নির্বাচনে আইন-শৃঙ্খলার দায়িত্বে ২৭ হাজার নতুন মুখ
ফেব্রুয়ারি ৭, ২০২৬
পটুয়াখালীর বাউফলে জামায়াত আমির ক্ষমতায় গেলে মিথ্যা মামলা দিয়ে কাউকে হয়রানি করব না
ফেব্রুয়ারি ৭, ২০২৬
নির্বাচনে আইন-শৃঙ্খলার দায়িত্বে ২৭ হাজার নতুন মুখ
ফেব্রুয়ারি ৭, ২০২৬
পটুয়াখালীর বাউফলে জামায়াত আমির ক্ষমতায় গেলে মিথ্যা মামলা দিয়ে কাউকে হয়রানি করব না
ফেব্রুয়ারি ৭, ২০২৬

আধুনিক স্বাস্থ্য, কর্মমুখী শিক্ষা, দুর্নীতি দমন ও আইনের শাসনে অগ্রাধিকার বিএনপির

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ইশতাহার ঘোষণা করছে বিএনপি। গতকাল বিকালে রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁওয়ে এ ইশতাহার ঘোষণা করেন দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ইশতাহার ঘোষণা করছে বিএনপি। গতকাল বিকালে রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁওয়ে এ ইশতাহার ঘোষণা করেন দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ‘মানবিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র’ বিনির্মাণের প্রতিশ্রুতিতে নয়টি বিষয়ে অগ্রাধিকার দিয়ে এ ইশতাহার সাজানো হয়েছে। এতে আধুনিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থা নিশ্চিত, কর্মমুখী শিক্ষানীতি, দুর্নীতি দমন, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছে বিএনপি।

ইশতাহারে দলটি প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, আগামী নির্বাচনে জনগণের ভোটে রাষ্ট্রক্ষমতায় গেলে প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সর্বোচ্চ ১০ বছর এবং উপরাষ্ট্রপতি পদ সৃষ্টি করা হবে। একই সঙ্গে সংসদের উচ্চকক্ষ প্রবর্তন, বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার এবং উচ্চকক্ষে ২০ শতাংশ নারী অংশগ্রহণ নিশ্চিত করবে।

দলটি প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, দুর্নীতির বিষয়ে কোনো আপস করবে না তারা। সমাজের সর্বস্তরে দুষ্টক্ষতের মতো ছড়িয়ে পড়া দুর্নীতির লাগাম টেনে ধরার জন্য পদ্ধতিগত ও আইন সংস্কারের পাশাপাশি স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা হবে।

দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সভাপতিত্বে ইশতাহার ঘোষণা অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন দলের কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব রুহুল কবির রিজভী।

অনুষ্ঠানের সূচনা বক্তব্যে তারেক রহমান বলেন, ‘বিএনপি ক্ষমতায় গেলে সংবিধানে “আল্লাহর ওপর আস্থা ও বিশ্বাস” সংযোজন করবে। সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা হবে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা এক ব্যক্তির দুইবারের বেশি প্রধানমন্ত্রী না হওয়ার বিধান চালু করব। তাছাড়া সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের বিষয়টি উন্মুক্ত করব। উপরাষ্ট্রপতি পদ সৃষ্টি, সংসদের উচ্চকক্ষ প্রবর্তন, বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার ও উচ্চকক্ষে ২০ শতাংশ নারী অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হবে।’

এছাড়া জুলাই সনদ বাস্তবায়নে অগণতান্ত্রিক সংশোধনী বাতিল, ৩১ দফার ভিত্তিতে সংস্কার, রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার ভারসাম্য আনা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, আন্তর্জাতিক চুক্তিতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত, স্বাধীন নির্বাচন কমিশন গঠনসহ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে দলটি।

বিএনপি বলছে, ‘এ ইশতাহার কেবল নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি নয়, এটি একটি নতুন সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় চুক্তির ঘোষণা। বিএনপি প্রতিশোধ নয়; ন্যায় ও মানবিকতার রাজনীতিতে বিশ্বাস করে।’

নির্বাচনে জয়ী হয়ে ক্ষমতায় যেতে পারলে দুর্নীতি দমন এবং আইনের শাসন ও জবাবদিহি প্রতিষ্ঠায় সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘আমরা যদি এ তিনটির ব্যাপারে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ না করি, তাহলে আমরা কোনো পরিকল্পনাকেই সফল করে গড়ে তুলতে পারব না।’

বিএনপির ইশতাহারে যে নয়টি প্রধান প্রতিশ্রুতির কথা উল্লেখ করা হয়েছে, সেগুলো হলো—

১. প্রান্তিক ও নিম্ন আয়ের পরিবারকে সুরক্ষা দিতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু করে প্রতি মাসে ২ হাজার ৫০০ টাকা অথবা সমমূল্যের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে। অর্থসেবার এ পরিমাণ পর্যায়ক্রমে বাড়ানো হবে।

২. কৃষকের উৎপাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে ‘কৃষক কার্ড’-এর মাধ্যমে ভর্তুকি, সহজ ঋণ, কৃষি বীমা ও রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় বাজারজাত জোরদার করা হবে। মৎস্যচাষী, পশুপালনকারী খামারি ও কৃষি খাতের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরাও এ সুবিধা পাবেন।

৩. দুর্নীতিমুক্ত ও মানবিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থা গড়ে তুলতে দেশব্যাপী এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ করা হবে। জেলা ও মহানগর পর্যায়ে মানসম্মত চিকিৎসা, মা ও শিশুর পূর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্যসেবাসহ রোগ প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হবে।

৪. আনন্দময় ও কর্মমুখী শিক্ষা ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বাস্তব দক্ষতা ও মূল্যবোধভিত্তিক শিক্ষানীতি প্রণয়ন করা হবে। প্রাথমিক শিক্ষায় সর্বাধিক গুরুত্ব, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিসহায়তা ও ‘মিড-ডে মিল’ চালু করা হবে।

৫. তরুণদের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, কারিগরি ও ভাষা দক্ষতা উন্নয়ন, স্টার্টআপ ও উদ্যোক্তা সহায়তা, বৈশ্বিক ই-কমার্স প্লাটফর্মে যুক্তকরণসহ মেধাভিত্তিক সরকারি নিয়োগ নিশ্চিত করা হবে।

৬. ক্রীড়াকে পেশা ও জীবিকার মাধ্যম হিসেবে গড়ে তুলতে জেলা-উপজেলা পর্যায়ে ক্রীড়া অবকাঠামো ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা সম্প্রসারণ করা হবে।

৭. পরিবেশ রক্ষা ও জলবায়ু সহনশীলতা জোরদারে দেশপ্রেমী জনগণের স্বেচ্ছাশ্রম ও সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে ২০ হাজার কিলোমিটার নদী-খাল খনন ও পুনঃখনন, পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ ও আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা চালু করা হবে।

৮. ধর্মীয় ও সামাজিক সম্প্রীতি সুদৃঢ় করতে সব ধর্মের উপাসনালয়ের ধর্মীয় নেতাদের জন্য সম্মানী ও প্রশিক্ষণভিত্তিক কল্যাণ ব্যবস্থা চালু করা হবে।

৯. ডিজিটাল অর্থনীতি ও বৈশ্বিক সংযোগ বাড়াতে আন্তর্জাতিক পেমেন্ট সিস্টেম (পেপাল) চালু, ই-কমার্সের আঞ্চলিক হাব স্থাপন ও ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ পণ্যের রফতানি সম্প্রসারণ করা হবে।

ইশতাহারকে পাঁচটি ভাগে বিভক্ত করা হয়েছে। এতে মোট ৫১টি দফায় আগামী পাঁচ বছরের পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, প্রবাসী কার্ড চালু, জনগণের কল্যাণে বহুমুখী সহায়তা কর্মসূচি, যুবকদের জন্য ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি, ট্রিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগভিত্তিক অর্থনীতি গড়ে তোলা এবং জাতি গঠনে ‘ন্যাশনাল রিকনসিলিয়েশন কমিশন’ গঠনসহ দেশের কাঠামো ও পরিবেশের উন্নয়নে নানা পরিকল্পনা।

ইশতাহারে আওয়ামী লীগের শাসনামলে পুঁজিবাজারে সংঘটিত অনিয়ম ও কেলেঙ্কারির তদন্ত, খতিব-ইমাম-মুয়াজ্জিনদের মাসিক সম্মানী প্রদানসহ বিভিন্ন জনমুখী ইস্যুকে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে দুর্নীতিকে প্রশ্রয় না দেয়া, মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের নির্ভুল তালিকা প্রণয়ন এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের বিচার নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি রয়েছে। নারী ও তরুণদের আকাঙ্ক্ষাকে গুরুত্ব দিয়ে এবং ‘জুলাই জাতীয় সনদ’-এর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ইশতাহারের বিষয়বস্তু চূড়ান্ত করা হয়েছে।

ইশতাহারে উল্লেখ করা হয়, স্বাধীনতার ঘোষক প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ১৯ দফা, খালেদা জিয়ার ভিশন-২০৩০, তারেক রহমানের রাষ্ট্র মেরামতের ৩১ দফা ও জুলাই জাতীয় সনদে যেসব বিষয়ে যে আঙ্গিকে ঐকমত্য হয়েছে, সেগুলো সেভাবেই বাস্তবায়নে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়া হবে।

নির্বাচন ব্যবস্থা ও সংবিধানে প্রয়োজনীয় সংস্কারের ওপর গুরুত্বারোপ করে বিএনপি বলেছে, ‘ভোটকে রাষ্ট্রক্ষমতায় একমাত্র বৈধ উৎস হিসেবে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা হবে। নির্বাচন ব্যবস্থা ও সংবিধানে প্রয়োজনীয় সংস্কারের মাধ্যমে একটি টেকসই গণতান্ত্রিক কাঠামো গড়ে তোলা হবে। ফ্যাসিবাদ ও বিদেশী তাঁবেদারিত্বের কোনো পুনরাবৃত্তি আর হতে দেয়া হবে না।’

মুক্তিযোদ্ধাদের রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ও স্বীকৃতি নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে নিবিড় জরিপের ভিত্তিতে মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের নির্ভুল তালিকা প্রণয়ের অঙ্গীকার করা হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস তুলে ধরা ও এর স্মৃতি সংরক্ষণ করা হবে। মুক্তিযোদ্ধা উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগে উৎসাহ দেয়া হবে।

এছাড়া জুলাই গণ-অভ্যুত্থান ও গত ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে শহীদদের নিজ নিজ এলাকায় তাদের নামে সরকারি স্থাপনার নামকরণ করা হবে। আন্দোলনে যারা পঙ্গু হয়েছেন বা চোখ হারিয়েছেন, তাদের স্বীকৃতি, উন্নত চিকিৎসা ও কর্মসংস্থানে সহায়তা দেয়া হবে। শহীদ পরিবার ও যোদ্ধাদের সার্বিক সহায়তা নিশ্চিত করা হবে এবং তাদের কল্যাণে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে একটি পৃথক বিভাগ প্রতিষ্ঠা করা হবে।

রাষ্ট্রকাঠামো মেরামতে ঘোষিত ৩১ দফার আলোকে ভুক্তভোগীকেন্দ্রিক ও পুনর্বাসনমূলক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় একটি ‘ট্রুথ অ্যান্ড হিলিং কমিশন’ গঠনের উদ্যোগ নেয়া হবে বলে ইশতাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। সুশাসন ও উন্নয়নের মূল ভিত্তি হিসেবে রাষ্ট্রের সর্বস্তরে আইনের শাসন ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার কথা বলেছে বিএনপি।

দলটি বলেছে, দুর্নীতির সঙ্গে কোনো আপস করা হবে না। সমাজের সর্বস্তরে ছড়িয়ে পড়া দুর্নীতির লাগাম টেনে ধরতে পদ্ধতিগত ও আইন সংস্কারের পাশাপাশি স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা হবে। উন্মুক্ত দরপত্র ব্যবস্থা, রিয়েল টাইম অডিট, সরকারি ব্যয় ও প্রকল্পের ‘পারফরম্যান্স অডিট’ এবং ‘সিঙ্গেল উইন্ডো ক্লিয়ারেন্স’ বাস্তবায়ন করা হবে। অর্থপাচার রোধ ও ফ্যাসিবাদী আমলে পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেয়া হবে।

ইশতাহারে ভাতার পরিমাণ বৃদ্ধি, বেসরকারি খাতে নিয়োজিত ব্যক্তিদের বার্ধক্যের দুর্দশা লাঘবের জন্য কার্যকর পেনশন ফান্ড গঠন, দারিদ্র্যপীড়িত ও পিছিয়ে থাকা অঞ্চলে টেকসই কর্মসংস্থান সৃষ্টি, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জাতীয় নাগরিক সেবা নিশ্চিতকরণ, পিতা-মাতার ভরণপোষণ আইনের কার্যকর বাস্তবায়ন এবং পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে অগ্রাধিকার দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছে।

কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সরকারি এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ চালুর কথা বলেছে বিএনপি। এছাড়া বেকার ভাতা প্রদান এবং কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়, মাদ্রাসা, হাইস্কুল, সরকারি অফিস, গ্রামীণ ডিজিটাল সেন্টার, হাসপাতাল, রেলস্টেশন, বিমানবন্দরসহ জনবহুল স্থানে বিনামূল্যে ইন্টারনেট চালুর প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছে। বিদেশে কর্মসংস্থানের জন্য ভাষা ও কারিগরি প্রশিক্ষণ এবং ক্যারিয়ার সেন্টার স্থাপন করার কথা দলটির ইশতাহারে বলা হয়েছে।

এতে বলা হয়, বিএনপির পররাষ্ট্রনীতির মূল দর্শনও ‘সবার আগে বাংলাদেশ’। বিএনপি বিশ্বাস করে, বাংলাদেশের সীমান্তের বাইরে বন্ধু আছে তা নিয়ে কোনো প্রশ্ন নেই। পররাষ্ট্রনীতির প্রতিটি ক্ষেত্রে দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, জাতীয় স্বার্থ, নিরাপত্তা ও জনগণের কল্যাণ সবার আগে প্রাধান্য পাবে।

সন্ত্রাসবাদ, জঙ্গিবাদ ও উগ্রবাদের বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতার (জিরো টলারেন্স) নীতিতে কঠোর অবস্থান নিয়ে জাতীয় ঐকমত্য গড়ে তোলার কথা বলেছে বিএনপি।

অর্থনীতিতে গণতন্ত্র ফেরাতে অলিগার্কিক কাঠামো (মুষ্টিমেয় গোষ্ঠী বা ব্যক্তির হাতে অর্থনীতি কুক্ষিগত থাকা) ভেঙে জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার অঙ্গীকার করা হয়েছে। ২০৩৪ সালের মধ্যে ১ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়ে তোলার অঙ্গীকারও করা হয়েছে বিএনপির ইশতাহারে।

এতে আরো বলা হয়, বৈদেশিক বিনিয়োগ জিডিপির ২ দশমিক ৫ শতাংশে উন্নীত করা হবে। ব্যাংক খাতের সুশাসন, মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, সুদহার যৌক্তিকীকরণ এবং আস্থা ফেরাতে একটি অর্থনৈতিক সংস্কার কমিশন গঠন করা হবে। পুঁজিবাজার সংস্কারে ও উন্নয়নে সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের স্বাধীনতা ও স্বায়ত্তশাসন নিশ্চিত করা হবে। ‘পুঁজিবাজার সুরক্ষা কমিশন’ গঠন করা হবে। রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় কর-জিডিপি অনুপাত ১৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে। এটি স্বল্পমেয়াদে ২ শতাংশ এবং মধ্যমেয়াদে ১০ শতাংশে উন্নীত করা হবে। উপকূলীয় অঞ্চলকে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক বাণিজ্যের কৌশলগত কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দরকে ঘিরে সমন্বিত লজিস্টিক হাব প্রতিষ্ঠা করা হবে।

এতে বলা হয়, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে উৎপাদন ও সঞ্চালনক্ষমতা বাড়িয়ে ২০৩০ সালের মধ্যে বিদ্যুৎ উৎপাদনক্ষমতা ৩৫ হাজার মেগাওয়াটে উন্নীত করা হবে এবং সঞ্চালন লাইন ২৫ হাজার সার্কিট কিলোমিটারে সম্প্রসারণ করা হবে। পরিকল্পনায় অপ্রয়োজনীয় ও অযৌক্তিক ব্যয় কমানো, ক্যাপাসিটি চার্জ, রেন্টাল ও স্বল্পমেয়াদি ব্যবস্থার পর্যালোচনা, স্বচ্ছতা ও দক্ষতা নিশ্চিত করা হবে।

ইশতাহারে বলা হয়, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির উন্নয়নে বাংলাদেশকে বৈশ্বিক পর্যায়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হবে এবং হার্ডওয়্যার উৎপাদন কেন্দ্রে পরিণত করা হবে। এ খাতে ১০ লাখ নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং সবার জন্য দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য ইন্টারনেট সেবা নিশ্চিত করা হবে।

এতে আরো বলা হয়, সীমিত আয়ের মানুষ ও বস্তিবাসীর জন্য আবাসন সুবিধা নিশ্চিত করা হবে। সমন্বিত বর্জ্য ও পানি ব্যবস্থাপনা, ‘ভূমি ব্যাংক’ প্রতিষ্ঠা, ‘ভূমিসেবা মেলা’ আয়োজন, স্থানীয় সরকার ক্ষমতায়ন ও ‘সিটিজেনস সার্ভিস কর্নার’ স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।

ইশতাহারে বলা হয়েছে, ‘ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার’। প্রত্যেক নাগরিক নিজ ধর্ম পালনের পূর্ণ অধিকার ভোগ করবেন। কাউকে কোনো নাগরিকের ধর্মবিশ্বাসে আঘাত করতে দেয়া হবে না। খতিব, ইমাম-মুয়াজ্জিন ও অন্যান্য ধর্মীয় ও রাষ্ট্রীয় মর্যাদা বাড়ানো হবে।

গণমাধ্যম বিষয়ে প্রতিশ্রুতিতে বলা হয়, সাংবাদিকদের পেশাগত স্বাধীনতা ও কাজের সুরক্ষা নিশ্চিত করা হবে। আইনি জটিলতা ও হয়রানি দমন করা হবে এবং রাজনৈতিক পক্ষপাত বন্ধ করা হবে। জবাবদিহিমূলক নিয়ন্ত্রণ কাঠামো প্রতিষ্ঠা ও সাংবাদিক হত্যায় বিচার নিশ্চিত করা হবে। সংবাদমাধ্যম কর্মীদের কল্যাণে জাতীয় সাংবাদিক অবসর কল্যাণ বোর্ড গঠন করা হবে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আবুল মঈন খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সেলিমা রহমান, ভাইস চেয়ারম্যান শাসমুজ্জামান দুদু, আসাদুজ্জামান রিপন, বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, গণফোরামের সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, সাংবাদিক শফিক রেহমান, মতিউর রহমান, মতিউর রহমান চৌধুরীসহ বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *