
নির্বাচন সামনে রেখে রাজধানীতে তল্লাশি অভিযান জোরদার
ফেব্রুয়ারি ১১, ২০২৬
রাজধানীর ৬০ ফিট মনিপুর বয়েজ হাইস্কুল কেন্দ্র থেকে ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন জামায়াত আমির
ফেব্রুয়ারি ১১, ২০২৬সারা দেশে ২৪ হাজার ভোট কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ বলে জানিয়েছেন পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম। তিনি বলেন, ‘আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৪২ হাজার ৭৭৯টি ভোট কেন্দ্র।
সারা দেশে ২৪ হাজার ভোট কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ বলে জানিয়েছেন পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম। তিনি বলেন, ‘আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৪২ হাজার ৭৭৯টি ভোট কেন্দ্র। এর মধ্যে ৮ হাজার ৭৭০টি অত্যন্ত এবং ১৬ হাজার ভোট কেন্দ্র মধ্যম ঝুঁকিপূর্ণ। এসব কেন্দ্রে বাড়তি পুলিশ ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন থাকবেন।’ নির্বাচনের সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে গতকাল রাজধানীর আব্দুল গণি রোডের পুলিশ কমান্ড সেন্টারের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশপ্রধান এ কথা বলেন।
এবারের নির্বাচনে নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার করা হচ্ছে জানিয়ে আইজিপি বাহারুল আলম বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনের উদ্যোগে ৮০-৯০ শতাংশ ভোট কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে পুলিশের পক্ষ থেকে বডি ক্যামেরা ব্যবহার করা হবে। পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী জেলা পুলিশ সুপাররা ড্রোন ক্যামেরার সহায়তা নেবেন। আমরা ইতিহাসে একটি উদাহরণ তৈরি করতে চাই, যাতে এ নির্বাচন হয় শান্তিপূর্ণ, উৎসবমুখর ও গ্রহণযোগ্য। কতটা সফল হলাম, তার মূল্যায়ন করবে দেশবাসী।’
ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে বাড়তি সতর্কতা ও অতিরিক্ত জনবল মোতায়েন থাকবে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘নির্বাচনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তিনস্তরবিশিষ্ট নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। প্রতিটি ভোট কেন্দ্রে স্ট্যাটিক ফোর্স থাকবে, কেন্দ্রের বাইরে মোবাইল টিম টহল দেবে এবং যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রস্তুত থাকবে স্ট্রাইকিং ফোর্স।’
নির্বাচনী সহিংসতার চিত্র তুলে ধরে আইজিপি বলেন, ‘গত ১১ ডিসেম্বর থেকে ৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সারা দেশে ৩১৭টি সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। এতে পাঁচজন নিহত এবং ৬০৩ জন আহত হয়েছেন। একটি মৃত্যুও আমাদের জন্য দুর্ভাগ্যজনক। তাই চেষ্টা করেছি যেন একটি মৃত্যুও না ঘটে। প্রতিটি ঘটনার তদন্ত চলছে।’
অস্ত্র উদ্ধার প্রসঙ্গে পুলিশপ্রধান জানান, এ পর্যন্ত প্রায় ১ হাজার ৩৩০টি অবৈধ ও লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। এসব অস্ত্র নির্বাচনকালীন বড় হুমকি হিসেবে বিবেচিত। এছাড়া লাইসেন্সকৃত ব্যক্তিগত অস্ত্রের মধ্যে এক হাজারের বেশি লুট হয়েছিল, যার মধ্যে এখন পর্যন্ত প্রায় ১ হাজার ৩৩০টি উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। সাংবাদিকদের সঙ্গে পুলিশের আচরণ নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে আইজিপি বাহারুল আলম বলেন, ‘কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে। দীর্ঘ সময়ের ফ্যাসিস্ট শাসনের কারণে পুলিশের মধ্যে যে মানসিকতা তৈরি হয়েছিল, তা এক বছরে পুরোপুরি বদলানো সম্ভব হয়নি। তবে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে পরিবর্তনের চেষ্টা চলছে। ইউনেস্কো ও ইউএনওডিসির সহায়তায় সাংবাদিকদের সঙ্গে পেশাদার আচরণ বিষয়ে পুলিশ সদস্যদের প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে।’
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট জেল থেকে পালানো আসামি ও জঙ্গি-হুমকি প্রসঙ্গে আইজিপি বলেন, ‘নির্বাচনে প্রচারণাকালীন কিছু আশঙ্কা থাকলেও বড় কোনো ঘটনা ঘটেনি। বর্তমানে নির্বাচনকে ব্যাহত করার মতো কোনো শক্তিশালী জঙ্গি হুমকি নেই।’
পুলিশপ্রধান বলেন, ‘আমরা আজ এক নতুন বিশ্বে দাঁড়িয়ে আছি। সাইবার জগতে অপরাধ বাড়ছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জনমত গড়ে উঠছে। বর্তমান বাস্তবতায় কেবল শারীরিক শক্তি বা প্রথাগত পদ্ধতিতে পুলিশিং করলে হবে না। এখন প্রয়োজন বুদ্ধিমত্তা, বৈশ্বিক সচেতনতা এবং প্রযুক্তিগত অভিযোজন সক্ষমতা।’


