প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে বিসিবির অভিনন্দন
ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০২৬
চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিল ৯ সচিবের
ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০২৬
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে বিসিবির অভিনন্দন
ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০২৬
চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিল ৯ সচিবের
ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০২৬

গোপনই থাকছে ট্রাম্পের গোপন নথি মামলার রিপোর্ট

ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদের পর হোয়াইট হাউস ছাড়ার সময় ফ্লোরিডার মার-এ-লাগো রিসোর্টে পারমাণবিক কর্মসূচিসহ জাতীয় প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত অত্যন্ত সংবেদনশীল নথি অবৈধভাবে নিজের কাছে রাখার অভিযোগে এ মামলাটি করা হয়েছিল। বিশেষ প্রসিকিউটর জ্যাক স্মিথ এই তদন্ত পরিচালনা করেন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে করা বহুল আলোচিত ‘গোপন নথি’ (ক্লাসিফাইড ডকুমেন্টস) মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জনসমক্ষে প্রকাশের ওপর স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন দেশটির একটি আদালত। সোমবার ফ্লোরিডাভিত্তিক ইউএস ডিস্ট্রিক্ট বিচারক আইলিন ক্যানন এই আদেশ দেন। আদালতের মতে, এই রিপোর্ট প্রকাশ করা হলে তা ট্রাম্প এবং তার সহযোগীদের প্রতি চরম ‘অবিচার’ হবে, কারণ এই মামলার অভিযোগগুলো কখনো জুরিবোর্ডের সামনে প্রমাণের সুযোগ পায়নি। খবর রয়টার্স।

ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদের পর হোয়াইট হাউস ছাড়ার সময় ফ্লোরিডার মার-এ-লাগো রিসোর্টে পারমাণবিক কর্মসূচিসহ জাতীয় প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত অত্যন্ত সংবেদনশীল নথি অবৈধভাবে নিজের কাছে রাখার অভিযোগে এ মামলাটি করা হয়েছিল। বিশেষ প্রসিকিউটর জ্যাক স্মিথ এই তদন্ত পরিচালনা করেন। তবে ২০২০ সালে ট্রাম্পের নিয়োগপ্রাপ্ত বিচারক আইলিন ক্যানন ২০২৪ সালেই মামলার সমস্ত অভিযোগ খারিজ করে দিয়েছিলেন। তার যুক্তি ছিল, বিশেষ প্রসিকিউটর হিসেবে জ্যাক স্মিথের নিয়োগ আইনিভাবে বৈধ ছিল না।

সোমবারের রায়ে বিচারক ক্যানন উল্লেখ করেছেন যে, কোনো অপরাধ প্রমাণিত হওয়ার আগেই এমন একটি বিস্তারিত রিপোর্ট প্রকাশ করা মৌলিক ন্যায়বিচারের ধারণার পরিপন্থী। যেহেতু ট্রাম্প এবং তার দুই সহযোগী— ব্যক্তিগত সহকারী ওয়াল্ট নাউটা এবং মার-এ-লাগো ম্যানেজার কার্লোস ডি অলিভেরা—আদালতে নিজেদের নির্দোষ দাবি করেছেন এবং মামলাটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে অভিহিত করেছেন, তাই তদন্তের বিস্তারিত তথ্য বাইরে আসা তাদের জন্য অবমাননাকর হতে পারে। ট্রাম্পের আইনজীবীরা এই রায়কে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, তথাকথিত ‘বিষবৃক্ষের কোনো ফলই’ (বেআইনি তদন্তের ফলাফল) যেন কখনো দিনের আলো না দেখে।

অন্যদিকে, এই রায়ের ফলে জনগণের তথ্য জানার অধিকার খর্ব হয়েছে বলে সরব হয়েছেন অধিকার কর্মীরা। সরকারি স্বচ্ছতা নিয়ে কাজ করা সংস্থা ‘আমেরিকান ওভারসাইট’এর নির্বাহী পরিচালক চিওমা চুকু বলেন, বিচারক ক্যাননের এই সিদ্ধান্ত এক ধরনের নেতিবাচক নজির সৃষ্টি করল, যেখানে জনস্বার্থের চেয়ে গোপনীয়তাকে বেশি গুরুত্ব দিয়ে প্রেসিডেন্টকে জনগণের জবাবদিহি থেকে আড়াল করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্প পুনরায় জয়লাভ করার পর বাইডেন প্রশাসনের বিচার বিভাগ এই মামলাটি পুনরায় সচল করার চেষ্টা থেকে সরে দাঁড়ায়। এর আগে নির্বাচনে পরাজয় উল্টে দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগে করা অন্য একটি মামলার তদন্ত প্রতিবেদন গত বছর প্রকাশিত হলেও, গোপন নথি সংক্রান্ত এই মামলাটির বিস্তারিত এখন স্থায়ীভাবে গোপনই থেকে যাচ্ছে। বিচারক ক্যানন তার রায়ে আরও জানান, গ্র্যান্ড জুরির গোপনীয় তথ্য রক্ষা করা এবং অবৈধভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত প্রসিকিউটরের কাজের আইনি বৈধতা না থাকাই এই নিষেধাজ্ঞার মূল কারণ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *