‘শহীদ মিনারে যাওয়া রাষ্ট্রীয় আচার হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেই এসেছি’— জামায়াত আমির
ফেব্রুয়ারি ২১, ২০২৬
হেফাজত আমিরকে উপদেষ্টা করার প্রস্তাব দিয়েছিল জামায়াত
ফেব্রুয়ারি ২১, ২০২৬
‘শহীদ মিনারে যাওয়া রাষ্ট্রীয় আচার হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেই এসেছি’— জামায়াত আমির
ফেব্রুয়ারি ২১, ২০২৬
হেফাজত আমিরকে উপদেষ্টা করার প্রস্তাব দিয়েছিল জামায়াত
ফেব্রুয়ারি ২১, ২০২৬

ঘুরতে গিয়ে ছিনতাই চক্রের কবলে পড়ে নিখোঁজ কলেজশিক্ষার্থী, দু’দিন পর ব্রহ্মপুত্র থেকে মরদেহ উদ্ধার

ময়মনসিংহ নগরের জয়নুল আবেদিন উদ্যান এলাকায় ব্রহ্মপুত্র নদের তীরে নিখোঁজ হওয়ার দুই দিন পর আনন্দ মোহন কলেজের এক শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) রাত পৌনে ১১টার দিকে নদের চরে ভেসে ওঠা মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

নিহত নুরুল্লাহ শাওন (২৬) আনন্দ মোহন কলেজ-এর রসায়ন বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র ছিলেন। তিনি কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার জালালপুর ইউনিয়নের চর জাকালিয়া গ্রামের মৃত রফিকুল ইসলামের ছেলে।

পুলিশ ও সহপাঠী সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার বিকেলে শাওন ও তাঁর বন্ধু মঞ্জুরুল আহসান (রিয়াদ) উদ্যান সংলগ্ন ব্রহ্মপুত্র নদের বিপরীত পাশে ঘুরতে যান। সন্ধ্যা ছয়টার দিকে অন্তত সাতজনের একটি কিশোর দল তাঁদের ঘিরে ধরে ছিনতাইয়ের চেষ্টা করে। নৌকা ভাড়া ছাড়া আর কোনো টাকা নেই জানালে দুই বন্ধুকে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে শাওন প্রতিবাদ করলে তাঁকে বেদম মারধর করা হয়। পরে দুই বন্ধু দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করলে চারজন শাওনের পিছু নেয় এবং তিনজন মঞ্জুরুলের পিছু নেয়। মঞ্জুরুল নদে নেমে সাঁতরে পার হতে সক্ষম হলেও শাওন নিখোঁজ হন।

মঞ্জুরুল তীরে উঠে স্থানীয়দের সহায়তায় ১৫ বছর বয়সী এক অভিযুক্তকে ধরে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন। পরদিন সকালে নদপাড়ে শাওনের ব্যাগ ও জুতা পাওয়া যায়। ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল নদে তল্লাশি চালালেও তখন তাঁর সন্ধান মেলেনি। পরে শুক্রবার রাতে নৌকার মাঝিরা নদের চরে মরদেহ দেখতে পেয়ে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন দেন। খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে।

এ ঘটনায় নিহতের মা সাহিদা বেগম বাদী হয়ে কোতোয়ালি মডেল থানা-য় সাতজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরও তিন-চারজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। অভিযুক্তদের সবার বয়স ১৩ থেকে ১৬ বছরের মধ্যে বলে জানা গেছে। এরই মধ্যে ১৫ বছর বয়সী একজনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে সহপাঠী ও বন্ধুরা ঘটনাস্থলে ভিড় করেন এবং জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচার দাবি করেন। নিহতের বন্ধু শোয়াইব আক্তার অভিযোগ করেন, অভিযুক্তদের নাম-ঠিকানা দেওয়ার পরও পুলিশ দ্রুত ব্যবস্থা নেয়নি।

ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নাজমুস সাকিব বলেন, মরদেহ উদ্ধারের পর ময়নাতদন্তের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। মৃত্যুর সঠিক কারণ তদন্ত সাপেক্ষে জানা যাবে। এ ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *