
গাইবান্ধায় নির্বাচনের সরঞ্জামসহ উল্টে পড়ল গাড়ি
ফেব্রুয়ারি ১২, ২০২৬
দেশের সব কেন্দ্রে পৌঁছেছে ব্যালটসহ নির্বাচনী সরঞ্জাম
ফেব্রুয়ারি ১২, ২০২৬ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আজ সকাল সাড়ে ৭টায় শুরু হচ্ছে ভোটগ্রহণ।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আজ সকাল সাড়ে ৭টায় শুরু হচ্ছে ভোটগ্রহণ। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এবার খুলনার ছয়টি আসনে বিভিন্ন দলের ৩৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে বিএনপির ছয়, জামায়াতে ইসলামীর পাঁচ এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের পাঁচ প্রার্থী রয়েছেন। এছাড়া জাতীয় পার্টি চারটি ও সিপিবি তিনটি আসনে প্রার্থী দিয়েছে। খেলাফতে মজলিস, ইসলামী ফ্রন্ট, জেএসডি, বাসদ, বাংলাদেশ মাইনরিটি জাতীয় পার্টি, গণঅধিকার পরিষদ, বাংলাদেশ সম অধিকার পরিষদ ও এনডিএম একটি করে আসনে প্রার্থী দিয়েছে। বাকিরা স্বতন্ত্র প্রার্থী। তবে প্রার্থী ও তাদের দলীয় নেতাকর্মীরা বলছেন, বেশির ভাগ প্রার্থীই সব ভোটকক্ষে পোলিং এজেন্ট দিতে পারছেন না।
অন্তত ১২ জন প্রার্থীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তারা কেউ সব ভোটকক্ষে এজেন্ট দিতে পারছেন না। তাদের মতো এমন প্রার্থীর সংখ্যা অন্তত ২২ জন হবে। একজনও এজেন্ট দিচ্ছেন না, এমন প্রার্থীও রয়েছেন। তবে সব ভোটকক্ষের জন্য পোলিং এজেন্টের তালিকা চূড়ান্ত করেছেন বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীরা। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) প্রার্থীরাও এজেন্টের তালিকা প্রস্তুত করেছেন। অন্য দলের অধিকাংশ প্রার্থী কেবল কিছু নির্বাচনী কেন্দ্রে এজেন্ট দেয়ার প্রস্তুতি নিয়েছেন।
বিশ্লেষকরা বলছেন, পোলিং এজেন্টের সংখ্যার মাধ্যমে প্রার্থীদের সাংগঠনিক শক্তি ও সম্ভাব্য ফলাফল সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। তাদের মতে, খুলনায় মূল লড়াই হবে বিএনপি ও জামায়াত প্রার্থীদের মধ্যে।
এ প্রসঙ্গে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) খুলনা জেলার সাধারণ সম্পাদক কুদরত-ই-খুদা বলেন, ‘খুলনায় বড় দল ছাড়া অধিকাংশ প্রার্থীই নতুন ও অপরিচিত। তাদের সাংগঠনিক সক্ষমতাও সীমিত। এখানে মূল লড়াই হবে বিএনপি ও জামায়াত প্রার্থীদের মধ্যে।’
খুলনা নাগরিক সমাজের সদস্য সচিব মো. বাবুল হাওলাদার বলেন, ‘বড় দল বাদে অন্য দলের অধিকাংশ প্রার্থীই অপরিচিত। পোলিং এজেন্ট দিতে কর্মী সমর্থক ও অর্থের প্রয়োজন, যা অনেকেরই নেই।’
খুলনা-১ আসনে বিএনপি, জামায়াত, ইসলামী আন্দোলন ও সিপিবির বাইরে অন্য দলের সাংগঠনিক ভিত্তি একেবারে নাজুক। আসনটির ১২ জন প্রার্থীর মধ্যে অন্তত নয়জন সব ভোটকক্ষে এজেন্ট দিতে পারছেন না বলে জানা গেছে।
বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের প্রার্থী সুনীল শুভ রায় বলেন, ‘প্রতিটি ভোটকক্ষে হয়তো পারব না, এটা ব্যয়বহুল। তবে প্রতিটি কেন্দ্রে এজেন্ট থাকবে।’ একই কথা বলেছেন সিপিবির প্রার্থী কিশোর কুমার রায়।
খুলনা-২ আসনে বিএনপি, জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলনের সাংগঠনিক অবস্থা শক্ত হওয়ায় প্রায় সব বুথে তাদের এজেন্ট থাকবে। আসনটিতে ভালো অবস্থানে থাকা বিএনপি প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, ‘সব ভোটকক্ষের জন্য এজেন্ট তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে।’
খুলনা-৩ আসনে ১০ জন প্রার্থী রয়েছেন। তাদের মধ্যে অন্তত ছয়জন প্রার্থী সব ভোটকক্ষে এজেন্ট দিতে পারছেন না। আসনটিতে বাসদ মনোনীত মই প্রতীকের প্রার্থী জনার্দন দত্ত বলেন, ‘প্রতিটি বুথে আমরা এজেন্ট দিতে পারব না। ২৫-৩০ জন এজেন্ট আমরা দেব।’
স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ফুটবল প্রতীকে লড়ছেন মঈন মোহাম্মদ মায়াজ। তিনি বলেন, ‘প্রথমবার নির্বাচন করছি। সব কক্ষে এজেন্ট দিতে পারব না, তবে চেষ্টা থাকবে।’
অবশ্য জাতীয় পার্টির প্রার্থী মো. আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘সব কক্ষে এজেন্ট দেয়ার মতো লোক আমাদের আছে। দেখি কী করা যায়।’
একই অবস্থা দেখা গেছে খুলনা-৪ আসনেও। রূপসা, তেরখাদা ও দিঘলিয়া উপজেলা নিয়ে গঠিত এ আসনে নির্বাচন করছেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির তথ্যবিষয়ক সম্পাদক আজিজুল বারী হেলাল। আসনটি জামায়াত ছেড়ে দিয়েছে খেলাফত মজলিসের এসএম সাখাওয়াত হোসাইনকে। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এখানে প্রার্থী করেছে দলটির মহাসচিব ইউনূস আহম্মেদ শেখকে। এছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন সাবেক বিএনএম নেতা এসএম আজমল হোসেন। তিনি বলেন, ‘৭৫৮টি বুথের মধ্যে ৬০০টিতে এজেন্ট দেয়ার পরিকল্পনা করেছি।’
খুলনা-৫ আসনে ভোট কেন্দ্র রয়েছে ১৫০টি। এসব কেন্দ্রে বুথ রয়েছে ৮০৭টি। আসনটিতে জামায়াতের মিয়া গোলাম পরওয়ার ও বিএনপির মোহাম্মদ আলী আসগার লবি ছাড়া অন্য দুই প্রার্থী সব বুথে এজেন্ট দিতে পারছেন না বলে জানিয়েছেন তাদের কর্মীরা। খুলনার একমাত্র নারী প্রার্থী জাতীয় পার্টির শামিম আরা পারভীন ইয়াসমীনও এ আসনের প্রার্থী।
আসনটিতে সিপিবির প্রার্থী চিত্ত রঞ্জন গোলদার বলেন, ‘সব ভোটকক্ষে এজেন্ট দিতে পারছি না। তবে সব কেন্দ্রে দেয়ার চেষ্টা রয়েছে।’
খুলনা-৬ আসনে ১৫৫টি ভোট কেন্দ্রে বুথ রয়েছে ৮৪৭টি। এ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বিএনপির এসএম মনিরুল হাসান বাপ্পি, জামায়াতের আবুল কালাম আজাদ, জাতীয় পার্টির মোস্তফা কামাল জাহাঙ্গীর, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. আসাদুল্লাহ ফকির ও বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির প্রশান্ত কুমার মণ্ডল। এখানেও বিএনপি ও জামায়াতের বাইরে অন্য প্রার্থীরা সব বুথে এজেন্ট দিতে পারছেন না।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, বিভাগটিতে ৩৬টি সংসদীয় আসনে ভোটার সংখ্যা ১ কোটি ৪০ লাখ ৮০ হাজার ৭২২ জন। এ অঞ্চলে মোট ভোট কেন্দ্র ৫ হাজার ১৩৩টি। এর মধ্যে ২ হাজার ৬৯৩টি কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। যার মধ্যে ৮৪২টি অধিক ঝুঁকিপূর্ণ ও ১ হাজার ৮৫১টি ঝুঁকিপূর্ণ। খুলনা জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, খুলনা-৫ ও খুলনা-৬ আসনকে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বিদ্যমান রয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা আ স ম জামশেদ খোন্দকার।
তিনি বলেন, ‘জেলার ছয়টি সংসদীয় আসনের ৮৪০ কেন্দ্র সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়েছে। প্রতিটি উপজেলায় দুই প্লাটুন বিজিবি ও দুই প্লাটুন আনসার টহলে থাকবে। প্রতিটি কেন্দ্রে ১৩ জন আনসার সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। তাদের মধ্যে চারজন করে থাকবেন অস্ত্রধারী। এছাড়া সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার সঙ্গে একজন করে অস্ত্রধারী আনসার সদস্য থাকবেন। প্রতিটি উপজেলায় দুজন করে ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করছেন। খুলনা শহর ও বাইরে ৪০ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এবং ১৪ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করছেন। এরই মধ্যে সেনাবাহিনী স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে কাজ শুরু করেছে। ভোটাররা নিরাপদে ও নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারবেন।’


