মালয়েশীয় পাম অয়েলের সাপ্তাহিক দরবৃদ্ধি ৪%
মার্চ ১৫, ২০২৬
খরচ বৃদ্ধির চাপে এশিয়ার চাল রফতানিকারকরা
মার্চ ১৫, ২০২৬
মালয়েশীয় পাম অয়েলের সাপ্তাহিক দরবৃদ্ধি ৪%
মার্চ ১৫, ২০২৬
খরচ বৃদ্ধির চাপে এশিয়ার চাল রফতানিকারকরা
মার্চ ১৫, ২০২৬

গোল্ডম্যান স্যাকসের পূর্বাভাস মার্চে জ্বালানি তেলের গড় দাম ছাড়াবে ব্যারেলে ১০০ ডলার

ইরান যুদ্ধ ও মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় চলতি মার্চে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের গড় দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে।

মার্কিন বহুজাতিক বিনিয়োগ ব্যাংক গোল্ডম্যান স্যাকস এ পূর্বাভাস দিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় এবং যুদ্ধের কারণে জ্বালানি পণ্যটির উত্তোলন কমে যাওয়ায় বাজারে অস্থিরতা বাড়ছে। জ্বালানি তেলের দাম গত সোমবার ব্যারেলে ১১৯ ডলার ৫০ সেন্টে উঠেছিল, যা ২০২২ সালের জুনের পর সর্বোচ্চ। খবর রয়টার্স।

গোল্ডম্যান স্যাকসের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর শুরু হওয়া যুদ্ধের কারণে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ রয়েছে। বিশ্বের মোট জ্বালানি তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের এক-পঞ্চমাংশ এ পথ দিয়ে সরবরাহ হয়। এ গুরুত্বপূর্ণ নৌপথটি যদি দুই মাস বন্ধ থাকে, তবে বছরের শেষ প্রান্তিকে (অক্টোবর) জ্বালানি তেলের গড় দাম ব্যারেলপ্রতি ৯৩ ডলারে পৌঁছতে পারে বলে পূর্বাভাস পুনর্নির্ধারণ করেছে ব্যাংকটি।

জ্বালানি তেলের উৎপাদন ২০ শতাংশ কমিয়ে দৈনিক ৮০ লাখ ব্যারেলে নামিয়ে এনেছে শীর্ষ তেল রফতানিকারক দেশ সৌদি আরব। যুদ্ধের কারণে সাফানিয়া ও জুলুফ নামের দুটি বড় অফশোর ক্ষেত্র বন্ধ করে দেয়ায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি এজেন্সি (আইইএ) জানিয়েছে, সৌদি আরবসহ পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলো সম্মিলিতভাবে দৈনিক অন্তত এক কোটি ব্যারেল উত্তোলন কমাতে বাধ্য হয়েছে, যা জ্বালানি তেলের বৈশ্বিক চাহিদার প্রায় ১০ শতাংশের সমান। আইইএ এ পরিস্থিতিকে বিশ্ববাজারের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় সরবরাহ বিপর্যয় হিসেবে অভিহিত করেছে।

আকাশচুম্বী দাম ও সরবরাহ সংকট সামাল দিতে মার্কিন প্রশাসন আগামী সপ্তাহের শেষ নাগাদ জরুরি মজুদ থেকে জ্বালানি তেল বাজারে ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন জানিয়েছে, প্রথম ধাপে ৮ কোটি ৬০ লাখ ব্যারেল জ্বালানি তেল ঋণের ভিত্তিতে বাজারে ছাড়া হবে। পদক্ষেপটি আইইএর সদস্য দেশগুলোর সমন্বিত ৪০ কোটি ব্যারেল জ্বালানি তেল ছাড়ার প্রতিশ্রুতির অংশ। মার্কিন জ্বালানি বিভাগ জানিয়েছে, এ উদ্যোগ করদাতাদের কোনো ব্যয় ছাড়াই বাজার স্থিতিশীল করতে সহায়তা করবে।

বাজারসংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, আইইএ ও যুক্তরাষ্ট্র রেকর্ড মজুদ ছেড়ে সরবরাহ বাড়ানোর চেষ্টা করলেও মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে উত্তোলন কমে যাওয়ার প্রভাব বাজারে বেশি অনুভূত হচ্ছে। ইরান এরই মধ্যে হুঁশিয়ারি দিয়েছে আঞ্চলিক নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ায় জ্বালানি তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ২০০ ডলারে পৌঁছতে পারে। ফলে সরবরাহ চেইন পুনরায় সচল না হওয়া পর্যন্ত জ্বালানি তেলের বাজারে এ অস্থিরতা বজায় থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *