বাংলাদেশ-পাকিস্তান সিরিজ ধারাবাহিকতা চান নাজমুল হোসেন
মার্চ ৮, ২০২৬
শেখ হাসিনা সরকারের প্রবণতা এই সরকারেও দেখতে পাচ্ছি: নাহিদ ইসলাম
মার্চ ৮, ২০২৬
বাংলাদেশ-পাকিস্তান সিরিজ ধারাবাহিকতা চান নাজমুল হোসেন
মার্চ ৮, ২০২৬
শেখ হাসিনা সরকারের প্রবণতা এই সরকারেও দেখতে পাচ্ছি: নাহিদ ইসলাম
মার্চ ৮, ২০২৬

সরকারের দাবি জ্বালানির সংকট নেই, আসছে তেল ও গ্যাসবাহী জাহাজ

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিকে ঘিরে দেশে জ্বালানি তেল সরবরাহ নিয়ে কোনো সংকট নেই বলে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেছেন, জ্বালানি তেলবাহী জাহাজ ও গ্যাসবাহী এলএনজি কার্গো দেশে আসছে।

এরই মধ্যে কাতার থেকে ১ লাখ ২৬ হাজার টন এলএনজি নিয়ে ‘আল জোর’ ও ‘আল জাসাসিয়া’ জাহাজ বন্দরে পৌঁছেছে। এছাড়া ‘আল গালায়েল’ ও ‘লুসাইল’ নামে আরো দুটি এলএনজিবাহী জাহাজ সোমবার ও বুধবারের মধ্যে দেশে পৌঁছার কথা রয়েছে। দুটি জ্বালানি তেলবাহী জাহাজও সোমবার দেশে আসার কথা রয়েছে।

রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে গতকাল উপস্থিত সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এ কথা বলেন। জ্বালানিমন্ত্রী বলেন, ‘দেশে ডিজেল, পেট্রল, অকটেনসহ সব ধরনের জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে। তাই সাধারণ মানুষের উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে কিছুটা উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অনেকেই আশঙ্কা থেকে বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে গিয়ে প্রয়োজনের অতিরিক্ত তেল সংগ্রহের চেষ্টা করছেন। বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করা হয়েছে।’

ইকবাল হাসান মাহমুদ জানান, ভবিষ্যতে কোনো ধরনের সংকট এড়াতে সরকার কাতার ছাড়াও বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহের পরিকল্পনা করছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রয়োজন হলে সেসব বিকল্প উৎস ব্যবহার করা হবে।

মন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, ‘আসলে জ্বালানি তেলের কোনো অভাব নেই। ৯ মার্চ দেশে আরো দুটি জ্বালানি তেলবাহী জাহাজ আসছে। সুতরাং তেলের কোনো সমস্যা নেই। ঘাটতি পড়ার কোনো সুযোগ নেই। তার পরও যেহেতু যুদ্ধ চলছে আমাদের হিসাব করে চলতে হবে।’

গুজব বা আতঙ্কে অতিরিক্ত তেল সংগ্রহ না করার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান তিনি। মন্ত্রী বলেন, ‘প্যানিক হয়ে কেউ যেন প্রয়োজনের বেশি তেল সংগ্রহ না করেন। এতে অপ্রয়োজনীয় চাপ তৈরি হয়। গণমাধ্যমের কাছে আমার অনুরোধ থাকবে—আপনারা জনগণকে এ বার্তাটা দিন যে তাড়াহুড়ো করে তেল কেনার কোনো দরকার নেই। আমাদের কাছে মজুদ আছে, আমরা নিয়মিত পেট্রল পাম্পে তেল সরবরাহ করছি। মানুষ তেল নিতে গেলে তেল পাবে। সারা রাত লাইন দিয়ে থাকারও কোনো প্রয়োজন নেই।’

চট্টগ্রাম বন্দর সূত্রে জানা গেছে, জ্বালানি পণ্যবাহী বিভিন্ন জাহাজের পাশাপাশি ওমানের সোহার বন্দর থেকে ২২ হাজার ১৭২ টন এলপিজি নিয়ে ‘সেভান’ নামের একটি জাহাজ আজ বন্দরে পৌঁছার কথা রয়েছে। এর আগে একই বন্দর থেকে ১৯ হাজার ৩১৬ টন এলপিজি নিয়ে ‘জিওয়াইএমএম’ নামের আরেকটি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছে। কাতার থেকে এলএনজি সরবরাহ কার্যক্রম শুরু হওয়ায় আরো একটি ট্যাংকার ১০ দিনের মধ্যে বাংলাদেশে পৌঁছার সম্ভাবনা রয়েছে।

এদিকে, সরকার দেশে জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুদ থাকার দাবি করলেও মাঠপর্যায়ে ক্রেতারা পাম্পগুলোতে ডিজেল, অকটেন ও পেট্রল পাচ্ছে না। অনেক পাম্পের নিজস্ব মজুদ ফুরিয়ে যাওয়ায় গতকাল সকাল থেকেই বন্ধ রয়েছে। শুক্র ও শনিবার ডিপোগুলো বন্ধ থাকায় কোনো পাম্পে তেল সরবরাহ করা হয়নি। একাধিক পাম্পে কর্মরতরা জানান, আজ থেকে ডিপোতে তেল সরবরাহ হলে পাম্পগুলো আবার খোলা হবে।

মাঠপর্যায়ে সৃষ্ট সংকট ক্রেতাদের ‘প্যানিক বায়িং’-এর কারণে হচ্ছে বলে মনে করছেন সরকার ও তেলের পাম্পের মালিক-ব্যবসায়ীরা। পাম্পের মালিক-ব্যবসায়ীরা বলছেন, প্রতিটি পাম্পের নির্দিষ্ট মজুদের ব্যবস্থা থাকে। আর প্রতিদিন কী পরিমাণ তেল বিক্রি হবে এরও একটি হিসাব থাকে। কিন্তু ইরান যুদ্ধের পর কয়েকদিন ধরে মানুষ অন্যান্য যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি তেল কিনছে। এ প্যানিক বায়িংয়ের কারণে দ্রুত তেল শেষ হয়ে গেছে। পাশাপাশি গত শুক্র ও শনিবার জ্বালানি তেলের ডিপো বন্ধ থাকায় পাম্পগুলোতে তেল সরবরাহ করা হয়নি, যে কারণে অনেক তেলের পাম্প বন্ধ ছিল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *