ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গুলিসহ বন্দুক উদ্ধার
ফেব্রুয়ারি ২, ২০২৬
উচ্চ আদালতের চূড়ান্ত অনুমোদন পেয়েছে প্রিমিয়ার সিমেন্ট
ফেব্রুয়ারি ২, ২০২৬
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গুলিসহ বন্দুক উদ্ধার
ফেব্রুয়ারি ২, ২০২৬
উচ্চ আদালতের চূড়ান্ত অনুমোদন পেয়েছে প্রিমিয়ার সিমেন্ট
ফেব্রুয়ারি ২, ২০২৬

ঝিনাইদহে দুই প্রার্থীর বার্ষিক আয় অর্ধকোটির বেশি অন্যদের ৪-১৩ লাখ

দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জেলা ঝিনাইদহে সংসদীয় আসন রয়েছে চারটি।

দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জেলা ঝিনাইদহে সংসদীয় আসন রয়েছে চারটি। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঝিনাইদহের চারটি আসনে বিএনপির প্রার্থীদের মধ্যে দুজন কোটিপতি। তাদের মধ্যে সদ্য সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামানের বার্ষিক আয় ৯৫ লাখ টাকা। আরেকজনের বার্ষিক আয় অর্ধকোটির বেশি। সবগুলো আসনে বিএনপি ও প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর অন্য প্রার্থীর বার্ষিক আয় ৪ থেকে ১৩ লাখ টাকার মধ্যে। বিভিন্ন দল ও স্বতন্ত্র মিলিয়ে এসব আসনে প্রার্থী রয়েছেন ২১ জন।

ঝিনাইদহ-১ (শৈলকুপা) আসনে বিএনপির প্রার্থী সদ্য সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান। নির্বাচনী হলফনামার তথ্য বলছে, আইন পরামর্শক, স্থাবর সম্পত্তি ভাড়া, ব্যবসা, ব্যাংক আমানত থেকে তার বার্ষিক আয় ৯৫ লাখ ২০ হাজার টাকা। সঞ্চয়পত্র, দুটি প্রাইভেটকার, নগদ ও জমা অর্থসহ তার অস্থাবর সম্পদের মূল্য ৫ কোটি টাকা। ঢাকায় জমি ও একাধিক ফ্ল্যাটসহ ১৪ কোটি ৮৩ লাখ টাকা মূল্যের স্থাবর সম্পদ রয়েছে তার। তবে ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে তার কোনো ঋণ নেই। নেই কোনো মামলা। আসাদুজ্জামানের কাছে নগদ ১৫ লাখ ৯ হাজার ৫৮২ টাকা রয়েছে। এছাড়া ব্যাংক ও বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানে তার নিজ নামে গচ্ছিত রয়েছে ১ কোটি ৩২ লাখ ৮৯ হাজার ৭৮৬ টাকা। বন্ড, শেয়ার কেনা আছে ৫ হাজার ২০০ টাকার এবং ফিক্সড ডিপোজিট প্রায় ৩০ লাখ টাকার। হলফনামায় নিজের ২০ ভরি স্বর্ণ রয়েছে বলে উল্লেখ করেছেন সাবেক এই অ্যাটর্নি জেনারেল। আসাদুজ্জামানের ঢাকার সাভারের বড় বরদেশী মৌজায় ৪৬২ শতাংশ জমি রয়েছে। যার মূল্য ১ কোটি ৯ লাখ ৭১ হাজার ৬০০ টাকা। ঝিনাইদহের শৈলকুপায় পৈতৃক সূত্রে পাওয়া সম্পত্তির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। ঢাকার উত্তরায় ছয় কাঠা জমিতে পাঁচ তলাবিশিষ্ট ভবন, একই এলাকায় পাঁচ কাঠা প্লটের ছয় তলাবিশিষ্ট ভবনের এক-তৃতীয়াংশের মালিকানা রয়েছে আসাদুজ্জামানের। যার মূল্য ৮ কোটি ১৫ লাখ ১১ হাজার ৬৪৮ টাকা। ধানমন্ডিতে দুটি ফ্ল্যাটের এক-তৃতীয়াংশের মালিকানা রয়েছে তার। যার আনুমানিক মূল্য ৫৭ লাখ ৯৮ হাজার ৬৭ টাকা। ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট এলাকার ১১৪ মাটিকাটা এলাকায় তার স্ত্রীর নামে রয়েছে ১ দশমিক ৮০ শতাংশ জমি। যা তার স্ত্রী পৈতৃক সূত্রে পেয়েছেন বলে হলফনামায় উল্লেখ করা হয়েছে।

এ আসনে জামায়াতের প্রার্থী আবু সালেহ মো. মতিউর রহমানের কৃষি, শিক্ষকতা থেকে বার্ষিক আয় ৫ লাখ ৮৫ হাজার টাকা। নগদ অর্থ, স্বর্ণালংকারসহ অন্যান্য অস্থাবর সম্পদ ২৫ লাখ টাকার। স্থাবর সম্পদও ২৫ লাখ টাকার।

ঝিনাইদহ-২ (সদর ও হরিণাকুণ্ডু) আসনে বিএনপি প্রার্থী ও দলের জেলা সভাপতি আব্দুল মজিদের ব্যবসা, কৃষি, সাইনিং মানিসহ বার্ষিক আয় ৫৩ লাখ ৮৯ হাজার টাকা। মোটরযান, নগদ ও জমা অর্থসহ অস্থাবর সম্পদ ১ কোটি ৪৫ লাখ টাকার। ঢাকায় বাড়ি বা অ্যাপার্টমেন্ট সাতটি এবং ঝিনাইদহে ১১টি। স্থাবর সম্পদ ১৩ কোটি ৬০ লাখ টাকার। ব্যাংক ঋণ ১ কোটি ১০ লাখ ৯৮ হাজার টাকা।

জামায়াতের প্রার্থী আলী আজম মো. আবু বকরের কৃষি, ব্যবসা ও শিক্ষকতা থেকে বছরে আয় ১৩ লাখ টাকা। নগদ অর্থ, মোটরযান, স্বর্ণসহ অস্থাবর সম্পদ ৩৪ লাখ ৬৬ হাজার টাকার। স্থাবর সম্পদ ১ কোটি টাকার।

ঝিনাইদহ-৩ (কোটচাঁদপুর ও মহেশপুর) আসনে বিএনপির প্রার্থী মেহেদী হাসানের কৃষি, বাড়ি, সম্পত্তি ভাড়া থেকে বার্ষিক আয় ৫ লাখ টাকা। নগদ ও ব্যাংকে জমা অর্থ মিলিয়ে অস্থাবর সম্পদ ১৮ লাখ টাকার।

জামায়াত প্রার্থী মতিয়ার রহমানের কৃষি, ব্যবসা ও সম্পত্তি থেকে বার্ষিক আয় ৪ লাখ ৬০ হাজার টাকা। নগদ অর্থসহ অস্থাবর সম্পদ ৩৯ লাখ টাকা।

ঝিনাইদহ-৪ (কালীগঞ্জ ও সদরের চার ইউনিয়ন) আসনে গণঅধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে পদত্যাগ করে বিএনপির প্রার্থী হওয়া রাশেদ খান পেশা উল্লেখ করেছেন ব্যবসা ও রাজনীতি। ব্যবসা থেকে তার বার্ষিক আয় সাড়ে ৪ লাখ টাকা। ৩৫ লাখ টাকা নগদ অর্থ, ৩০ ভরি স্বর্ণসহ অস্থাবর সম্পদ ৮১ লাখ টাকার। জাতীয় পর্যায়ের তরুণ এ নেতার ব্যক্তিগত গাড়ি, বাড়ি, প্লট ও জমি নেই বলে নির্বাচনী হলফনামায় উল্লেখ করেছেন। রাশেদ খানের ৩০ ভরি এবং স্ত্রীর ১০ ভরি স্বর্ণ রয়েছে। এসব স্বর্ণ উপহার হিসেবে পেয়েছেন। স্বর্ণের অর্জনকালীন মূল্য দেখানো হয়েছে ৩৬ লাখ ৫৩ হাজার ৪৯৭ টাকা। যার বর্তমান মূল্য ৮১ লাখ ৪৮ হাজার ৪১২ টাকা। স্ত্রীর নামে সোনা, ইলেকট্রনিক পণ্য, আসবাবপত্র ও উপহারসামগ্রীর অর্জনকালীন মূল্য উল্লেখ করা হয়েছে ২ লাখ ৭০ হাজার টাকা। যার বর্তমান আনুমানিক মূল্য ১৭ লাখ ৭০ হাজার টাকা।

স্বতন্ত্র প্রার্থী স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় নেতা সাইফুল ইসলাম ফিরোজের ব্যবসা, কৃষি ও অন্যান্য খাতে বার্ষিক আয় ৮ লাখ টাকা। নগদ ২৯ লাখ টাকাসহ ৫৫ লাখ টাকার অস্থাবর সম্পদ রয়েছে। তার স্বর্ণ ও গহনার পরিমাণ ২২ ভরি এবং উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া জমির পরিমাণ ৪৭ দশমিক ১৯ শতক। আসবাবপত্র ও কৃষিজমিসহ তার মোট সম্পদের মূল্য প্রায় ৫৫ লাখ টাকা।

জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মাওলানা আবু তালিব তার হলফনামায় জানিয়েছেন, কৃষি, ব্যবসা ও চাকরি থেকে তার বার্ষিক আয় ৭ লাখ ৩৫ হাজার ৩৮২ টাকা। তার নগদ অর্থ রয়েছে ২৫ লাখ ৩৩ হাজার ৬৪০ টাকা এবং স্ত্রীর রয়েছে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা। কৃষিজমি, আসবাবপত্রসহ তার মোট সম্পদের পরিমাণ ৫৩ লাখ ৯৯ হাজার ৯৯৯ টাকা এবং স্ত্রীর সম্পদ ৫১ লাখ ৫০ হাজার টাকা।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ঝিনাইদহে প্রার্থীদের মাঝে প্রতীক বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। গত বুধবার সকালে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে এ প্রতীক বরাদ্দ কার্যক্রম সম্পন্ন হয়। জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ কার্যক্রমে ঝিনাইদহ জেলার চারটি সংসদীয় আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী মোট ২১ জন প্রার্থীর মধ্যে তাদের নিজ নিজ প্রতীক তুলে দেয়া হয়। প্রতীক বরাদ্দের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হলো প্রার্থীদের নির্বাচনী প্রচারণা। প্রতীক হাতে পেয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন প্রার্থীরা। তারা আশা প্রকাশ করেন, শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *