এনসিপির ৩৬ দফা নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা
জানুয়ারি ৩০, ২০২৬
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন রাজশাহী বিভাগে ৪ হাজার বিজিবি সদস্য মোতায়েনের পরিকল্পনা
জানুয়ারি ৩০, ২০২৬
এনসিপির ৩৬ দফা নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা
জানুয়ারি ৩০, ২০২৬
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন রাজশাহী বিভাগে ৪ হাজার বিজিবি সদস্য মোতায়েনের পরিকল্পনা
জানুয়ারি ৩০, ২০২৬

রফতানিতে তৈরি পোশাকের বাইরে যেতে হবে, সম্ভাবনাময় খাত প্রযুক্তি

আমাদের রফতানির ৮০ শতাংশই তৈরি পোশাক। এর বড় অংশ আবার ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাষ্ট্রকেন্দ্রিক। একক খাত ও সীমিত বাজারের ওপর এ নির্ভরতা আমাদের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করেছে

বাংলাদেশের রফতানি আয়ের বড় অংশ এখনো তৈরি পোশাকনির্ভর। প্রতি বছর বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের মোট রফতানির ৮০ শতাংশের বেশি আসে এ একক খাত থেকে। অথচ দীর্ঘদিনের সাফল্যের পরও তৈরি পোশাকে বাংলাদেশের কোনো নিজস্ব বৈশ্বিক ব্র্যান্ড গড়ে ওঠেনি। এমন বাস্তবতায় রফতানিতে বৈচিত্র্য, নতুন প্রবৃদ্ধির খোঁজে প্রযুক্তি ও প্রযুক্তিপণ্যকে সম্ভাবনাময় মূল খাত হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত ডিজিটাল ডিভাইস অ্যান্ড ইনোভেশন এক্সপো ২০২৬-এ ‘বাংলাদেশ থেকে বিশ্বে: উৎপাদন ও রপ্তানির স্বপ্ন’ শীর্ষক প্যানেল আলোচনায় এসব মত উঠে আসে।

প্যানেল আলোচনায় রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) মহাসচিব ও প্রধান নির্বাহী মোহাম্মদ হাসান আরিফ বলেন, আমাদের রফতানির ৮০ শতাংশই তৈরি পোশাক। এর বড় অংশ আবার ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাষ্ট্রকেন্দ্রিক। একক খাত ও সীমিত বাজারের ওপর এ নির্ভরতা আমাদের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করেছে।

তিনি জানান, ইপিবি শিগগিরই একটি আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী আয়োজনের পরিকল্পনা করছে, যেখানে বাংলাদেশের বহুমুখী রপ্তানিযোগ্য পণ্য তুলে ধরা হবে। সেখানে তথ্যপ্রযুক্তি ও প্রযুক্তিপণ্যকে বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হবে, যাতে নতুন বাজার তৈরি করা যায়।

আলোচনার শুরুতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতির (বিসিএস) সভাপতি মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম। তিনি বলেন, বাংলাদেশের নতুন রফতানি ফ্রন্টিয়ার হতে পারে প্রযুক্তি ও ডিজিটাল ডিভাইস। দেশে উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ছে, ব্যবস্থাপনাও ধীরে ধীরে পরিপক্ব হচ্ছে।

বিশ্বব্যাংকের সিনিয়র স্পেশালিস্ট উবাহ থমাস উবাহ বলেন, বাংলাদেশকে একাধিক এজেন্ডা নিয়ে এগোতে হবে। প্রযুক্তিখাতে বিনিয়োগ বাড়াতে হলে অর্থায়নের ক্ষেত্র উন্মুক্ত করা জরুরি। সঠিক নীতিমালা ও অর্থায়নের পরিবেশ তৈরি হলে বাংলাদেশ থেকেও ইউনিকর্ন কোম্পানি উঠে আসতে পারে।

দেশীয় ইলেকট্রনিক শিল্পের বাস্তব চ্যালেঞ্জ তুলে ধরেন আরএফএল ইলেক্ট্রনিক্সের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর নূর আলম। তিনি বলেন, ইলেকট্রনিক্স শিল্প এখনো যন্ত্রাংশ আমদানিনির্ভর। ডলারের উচ্চমূল্য, আমদানি শুল্ক ও বিদ্যুৎ-গ্যাসের দাম বৃদ্ধির কারণে উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে। ফলে প্রতিযোগিতামূলক দামে পণ্য সরবরাহ কঠিন হয়ে পড়ছে।

ওয়ালটন ডিজি হাইটেক ইন্ডাস্ট্রির গ্লোবাল বিজনেস ডিভিশনের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর আব্দুর রউফ বলেন, রফতানির ক্ষেত্রে প্রযুক্তিগত মানের ভিন্নতা একটি বড় বাধা। বাংলাদেশে ২২০ ভোল্ট বিদ্যুৎ ব্যবহৃত হলেও যুক্তরাষ্ট্রে ১১০ ভোল্ট। এসব মানগত পার্থক্যের কারণে রফতানির শুরুতেই বাধার মুখে পড়তে হয়।

শাওমি বাংলাদেশের কান্ট্রি ম্যানেজার জিয়াউদ্দীন চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশে সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) আকর্ষণে সঠিক নীতিমালা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। শাওমি বাংলাদেশে স্মার্টফোন উৎপাদন করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিশ্বে স্মার্টফোন বাজারের আকার প্রায় ১ ট্রিলিয়ন ডলার। বাংলাদেশ যদি এর মাত্র ৫ শতাংশও ধরতে পারে, তাহলে ৫০ বিলিয়ন ডলারের বাজার তৈরি সম্ভব।

তার মতে, অবকাঠামো প্রস্তুত রয়েছে, এখন প্রয়োজন ব্র্যান্ড উন্নয়ন ও নীতিগত সহায়তা। তাহলে বাংলাদেশ থেকেই প্রযুক্তিপণ্য ও স্মার্টফোন বিশ্ববাজারে রফতানি করা সম্ভব হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *