পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে চীনা রাষ্ট্রদূত এবং ভারত ও পাকিস্তানের হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরো এগিয়ে নেয়ার প্রত্যয়
ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০২৬
মুগ্ধতা ছড়াচ্ছে আমের মুকুল
ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০২৬
পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে চীনা রাষ্ট্রদূত এবং ভারত ও পাকিস্তানের হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরো এগিয়ে নেয়ার প্রত্যয়
ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০২৬
মুগ্ধতা ছড়াচ্ছে আমের মুকুল
ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০২৬

সংসদ অধিবেশনের আগেই ছায়া মন্ত্রিসভা ঘোষণা করতে চায় জামায়াত

\

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে সরকার গঠন করে বিএনপি। বিরোধী দল হিসেবে সংসদে যাচ্ছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।

জাতীয় সংসদে সরকারি দলের কার্যক্রম ও সিদ্ধান্ত যথাযথ পর্যবেক্ষণ ও নজরদারি করতে ছায়া মন্ত্রিসভা গঠনের কথা জানায় জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট। সংসদের প্রথম অধিবেশনের আগেই ছায়া মন্ত্রিসভা ঘোষণার পরিকল্পনা রয়েছে জামায়াতের। এতে ১১ দলীয় ঐক্যের সংসদ সদস্যদের পাশাপাশি নারী সদস্যও অন্তর্ভুক্ত থাকবেন। এছাড়া সংসদ সদস্যদের বাইরে বিভিন্ন বিষয়ে অভিজ্ঞ সাবেক আমলা, সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা, গবেষক, শিক্ষক, আইনজীবী ও ব্যবসায়ীদেরও ছায়া মন্ত্রিসভায় রাখা হতে পারে। দেশী-বিদেশী বিভিন্ন সংস্থায় কাজের অভিজ্ঞতা আছে—এমন বিশেষজ্ঞদেরও অন্তর্ভুক্ত করা হতে পারে। জামায়াতের দলীয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

গত সপ্তাহে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের নিয়ে জামায়াতের দুই দিনব্যাপী ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রামেও ছায়া মন্ত্রিসভা নিয়ে আলোচনা হয়। ছায়া মন্ত্রিসভার নেতৃত্বে থাকবেন নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা। তাদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেবেন বিশেষজ্ঞরা। পুরুষদের পাশাপাশি নারী ও ১১ দলীয় ঐক্যের দলগুলোর প্রতিনিধিরাও থাকবেন এ মন্ত্রিসভায়। এরই মধ্যে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় বা বিভাগের বিপরীতে শতাধিক অভিজ্ঞ সদস্যকে যুক্ত করে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে জামায়াত। তাদের পরামর্শ নিয়ে গঠিত হবে এ মন্ত্রিসভা।

এ বিষয়ে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বণিক বার্তাকে বলেন, ‘বাংলাদেশে ছায়া মন্ত্রিসভার কাঠামোর প্রচলন নেই। এবার বিরোধী দল হওয়ায় অনেক আগে থেকে আমরা কাজ করছি। আমাদের পলিসি সামিটে এটা নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। এটি একটি বিশেষজ্ঞ টিম। এখানে বিভিন্ন ক্ষেত্রের বিশেষজ্ঞদের রাখা হয়েছে, নারী সদস্যও থাকবেন। বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্য ও বিশেষজ্ঞরা বিভিন্ন মন্ত্রণালয় নিয়ে ছোট ছোট টিমে কাজ করবেন। যেহেতু প্রক্রিয়া চলছে, এখনো নির্দিষ্ট করে বলা যাচ্ছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘বিগত ১৬ বছর সংসদে নির্বাচিত সরকার ছিল না। এগুলোর কোনো চর্চাই হয়নি। এখন যেহেতু জুলাই আমাদের সে সুযোগ দিয়েছে তাই একটি গঠনমূলক ও কার্যকর সংসদ হোক। শুধু বিরোধিতার জন্যই বিরোধিতা নয়, জনগণ মানসম্মত আলোচনা দেখবে। সরকার যা করবে তার বিকল্প কী হতে পারে সে প্রস্তাব দেয়া হবে। পাশাপাশি সরকারের কাজ নজরদারিতে রাখা হবে ছায়া মন্ত্রিসভার কাজ।’

এর আগে ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের দিন ফল প্রকাশের আগে জামায়াতের জোটসঙ্গী জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া ছায়া মন্ত্রিসভা গঠনের কথা গণমাধ্যমকে জানান। এক ফেসবুক পোস্টে আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া লেখেন, ‘আমরা ছায়া মন্ত্রিসভা গঠনের প্রস্তুতি নিচ্ছি। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত এবং সার্বিক কার্যক্রমে ওয়াচডগ হিসেবে কাজ করবে ছায়া মন্ত্রিসভা। সরকারের প্রতিটি পদক্ষেপের ওপর তীক্ষ্ণ নজরদারি এবং গঠনমূলক সমালোচনা, পরামর্শ দেয়ার জন্য এমন একটি কাঠামো থাকা অত্যন্ত জরুরি। মূলত রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় অধিকতর স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনা এবং জনগণের কাছে শাসনের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করাই এ উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য।’

ছায়া মন্ত্রিসভার কথা জানান জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্যপ্রার্থী ও সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনিরও। গতকাল সন্ধ্যায় নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে লাইভে ছায়া মন্ত্রিসভা এবং কার্যকর বিরোধী দল গঠনের কথা জানান তিনি। এর আগে তিনি বণিক বার্তাকে জানান, জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের আগেই ছায়া মন্ত্রিসভার ঘোষণা হতে পারে। শিশির মনির বলেন, ‘সংসদে কার্যকরী বিরোধী দল হিসেবে ভূমিকা রাখতে আমরা ছায়া মন্ত্রিপরিষদ বা ছায়া মন্ত্রিসভা গঠন করতে কাজ করছি। এ সভার সদস্য নির্ধারণের বিষয়ে আমরা বর্তমানে বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি। এ বিষয়ে একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে পৃথকভাবে ও সম্মিলিতভাবেও আলোচনা হচ্ছে। প্রস্তাবিত কাঠামোয় সংসদ সদস্যদের পাশাপাশি বিভিন্ন ক্ষেত্রে যারা বিশেষজ্ঞ, অভিজ্ঞ ও দক্ষ তাদের অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এটি কেবল রাজনীতিকদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং যারা নিজ নিজ মন্ত্রণালয় কার্যকরভাবে পরিচালনা করার যোগ্যতা রাখেন, তাদেরই দায়িত্ব দেয়া হবে। এছাড়া প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের অধীনে উপদেষ্টা, গবেষক, সহকারী গবেষকসহ একটি শক্তিশালী কাঠামো থাকবে। দেশে ও বিদেশে বিভিন্ন সময়ে যারা গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন তাদেরও সংযুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। পুরো প্রক্রিয়াটি বর্তমানে চলমান রয়েছে। আমরা আশা করছি শিগগিরই একটি সুস্পষ্ট প্রস্তাব আপনাদের সামনে উপস্থাপন করতে পারব।’

কবে নাগাদ ছায়া মন্ত্রিসভা প্রকাশ করা হতে পারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘মন্ত্রিসভার সদস্য সংখ্যা বা বিস্তারিত কাঠামো নিয়ে আপাতত কিছু বলা সম্ভব নয়। তবে এটুকু বলা যায়, আগামী সংসদ অধিবেশন বসার আগেই সবকিছু চূড়ান্ত হবে এবং কার কী দায়িত্ব থাকবে, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্টভাবে জানানো হবে।’

জামায়াত ছাড়াও ১১ দলীয় জোটসঙ্গীরাও ছায়া মন্ত্রিসভায় স্থান পাবেন জানিয়ে জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য মতিউর রহমান আকন্দ বলেন, ‘যেহেতু বিরোধী দল হিসেবে ১১ দলীয় ঐক্য কার্যকর, সেখানে সবার অংশগ্রহণ থাকবে। জোটের ভিত্তিতে এটি গঠিত হবে।’

১৯৯১ সালের বিএনপি সরকার গঠনের পর বিরোধী দল হিসেবে আওয়ামী লীগ ছায়া মন্ত্রিসভা গঠনের কথা বললেও তা পরে কার্যকর করেনি। বাংলাদেশে এর প্রচলন না থাকলেও যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, কানাডাসহ উন্নত বিশ্বের অনেক দেশে ছায়া মন্ত্রিসভার প্রচলন রয়েছে। সরকারের মন্ত্রিসভায় যেমন বিভিন্ন দপ্তরের মন্ত্রী থাকেন, তেমনি বিরোধী দলের বিভিন্ন সদস্যকেও ছায়া মন্ত্রিসভায় একেকটি দপ্তরের দায়িত্ব দেয়া হয়। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের মন্ত্রী কী করছেন, তার ওপর নজর রাখেন তিনি।

ছায়া মন্ত্রিসভা তৈরি হলে কার্যকর সংসদীয় সংস্কৃতি তৈরি হবে বলে মনে করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক আসিফ মোহাম্মদ শাহান বলেন, ‘মৌলিকভাবে সরকারের একজন মন্ত্রীর বিপরীতে বিরোধী দলের একজন সংসদ সদস্য ছায়া মন্ত্রিসভার অংশ হিসেবে থাকেন। সরকারিভাবে তাদের কোনো দপ্তর থাকে না; তবে নিজ নিজ কাঠামো ব্যবহার করে সরকারের কার্যক্রমকে জবাবদিহির মধ্যে রাখা এবং নীতিগত মতামত দেয়ার কাজ করেন। বাংলাদেশে এ সংস্কৃতি এর আগে দেখা যায়নি। ১৯৯১ সালে বিরোধী দল এমনটা করার কথা বললেও পরে সেটা হয়নি। জবাবদিহিমূলক, গঠনমূলক ও কার্যকর সংসদ গড়ে তুলতে ছায়া মন্ত্রিসভা দরকার। আমি এটাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছি।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *