
সরবরাহ সংকটে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে প্রায় ৩% মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যকার সংঘাত আরো ছড়িয়ে পড়েছে।
মার্চ ৬, ২০২৬
শুক্রবারে পেট্রোলপাম্পে তীব্র ভিড়, জ্বালানি তেল সংগ্রহে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা
মার্চ ৬, ২০২৬দেশের পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর ২০২৫ সালে ব্যবসা থেকে যে হারে আয় ও মুনাফা বেড়েছে তার চেয়ে এ সময়ে আর্থিক ব্যয় বেশি হারে বেড়েছে।
একদিকে উচ্চমূল্যস্ফীতির কারণে মানুষের ক্রয় সক্ষমতা কমে যাওয়ার প্রভাবে ভোগের পরিমাণ কমেছে। অন্যদিকে নানামুখী ব্যয়ের চাপে বাড়ছে ব্যবসার খরচ। যার প্রভাব প্রতিফলিত হচ্ছে কোম্পানিগুলোর আর্থিক পারফরম্যান্সে।
পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ১৪৯টি কোম্পানির প্রকাশিত আর্থিক প্রতিবেদনের ভিত্তিতে একটি প্রতিবেদন তৈরি করেছে লায়ন সিটি অ্যাডভাইজরি লিমিটেড। এক্ষেত্রে ব্যাংক, বীমা ও আর্থিক খাতের কোম্পানিগুলোকে বিবেচনায় নেয়া হয়নি। আলোচ্য প্রতিবেদন অনুসারে, ২০২৫ সালে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর আয় আগের বছরের তুলনায় ৪ দশমিক ৮৪ শতাংশ বেড়েছে। এ সময়ে কোম্পানিগুলোর নিট মুনাফা প্রায় ১ শতাংশ বেড়েছে। এর বিপরীতে আর্থিক ব্যয় বেড়েছে ১১ দশমিক ৬৫ শতাংশ। মূলত সুদহার বেড়ে যাওয়ার কারণেই কোম্পানিগুলোর আর্থিক ব্যয় বেড়ে গেছে।
খাতভিত্তিক তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২০২৫ সালে ওষুধ ও রসায়ন খাতের কোম্পানিগুলোর আয় সবচেয়ে বেশি ১৩ শতাংশ বেড়েছে। এ সময়ে প্রকৌশল খাতে ১১ শতাংশ এবং সিরামিক ও সিমেন্ট খাতের কোম্পানিগুলোর আয় ১০ শতাংশ হারে বেড়েছে। অন্যদিকে এ সময়ে সবচেয়ে আয় কমেছে কাগজ ও মুদ্রণ খাতে ৪২ শতাংশ।
ব্যাংক ঋণের উচ্চ সুদহারের প্রভাবে ২০২৫ সালে ছয় খাতের কোম্পানিগুলোর আর্থিক ব্যয় দুই অংকের বেশি বেড়েছে। এর মধ্যে কাগজ ও মুদ্রণ খাতে সবচেয়ে বেশি ৫৫ শতাংশ ব্যয় বেড়েছে। এরপর টেলিযোগাযোগ খাতে ৪০, সিমেন্ট খাতে ৩৮, চামড়া খাতে ৩০, সিরামিক খাতে ২৩ এবং খাদ্য ও আনুষঙ্গিক খাতে ১৬ শতাংশ আর্থিক ব্যয় বেড়েছে।
২০২৫ সালের শেষ প্রান্তিক অর্থাৎ অক্টোবর-ডিসেম্বর সময়ে কোম্পানিগুলোর আয় ও মুনাফা সবচেয়ে বেশি কমেছে। মূলত রাজনৈতিক অস্থিরতা, উচ্চ সুদহার ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের কারণে এ সময়ে কোম্পানিগুলোর ব্যবসার ওপর প্রভাব পড়েছে। এ সময়ে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় কোম্পানিগুলোর আয় ২ দশমিক ৩ শতাংশ ও নিট মুনাফা ১১ দশমিক ৯ শতাংশ কমেছে।
চ্যালেঞ্জিং পরিস্থিতির মধ্যেও ওষুধ ও রসায়ন খাতের কোম্পানিগুলো ভালো পারফরম্যান্স করেছে। ২০২৫ সালের শেষ প্রান্তিকে এ খাতের কোম্পানিগুলোর আয় ১১ শতাংশ বেড়েছে। তাছাড়া এ সময়ে খাদ্য ও আনুষঙ্গিক খাতে ৯, ভ্রমণ ও অবকাশ খাতে ৫, টেলিযোগাযোগ খাতে ৪, সিরামিক খাতে ৩ ও বিবিধ খাতের কোম্পানিগুলোর আয় ১ শতাংশ বেড়েছে। অন্যদিকে ২০২৫ সালে অক্টোবর-ডিসেম্বর সময়ে কাগজ ও মুদ্রণ খাতে ৩১, প্রকৌশল খাতে ২০, চামড়া খাতে ১৫ ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতে ১২ শতাংশ আয় কমেছে।
গত বছরের শেষ প্রান্তিকে তিন খাতের কোম্পানির নিট মুনাফায় প্রবৃদ্ধি হয়েছে। এর মধ্যে বিবিধ খাতে ২৬ শতাংশ, খাদ্য ও আনুষঙ্গিক খাতে ১৪ এবং ওষুধ ও রসায়ন খাতে ৬ শতাংশ মুনাফা বেড়েছে। অন্যদিকে এ সময়ে সিরামিক খাতে ৩১৮, কাগজ ও মুদ্রণ খাতে ১২৬, বস্ত্র খাতে ৮৮, সিমেন্ট খাতে ৮৫, তথ্যপ্রযুক্তি খাতে ২৫ এবং সেবা ও আবাসন খাতে ২০ শতাংশ মুনাফা কমেছে। ২০২৫ সালের অক্টোবর-ডিসেম্বর সময়ে সাত খাতের কোম্পানিগুলোর আর্থিক ব্যয় বেড়েছে। এর মধ্যে সিরামিক খাতে ৪০ শতাংশ, সিমেন্ট খাতে ৩২, টেলিযোগাযোগ খাতে ১৫, খাদ্য ও আনুষঙ্গিক খাতে ৯ এবং কাগজ ও মুদ্রণ খাতে আর্থিক ব্যয় আগের তুলনায় ৬ শতাংশ বেড়েছে।


