
ভোটের দিন চলবে মেট্রোরেল
ফেব্রুয়ারি ৯, ২০২৬নির্বাচনকালীন ৯৬ ঘণ্টা বন্ধ থাকবে ইন্টারনেট ব্যাংকিং মোবাইল ব্যাংকিংয়ে পাঠানো যাবে না হাজার টাকার বেশি
ফেব্রুয়ারি ৯, ২০২৬অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ অবশিষ্ট আছে আর মাত্র কয়েকদিন। সময় ফুরিয়ে এলেও উড়োজাহাজ ক্রয় নিয়ে বোয়িংয়ের সঙ্গে আলোচনা এখনো চলমান থাকার কথা জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন।
অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ অবশিষ্ট আছে আর মাত্র কয়েকদিন। সময় ফুরিয়ে এলেও উড়োজাহাজ ক্রয় নিয়ে বোয়িংয়ের সঙ্গে আলোচনা এখনো চলমান থাকার কথা জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন। এক দশকে বোয়িং থেকে ১৪টি উড়োজাহাজ কিনবে বাংলাদেশ। তবে অন্তর্বর্তী সরকারের এ সময়ে চুক্তি করতে পারবেন কিনা সে সম্পর্কে স্পষ্ট কোনো তথ্য দিতে পারেননি উপদেষ্টা।
সচিবালয়ে গতকাল আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে শেখ বশিরউদ্দীন বলেন, ‘আমরা যে চুক্তি বোয়িংয়ের সঙ্গে করতে যাচ্ছি, এটা ২০৩৫ সাল নাগাদ মাত্র ১৪টা প্লেন নিয়ে কথা বলছি। এবং এই প্লেন ক্রয়প্রস্তাব বোয়িং এবং এয়ারবাসকে একসঙ্গে বিশ্লেষণ করে টেকনো ইকোনমিক ফিজিবিলিটি করে একটা প্রস্তাব পাঠানো হয়। এ প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর থেকে এটার প্রাইস নেগোসিয়েশন করার জন্য ডক্টর ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ স্যারকে হেড করে একটা নেগোসিয়েশন টিম করা হয়। যে টিম এই বোয়িংয়ের সঙ্গে নেগোশিয়েট করছে। এ নেগোশিয়েশন এখনো চলমান আছে। এই চলমান প্রক্রিয়া শেষ করতে পারলে আলহামদুলিল্লাহ, শেষ না করতে পারলে দুঃখজনকভাবে আমরা আমাদের প্রকিউরমেন্টটা কমপ্লিট করতে পারব না।’
তিনি বলেন, ‘আমরা ২৫টা উড়োজাহাজের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম। ২৫টা বোয়িং প্লেন আমরা যখন ক্রয়ের একটা প্রস্তাবনা দিই, এ প্রস্তাব ২০২৪ সাল থেকে চলমান একটা প্রক্রিয়া। বাংলাদেশ বিমানের বাংলাদেশ এয়ারপোর্ট থেকে গত বছর ১ কোটি ৬০ লাখের ওপর যাত্রী পরিবাহিত হয়েছে। এর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস মাত্র ২০ লাখ যাত্রী পরিবহন করেছে আন্তর্জাতিক রুটে। তার মানে প্রায় এক-দেড় কোটির মতো রাফলি প্যাসেঞ্জার বিমান ক্যারি করতে পারেনি।’
উপদেষ্টা বলেন, ‘আমি যখন ঢাকা এয়ারপোর্টের দিকে তাকাই তখন আমি অনেকগুলো বিদেশী এয়ারলাইনসের ফাঁকে ফাঁকে কয়েকটা বাংলাদেশী প্লেন দেখি। কিন্তু আমি যখন থাইল্যান্ডে যাই তখন অনেকগুলো থাই এয়ারলাইনসের ভেতরে অল্প কয়েকটা বিদেশী প্লেন দেখি। আমি যখন টোকিও এয়ারপোর্টের দিকে তাকাই তখন অনেকগুলো জাপান এয়ারলাইনসের প্লেনের মাঝে মাঝে দুই-একটা বিদেশী প্লেন দেখি। আমি যখন মালয়েশিয়ান এয়ারলাইনসে করে কুয়ালালামপুরে যাই তখন অনেকগুলো মালয়েশিয়ান এয়ারলাইনসের মধ্যে কয়েকটা মাত্র বিদেশী প্লেন দেখি। কিন্তু ঢাকায় এলে চিত্রটা সম্পূর্ণ উল্টো। এ উল্টো হওয়ার কারণ হচ্ছে যে আমার যাত্রী পরিবহনের সক্ষমতা নেই।’
শেখ বশিরউদ্দীন বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আমাদের রফতানি আয় ১ লাখ কোটি টাকার উপর। আমরা যে বিমান ক্রয়ের প্রস্তাব করছি সেটার মূল্যমান হয়তোবা ৩০-৩৫ হাজার কোটি টাকা হবে। সেটা আমাদের মূল্য পরিশোধ করতে হবে ১০ বছরে। ইনফ্যাক্ট আরো বেশি সময়। কারণ এটার মানে পেমেন্ট শিডিউল অনেক লং টার্ম, হয়তোবা ২০ বছরে মূল্য পরিশোধ করতে হবে। হয়তোবা বছরে আমাদের দেড় হাজার বা ২ হাজার কোটি টাকা পরিশোধ করতে হবে। অ্যাগেইনস্ট রফতানি সম্ভাবনা বর্তমানে ১ লাখ কোটি টাকা, ৩৭ শতাংশের যে ট্যারিফ আমাদের ওপর আরোপ হয়েছিল, যেটাকে আমরা নেগোশিয়েট করে ২০ শতাংশে নামিয়েছিলাম। যদি আমাদের এ চুক্তিটা মানে প্রকাশিত না হতো, নিশ্চিতভাবে আমরা ২০ শতাংশের থেকেও কম পেতাম। দুঃখজনকভাবে আমরা ওখানে বিব্রত হয়েছি। পৃথিবীতে একমাত্র দেশ যেখান থেকে এ চুক্তির শর্তগুলো সারা দুনিয়ায় প্রকাশিত হয়েছে। তার পরও তাৎপর্যপূর্ণভাবে আমাদের প্রতিযোগী দেশগুলো থেকে আমরা ২০ শতাংশে ট্যারিফ নামিয়ে নিয়ে এসেছি। আমরা আশা করছি যে ৯ তারিখে, আমরা চেষ্টা করছিলাম যে আরো কত কমানো যায়। কতটুকু কমবে—এ মুহূর্তে আমি বলতে চাচ্ছি না, পারছিও না আপনাদেরকে।’


