শাহ আমানতে ১৬ দিনে ১২০টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল
মার্চ ১৬, ২০২৬
দুবাইয়ের আবাসন সূচকে ৩০ শতাংশ পতন
মার্চ ১৬, ২০২৬
শাহ আমানতে ১৬ দিনে ১২০টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল
মার্চ ১৬, ২০২৬
দুবাইয়ের আবাসন সূচকে ৩০ শতাংশ পতন
মার্চ ১৬, ২০২৬

আলোচনা সভায় ডা. জুবাইদা রহমান বর্তমান সরকার কন্যাশিশুর স্বপ্ন বাস্তবায়নে বদ্ধপরিকর

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের স্ত্রী ও বিশিষ্ট কার্ডিওলজিস্ট ডা. জুবাইদা রহমান বলেছেন, ‘যে জাতির নারীরা এগিয়ে যায়, সে জাতি সামগ্রিকভাবে এগিয়ে যায়।

বর্তমান সরকার কন্যাশিশুর স্বপ্ন বাস্তবায়নে বদ্ধপরিকর। সেই লক্ষ্যে নারীদের স্নাতকোত্তর পর্যন্ত শিক্ষা অবৈতনিক করার প্রয়াস নেবে। একমাত্র শিক্ষার মাধ্যমেই একটি কন্যাশিশু অন্ধকার জীবন থেকে আলোকিত জীবনে পদার্পণ করবে, যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠবে এবং বাল্যবিবাহ থেকে রক্ষা পাবে।’

আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে গতকাল রাজধানীর আগারগাঁওয়ে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর মিলনায়তনে এক আলোচনা সভা ও সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন নারী ও শিশু বিষয়কমন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন।

অনুষ্ঠানে অতিথি ছিলেন জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বাংলাদেশের কমিশনার ইলিরা দেওয়ান, দি হাঙ্গার প্রজেক্ট বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর প্রশান্ত ত্রিপুরা, অপরাজেয় বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক ওয়াহিদা বানু ও ওয়াইডব্লিউসিএর ন্যাশনাল সেক্রেটারি হেলেন মনীষা সরকার। সভাপতিত্ব করেন জাতীয় কন্যাশিশু অ্যাডভোকেসি ফোরামের সভাপতি ড. বদিউল আলম মজুমদার। স্বাগত বক্তব্য রাখেন জাতীয় কন্যাশিশু অ্যাডভোকেসি ফোরামের সহসভাপতি শাহীন আক্তার ডলি প্রমুখ।

নারী ও শিশু বিষয়কমন্ত্রী বলেছেন, ‘সরকারি-বেসরকারি যৌথ উদ্যোগে সমাজে নারীর অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। নারী ও কন্যাশিশুদের কল্যাণে সরকার তার সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে। কিন্তু ১৮ কোটির মানুষের দেশে সরকারের একার পক্ষে সব কাজ করা সম্ভব হবে না। সেজন্য সরকারি-বেসরকারি যৌথ উদ্যোগে সমাজে নারীর অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। একজন নাগরিকের যেসব অধিকার থাকা উচিত, নারীদেরও একই অধিকার থাকা উচিত। সব মানুষের অধিকারের ব্যাপারে আমাদের সম্মানবোধ থাকতে হবে। একজন মানুষের যে স্বকীয়তা, সম্মান ও মর্যাদা আছে, তার প্রতি যদি আমরা সম্মান প্রদর্শন করি, তাহলে সমাজে কোনো ধরনের বৈষম্য থাকবে না, নারীদের অধিকার নিয়ে আলাদাভাবে কথা বলতে হবে না।’

অনুষ্ঠানে দুজন নারীকে সম্মাননা প্রদান করা হয়। সম্মাননাপ্রাপ্তরা হলেন বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা সুরভীর প্রতিষ্ঠাতা ও সমাজকর্মী সৈয়দা ইকবাল মান্দ বানু এবং ভূতপূর্ব নারীবিষয়ক সংস্কার কমিশনের প্রধান, নারীপক্ষের প্রতিষ্ঠাতা ও গণস্বাস্থ্য ট্রাস্টের চেয়ারপারসন শিরিন পারভীন হক।

সম্মাননা প্রদান করায় সৈয়দা ইকবাল মান্দ বানু জাতীয় কন্যাশিশু অ্যাডভোকেসি ফোরামকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশের কন্যা ও শিশুরা সবসময় অবহেলিত। গ্রামের অনেক কন্যা শিক্ষার অধিকার থেকে এখনো বঞ্চিত।’ তিনি চান, সবাই যাতে ঐক্যবদ্ধ হয়ে নারী ও কন্যাশিশুদের অধিকার রক্ষায় পাশে দাঁড়ায়। নিজের সব যোগ্যতা নারীর প্রতি উৎসর্গ করেন নারীপক্ষের প্রতিষ্ঠাতা শিরিন পারভীন হক। তিনি বলেন, নারীপক্ষ সবসময় আন্দোলন করেছে নারীর অধিকারের দৃষ্টিকোণ থেকে। নারীপক্ষের শুরুর দিকে কার্যক্রম পরিচালিত হতো তার মায়ের বাড়িতে। অনুষ্ঠানে তাই তিনি তার প্রয়াত মায়ের অবদানের কথা স্মরণ করেন।

মুক্ত আলোচনায় অংশ নিয়ে উপস্থিত শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ‘নারীর প্রতি নিগ্রহ, নারীকে নির্যাতন ও নিপীড়নের বিষয়টি আমাদের রক্তের সঙ্গে মিশে রয়েছে। আমরা উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছি। বিশেষত আমাদের পুরুষদের মধ্যে। আমরা প্রতিনিয়ত পুরুষতন্ত্রের সঙ্গে লড়াই করছি।’ তিনি প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার নারী শিক্ষা ও নারীর ক্ষমতায়নে অবদানের জন্য তাকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *