নির্বাচনে ভোট দিতে চান ৯০ শতাংশ ভোটার : সিআরএফের জরিপ
ফেব্রুয়ারি ৪, ২০২৬
বিএনপির ইশতেহার ঘোষণা শুক্রবার
ফেব্রুয়ারি ৪, ২০২৬
নির্বাচনে ভোট দিতে চান ৯০ শতাংশ ভোটার : সিআরএফের জরিপ
ফেব্রুয়ারি ৪, ২০২৬
বিএনপির ইশতেহার ঘোষণা শুক্রবার
ফেব্রুয়ারি ৪, ২০২৬

ফরিদপুরে নির্বাচনী জনসভায় তারেক রহমান স্বাধীনতা, ভোট ও কথা বলার অধিকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে

তারেক রহমান বলেন, আমরা বিভিন্ন পত্র-পত্রিকার খবরে দেখছি—এ গুপ্তদের বিভিন্ন লোকজন বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে বিশেষ করে মা-বোনদের কাছে গিয়ে তারা বিকাশ নম্বর ও এনআইডি নম্বর চাইছে। তারা কেন চাইছে—তারা দেশের মানুষের সঙ্গে অনৈতিক আচরণ করছে।

বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, জনগণের স্বাধীনতা, ভোট ও কথা বলার অধিকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র শুরু হয়ে গেছে। এ ষড়যন্ত্র যারা করছে, জনগণের পক্ষ থেকে তাদের একটি নাম দেয়া হয়েছে ‘গুপ্ত’। জনগণ তাদের গুপ্ত নামে ডাকে। কারণ জনগণ দেখেছে, যখনই সময় এদিক হয় তখন তাদের এক রূপ, যখন সময় হয় ওদিক তখন তাদের আরেক রূপ। বিভিন্ন পরিস্থিতিতে তারা রূপ পরিবর্তন করে। তিনি বলেন, এদের কাছ থেকে আমরা ভালো কিছু প্রত্যাশা করতে পারি না। ১৯৭১ সালে তাদের বিতর্কিত ভূমিকার জন্য বাংলাদেশের লাখ লাখ নারী, লাখ লাখ মা-বোনের সম্মানহানি হয়েছিল। এদের কাছ থেকে আপনাদের সতর্ক থাকতে হবে।

বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ফরিদপুরের সরকারি রাজেন্দ্র কলেজ মাঠে ফরিদপুর বিভাগ (সাংগঠনিক বিভাগ) বিএনপি আয়োজিত এক নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন বিএনপির চেয়ারম্যান।

তারেক রহমান বলেন, আমরা বিভিন্ন পত্র-পত্রিকার খবরে দেখছি—এ গুপ্তদের বিভিন্ন লোকজন বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে বিশেষ করে মা-বোনদের কাছে গিয়ে তারা বিকাশ নম্বর ও এনআইডি নম্বর চাইছে। তারা কেন চাইছে—তারা দেশের মানুষের সঙ্গে অনৈতিক আচরণ করছে। অথচ অন্যদিকে আমরা দেখি, তারা নাকি সৎ লোকের শাসন দেবে। আপনি কাজটা শুরু করেছেন অনৈতিক বিষয় দিয়ে। যেখানে আপনি নিজেই অনৈতিক কাজ দিয়ে শুরু করেছেন, সেখানে জনগণ কীভাবে আশা করবে আপনারা সৎ লোকের শাসন দেবেন।

তিনি বলেন, এ নির্বাচনী জনসভায় আপনাদের সামনে আমি এতটুকু বলতে চাই—ফরিদপুর বিভাগ গঠন করলে যদি সমস্যা সমাধান হয়, তাহলে বিএনপি এটা সমাধান করবে। বিএনপিকে ১২ তারিখ দেশের মানুষ ভোট দিলে কী কী করবে বিএনপি, তা আমরা পরিকল্পনা করেছি। এই এলাকার একটি অন্যতম সমস্যা নদীভাঙন। কৃষিপ্রধান এই এলাকায় আমরা নদীভাঙন রোধ করতে পারলে এই ফরিদপুরের অন্যতম সেরা ফসল পাটকে বিদেশে রফতানি করে বৈদেশিক মুদ্রা পাব।

বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, কৃষকদের পাশে দাঁড়ানোর জন্যই আমরা কৃষকদের কৃষক কার্ড দেব। এর মাধ্যমে তাদের ফসল ফলাতে বীজ, সার পৌঁছে দিতে চাই। এই এলাকার একটি অন্যতম সমস্যা বেকারত্ব। আমরা ক্ষমতায় গেলে প্রত্যেক এলাকায় বৈশিষ্ট্যপূর্ণ কলকারখানা করব, যাতে তারা সম্মানের সঙ্গে বেঁচে থাকতে পারে। নারীদেরকে পেছনে ফেলে আমরা এগিয়ে যেতে পারব না। এজন্য নারীদের হাতে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেব। তার মাধ্যমে নারীরা খেটে খাওয়া পরিবারগুলো কিছু সহায়তা পাবে।

তিনি বলেন, ফরিদপুরের নেতারা দুটি দাবির কথা বলেছেন—এক, এ ফরিদপুর শহরকে সিটি কর্পোরেশন করা এবং দুই, ফরিদপুরকে বিভাগ করা। আজকের এই নির্বাচনী জনসভায় আপনাদের সবার সামনে আমি এতটুকু বলতে চাই, ইনশাল্লাহ বিএনপি সরকার গঠন করলে আগামী ১২ তারিখ ধানের শীষ নির্বাচনে জয়যুক্ত হলে, বিভাগ গঠন করলে যদি এলাকার মানুষের উপকার হয়, বিভাগ গঠন করলে যদি মানুষের সমস্যার সমাধান হয়, তাহলে ইনশাল্লাহ জনগণের সেই দাবি বিএনপি পূরণ করবে।

ফরিদপুর বিভাগীয় এ সভায় সভাপতিত্ব করেন ফরিদপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সৈয়দ মোদাররেছ আলী। সঞ্চালনা করেন ফরিদপুর জেলা বিএনপির সদস্য সচিব এ কে এম কিবরিয়া। এদিন আরো বক্তব্য দেন ফরিদপুর-৩ (সদর) আসনের প্রার্থী জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নায়াব ইউসুফ, ফরিদপুর-৪ আসনের প্রার্থী কেন্দ্রীয় কৃষকদলের সাধারণ সম্পাদক শহীদুল ইসলাম, শরীয়তপুর-২ আসনে বিএনপি প্রার্থী মিয়া মো. নুরুদ্দীন, বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ফরিদপুর-২ আসনের প্রার্থী শামা ওবায়েদ ও আজকের সভার সভাপতি ফরিদপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সৈয়দ মোদাররেছ আলী। এ নির্বাচনী সভায় তারেক রহমান ফরিদপুর, রাজবাড়ী, গোপালগঞ্জ, মাদারীপুর ও শরীয়তপুরের ১৫টি আসনের বিএনপির প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *