব (অপারেশন অনুবিভাগ) মনির হোসেন চৌধুরী গতকাল এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান।

জ্বালানি বিভাগের এ কর্মকর্তা বলেন, ‘রাশিয়া থেকে দুই মাস অথবা ছয় লাখ টন ডিজেল কিনতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। ভারতকে জ্বালানি তেল আমদানিতে যুক্তরাষ্ট্র একটা স্যাংশন ওয়েভার দিয়েছে। ঈদের আগের দিন রাতে মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের সঙ্গে এক বৈঠক করেছি। ওই বৈঠকে ভারতের মতো বাংলাদেশ যাতে স্যাংশন ওয়েভার পায়, সে বিষয়টি তুলে ধরা হয়।’

মনির হোসেন চৌধুরী আরো বলেন, ‘ওই বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে অনুরোধ জানানো হয়, যেন রাশিয়া থেকে দুই মাসের অথবা অন্তত ছয় লাখ টনের ডিজেল আমদানির অনুমতি (স্যাংশন ওয়েভার) দেয়া হয়। তারা (যুক্তরাষ্ট্র) আমাদেরকে একটা চিঠি দিতে বলেছিল। আমরা চিঠি দিয়েছি। এখন অনুমতির অপেক্ষায় রয়েছি।’

দেশে অপরিশোধিত (ক্রুড) জ্বালানি তেলের একক উৎস মধ্যপ্রাচ্য। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ক্রুড অয়েল আমদানিতে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। জ্বালানি আমদানিতে বড় ধরনের বিপত্তি এড়াতে সরকার বিভিন্ন দেশের সঙ্গে যোগাযোগ চালিয়ে যাচ্ছে। জ্বালানি তেলের বিকল্প উৎস খুঁজতে এরই মধ্যে সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করেছে সরকার। পাশাপাশি নাইজেরিয়া, আজারবাইজান, কাজাখস্তান, এঙ্গোলা, অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে অপরিশোধিত বা পরিশোধিত তেল আমদানির বিষয়েও গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। এরই মধ্যে বিভিন্ন দেশ সহযোগিতার আশ্বাসও দিয়েছে।

জ্বালানি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ইন্দোনেশিয়ার পিটি বুমি সিয়াক পুসাকো জেপিনের (বিএসপি জেপিন) সঙ্গে দেশটিতে বাংলাদেশ দূতাবাসের এক সভায় চুক্তীকৃত ৫০ পিপিএম (তেলের মান) ডিজেলের বিকল্প হিসেবে অধিক সালফারযুক্ত (৫০০-১০০০ পিপিএম) জ্বালানি তেল সরবরাহের প্রস্তাব করা হয়। নীতিগত সম্মতি জানিয়ে সরকারে পক্ষ থেকে ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। আজ এ চুক্তির আওতায় ১ লাখ ২০ হাজার টন ডিজেলবাহী চারটি কার্গো বাংলাদেশে পৌঁছার কথা রয়েছে। ভারত থেকেও চলতি বছরের জানুয়ারি-জুন পর্যন্ত ৬০ হাজার টন ডিজেল আমদানির প্রাক্কলন রয়েছে। এরই মধ্যে ২২ হাজার টন ডিজেল দেশে এসেছে।

জ্বালানি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, দেশে ডিজেলের মজুদ রয়েছে মোট ১ লাখ ৩৩ হাজার টন। ৩ এপ্রিলের মধ্যে ৫৪ হাজার ৬০০ টন জ্বালানি তেল আমদানির কথা রয়েছে। মালয়েশিয়া ও অন্যান্য দেশ থেকে ১ লাখ ৫৪ হাজার টন এপ্রিলের মধ্যে দেশে আসার কথা জানিয়েছে জ্বালানি বিভাগ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *