বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গে আইএমএফ প্রতিনিধির সাক্ষাৎ
মার্চ ১৩, ২০২৬
নির্বাচনে জামায়াত আমিরের ব্যয় ৩২ লাখ ৫৮ হাজার টাকা
মার্চ ১৩, ২০২৬
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গে আইএমএফ প্রতিনিধির সাক্ষাৎ
মার্চ ১৩, ২০২৬
নির্বাচনে জামায়াত আমিরের ব্যয় ৩২ লাখ ৫৮ হাজার টাকা
মার্চ ১৩, ২০২৬

জ্বালানি স্থাপনা ও জাহাজে হামলা অব্যাহত, তেলের দাম আবার ১০০ ডলার ছাড়িয়েছে

উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন জ্বালানি স্থাপনা ও জাহাজে হামলার ঘটনা বেড়েছে। ইরানের বিস্ফোরক বোঝাই নৌকা দুটি জ্বালানিবাহী ট্যাংকারে হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

এতে একটি ট্যাংকারে আগুন ধরে যায় এবং একজন নাবিক নিহত হন। একই সময়ে উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে আরো চারটি জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এরই মধ্যে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকবে। একই সঙ্গে উপসাগরীয় মার্কিন স্থাপনায় হামলা অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেন তিনি। এদিকে হরমুজ প্রণালিতে অস্থিরতার প্রভাবে গতকাল বিশ্বজুড়ে শেয়ারবাজারে পতন দেখা গেছে এবং ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যায়। পরে কিছুটা কমলেও বাজারে অস্থিরতা অব্যাহত রয়েছে। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর উপসাগরীয় অঞ্চলে হামলার শিকার জাহাজের সংখ্যা অন্তত ১৬টিতে পৌঁছেছে। এদিকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি তেলবাহী জাহাজ চলাচলে নিরাপত্তা দিতে যুক্তরাষ্ট্র এখনই প্রস্তুত নয় বলে জানিয়েছেন দেশটির জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইট। তিনি বলেন, এ মুহূর্তে মার্কিন সামরিক বাহিনীর প্রধান মনোযোগ ইরানের সামরিক সক্ষমতা ধ্বংস করা।

বুধবার রাত থেকে গতকাল পর্যন্ত উপসাগরীয় অঞ্চলে অন্তত ছয়টি জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে বুধবার দিবাগত গভীর রাতে ইরাকের উপকূলসংলগ্ন জলসীমায় হামলার শিকার হয় দুটি জাহাজ। এগুলো হলো মার্শাল আইল্যান্ডসের পতাকাবাহী সেফসিয়া বিষ্ণু ও জেফিরোস। ইরাকের দুটি বন্দর কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, জাহাজ দুটিই ইরাক থেকে জ্বালানি পণ্য বোঝাই করেছিল। হামলার পর উদ্ধারকারীরা সমুদ্র থেকে এক বিদেশী নাবিকের মরদেহ উদ্ধার করেছেন। নিখোঁজ নাবিকদের খোঁজে তল্লাশি চালিয়ে যাচ্ছে ইরাকি উদ্ধারকারী দল। জ্বালানি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলার ঘটনার পর দেশটির সব জ্বালানি বন্দরের কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। তবে বাণিজ্যিক বন্দরগুলো আগের মতোই সচল রয়েছে।

এছাড়া বসরার কাছে যুক্তরাষ্ট্রের মালিকানাধীন একটি অপরিশোধিত তেলবাহী ট্যাংকারে হামলায় এক ভারতীয় নাবিক নিহত হয়েছেন বলে গতকাল ভারতের দূতাবাস জানিয়েছে। দূতাবাস এক্সে দেয়া এক বার্তায় জানায়, সেফসিয়া বিষ্ণু জাহাজের বাকি ১৫ ভারতীয় নাবিককে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। উদ্ধার হওয়া নাবিকদের সঙ্গে দূতাবাস নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে এবং ইরাকি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে সহায়তা দিচ্ছে। গতকাল ভোরে যুক্তরাজ্যের ম্যারিটাইম ট্রেড অপারেশনস সেন্টার জানায়, সংযুক্ত আরব আমিরাতের জেবেল আলির উত্তর দিকে প্রায় ৩৫ নটিক্যাল মাইল দূরে একটি কনটেইনার জাহাজ হামলার শিকার হয়। এতে ছোট আকারের আগুন লাগে, তবে নাবিকরা সবাই নিরাপদে আছেন।

থাইল্যান্ডের পতাকাবাহী মায়ুরি নারি নামের একটি শুকনো পণ্যবাহী জাহাজও হরমুজ প্রণালিতে হামলার শিকার হয়। এতে জাহাজটির ইঞ্জিন কক্ষে আগুন ধরে যায়। জাহাজটির অপারেটর প্রতিষ্ঠান প্রেশাস শিপিং জানিয়েছে, তিনজন নাবিক নিখোঁজ রয়েছেন এবং তারা ইঞ্জিন কক্ষে আটকে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বাকি ২০ জন নাবিককে নিরাপদে সরিয়ে ওমানে নেয়া হয়েছে।

এদিকে জাপানের পতাকাবাহী কনটেইনার জাহাজ ওএনই ম্যাজেস্টি সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাস আল খাইমাহর উত্তর-পশ্চিমে প্রায় ২৫ নটিক্যাল মাইল দূরে অজ্ঞাত প্রক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে সামান্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জাহাজটির মালিক মিৎসুই ওএসকে লাইনস এবং চার্টারকারী প্রতিষ্ঠান ওশান নেটওয়ার্ক এক্সপ্রেস জানিয়েছে, জাহাজটি গালফে নোঙর করা অবস্থায় আঘাতপ্রাপ্ত হয়। পরিদর্শনে পানির রেখার ওপরে হালকা ক্ষতি ধরা পড়েছে। সব নাবিক নিরাপদ আছেন এবং জাহাজটি এখনো চলাচলের উপযোগী বলে জানানো হয়েছে। ঘটনার কারণ তদন্ত করা হচ্ছে।

মার্শাল আইল্যান্ডসের পতাকাবাহী স্টার গুইনেথ নামের একটি বাল্ক ক্যারিয়ারও দুবাইয়ের উত্তর-পশ্চিমে প্রায় ৫০ নটিক্যাল মাইল দূরে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সামুদ্রিক ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান ভ্যানগার্ড জানিয়েছে, জাহাজটির গায়ে ক্ষতি হলেও নাবিকরা নিরাপদ আছেন।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জ্বালানিবাহী ট্যাংকারে বিস্ফোরক বোঝাই মানববিহীন সমুদ্রযান ব্যবহারের খবর পাওয়া যাচ্ছে। ইরান হরমুজ প্রণালিতে প্রায় এক ডজন সমুদ্র মাইন পেতে রেখেছে বলেও দুটি সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে রয়টার্স।

এর আগে যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলে জাহাজগুলো নিরাপত্তা দেয়ার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিল। তবে গতকাল যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইট জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি তেলবাহী জাহাজ চলাচলে নিরাপত্তা দিতে এখনই নৌবাহিনী প্রস্তুত নয়। এ মুহূর্তে মার্কিন সামরিক বাহিনীর প্রধান মনোযোগ ইরানের আক্রমণাত্মক সক্ষমতা ধ্বংস করা। একই সঙ্গে ইরানের সামরিক উৎপাদন ব্যবস্থা ধ্বংসের দিকে যুক্তরাষ্ট্র পূর্ণ মনোযোগ দিচ্ছে বলেও জানান তিনি। সিএনবিসিকে দেয়া সাক্ষাৎকারে রাইট আরো বলেন, চলতি মাসের শেষ নাগাদ নৌবাহিনী এসকর্ট অভিযান শুরু করার মতো প্রস্তুত হতে পারে।

এরই মধ্যে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলার বিপরীতে ইরান পাল্টা লড়াই চালিয়ে যাবে। শহীদদের রক্তের প্রতিশোধ নেবে ইরান। দায়িত্ব নেয়ার পর গতকাল টেলিভিশন ভাষণে এ ঘোষণা দেন তিনি। এ সময় মোজতবা খামেনি বলেন, ইয়েমেনের প্রতিরোধ যোদ্ধারাও তাদের দায়িত্ব পালন করবে। ইরাকের সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোও ইসলামী বিপ্লবকে সহায়তা করতে চায়। ভাষণে ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা জাতীয় ঐক্যের ডাক দেন। তিনি বলেন, শত্রুদের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে হরমুজ প্রণালি বন্ধ রাখা অব্যাহত থাকবে। ইরান প্রতিবেশীদের সঙ্গে বন্ধুত্বে বিশ্বাস করে এবং তারা কেবল মার্কিন ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করছে, যা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। খামেনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, এ অঞ্চলের সব মার্কিন ঘাঁটি অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। অন্যথায় সেগুলোতে হামলা চালানো হবে।

উপসাগরীয় অঞ্চলে জ্বালানি তেলবাহী জাহাজে হামলার ঘটনায় গতকাল বিশ্বজুড়ে শেয়ারবাজারে পতন দেখা গেছে এবং তেলের দাম অল্প সময়ের জন্য ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যায়। একই সঙ্গে নতুন করে বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা জোরালো হয়েছে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ) ইতিহাসের সবচেয়ে বড় উদ্যোগ হিসেবে জরুরি মজুদ থেকে ৪০০ মিলিয়ন ব্যারেল জ্বালানি তেল ছাড়ার পরিকল্পনা ঘোষণা করলেও তা বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ কমাতে পারেনি। মধ্যপ্রাচ্য থেকে সরবরাহে ধাক্কার আশঙ্কা থেকেই গেছে।

এ প্রেক্ষাপটে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম একপর্যায়ে ১০ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০১ দশমিক ৫৯ ডলারে পৌঁছায়। পরে কিছুটা কমলেও বাজারে অস্থিরতা বজায় রয়েছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দাম ৪ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯১ দশমিক ১১ ডলারে লেনদেন হয়েছে।

জ্বালানি বাজারে উত্তেজনার প্রভাব পড়েছে বৈশ্বিক শেয়ারবাজারেও। ইউরোপের প্রধান সূচক স্টক্স ৬০০ প্রায় দশমিক ৪ শতাংশ কমেছে। যুক্তরাষ্ট্রে এসঅ্যান্ডপি ৫০০ এবং প্রযুক্তিনির্ভর নাসডাক ১০০ সূচকের ফিউচারও প্রায় দশমিক ৫ শতাংশ করে কমেছে। একই সময়ে বৈশ্বিক শেয়ারবাজারের সূচক এমএসসিআই অল-ওয়ার্ল্ড প্রায় দশমিক ৩ শতাংশ কমেছে।

পূর্বাভাসভিত্তিক প্লাটফর্ম পলিমার্কেটের হিসাব অনুযায়ী, ৩১ মার্চের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা এখন প্রায় ২৫ শতাংশে নেমে এসেছে। সপ্তাহের শুরুতে এ সম্ভাবনা ছিল প্রায় ৪৫ শতাংশ।

ন্যাশনাল অস্ট্রেলিয়া ব্যাংকের জ্যেষ্ঠ বৈদেশিক মুদ্রা কৌশলবিদ রদ্রিগো ক্যাটরিল বলেন, বাজার এখন সবচেয়ে বেশি উদ্বিগ্ন হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি নিয়ে। গত ২৪ ঘণ্টায় যে তথ্য পাওয়া যাচ্ছে, তা মোটেও আশাব্যঞ্জক নয়। এ পরিস্থিতির মধ্যে মূল্যস্ফীতির ঝুঁকিও বাড়ছে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস জেরাল্ড ফোর্ডে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে দুই সেনা আহত হয়েছেন বেলে গতকাল জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড দাবি করেছে, এটা যুদ্ধজনিত আগুন নয়। জাহাজের প্রধান লন্ড্রি স্পেস থেকে আগুনের সূত্রপাত। এতে জাহাজের কোনো ক্ষতি হয়নি। রণতরি ইউএসএস জেরাল্ড এ মুহূর্তে কোথায় অবস্থান করছে তা উল্লেখ করেনি মার্কিন সামরিক বাহিনী।

ইরানে হামলা বন্ধ করে আলোচনার টেবিলে ফিরে আসতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে রাশিয়া। রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা বলেছেন, মস্কো এমন পদক্ষেপের পক্ষে কাজ করছে, যা উত্তেজনা কমাতে পারে এবং সংঘাতকে আবার কূটনৈতিক পথে ফিরিয়ে আনতে সহায়তা করবে। তিনি সতর্ক করে বলেন, চলমান যুদ্ধের কারণে পুরো অঞ্চলের মানবিক পরিস্থিতি ক্রমেই দুঃসহ হয়ে উঠছে এবং সংঘাত দিন দিন আরো উদ্বেগজনক রূপ নিচ্ছে। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক সংস্থা রোসাটম জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েলি হামলার মধ্যেও তারা ইরানে তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাবে। রোসাটমের প্রধান অ্যালেক্সি লিখাচেভ জানিয়েছেন, ইরানের বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে আরো দুটি ইউনিট নির্মাণের চুক্তি রয়েছে তাদের। প্রতিষ্ঠানটি এর আগেই বুশেহরে ইরানের একমাত্র পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রথম ১ গিগাওয়াট ইউনিট নির্মাণ করেছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের ওপর হামলা শুরু করার পর রোসাটম নিরাপত্তার কারণে কিছু কর্মী সরিয়ে নেয় এবং নতুন ইউনিট নির্মাণের কাজ সাময়িকভাবে স্থগিত করে। লিখাচেভ জানান, প্রকল্পে বর্তমানে প্রায় ৪৫০ জন রোসাটম কর্মী কাজ করছেন। এর মধ্যে এ সপ্তাহে প্রায় ১৫০ জন রাশিয়ায় ফিরে গেছেন। তবে দ্বিতীয় ও তৃতীয় ইউনিটের নির্মাণ এখনো অগ্রাধিকারের তালিকায় রয়েছে।

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলা তার দেশের যুদ্ধ বন্ধে তিনটি শর্ত দিয়েছেন। শর্তগুলো হলো তেহরানের ন্যায্য অধিকারের স্বীকৃতি প্রদান, যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণ ক্ষতিপূরণ দেয়া এবং ভবিষ্যতে আর কোনো হামলা হবে না—আন্তর্জাতিক মহল থেকে এমন শক্ত নিশ্চয়তা নিশ্চিত করা। যুদ্ধে দেশটিতে প্রায় ৩২ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআর। সংস্থাটি জানিয়েছে, সারা দেশে বাস্তুচ্যুত পরিবারের ওপর পরিচালিত প্রাথমিক জরিপের ভিত্তিতে এ হিসাব করা হয়েছে। এক বিবৃতিতে ইউএনএইচসিআর সতর্ক করেছে, যুদ্ধ অব্যাহত থাকলে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে। এটি অঞ্চলের মানবিক পরিস্থিতির একটি উদ্বেগজনক চিত্র তুলে ধরছে।

এদিকে গতকালও লেবাননে হামলা অব্যাহত রেখেছে ইসরায়েল। প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ লেবাননের ভূখণ্ড দখলের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, লেবাননের সরকারকে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেয়া হয়েছে যে হিজবুল্লাহ যেন ইসরায়েলের ওপর হামলা বন্ধ করে। তা না হলে ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী লেবাননের ভূখণ্ডে অভিযান চালাবে এবং এলাকা দখল করে নিতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের টানা প্রায় দুই সপ্তাহের ব্যাপক বোমাবর্ষণের পরও ইরানের নেতৃত্ব এখনো সুসংহত রয়েছে এবং অদূর ভবিষ্যতে দেশটির শাসন ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার কোনো ঝুঁকি নেই বলে উঠে এসেছে মার্কিন গোয়েন্দা প্রতিবেদনে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট তিনটি সূত্রের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, বিভিন্ন গোয়েন্দা প্রতিবেদনে একই ধরনের বিশ্লেষণ পাওয়া গেছে। সূত্রগুলো জানিয়েছে, প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে বর্তমানে ইরানি শাসন ব্যবস্থা কোনো তাৎক্ষণিক সংকটে নেই এবং জনগণের ওপর সরকারের নিয়ন্ত্রণ বজায় রয়েছে। প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, কয়েক দিনের মধ্যে প্রস্তুত হওয়া সর্বশেষ এ প্রতিবেদনে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার প্রথম দিনেই ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হলেও দেশটির ধর্মীয় নেতৃত্বের মধ্যে এখনো সংহতি বজায় রয়েছে। রুদ্ধদ্বার বৈঠকে ইসরায়েলি কর্মকর্তারাও স্বীকার করেছেন যে এ যুদ্ধের ফলে ইরানের ধর্মীয় সরকারের পতন ঘটবে—এমন নিশ্চয়তা নেই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *