
নদীভাঙন রোধে আশ্বাস নয় বাস্তব পরিকল্পনা চান গাইবান্ধার চরাঞ্চলের ভোটাররা
জানুয়ারি ২৯, ২০২৬
পঞ্চগড়ে জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তার পদত্যাগ দাবি ১১ দলীয় জোটের
জানুয়ারি ২৯, ২০২৬টাইম ম্যাগাজিনের সঙ্গে সম্প্রতি কথা বলেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
টাইম ম্যাগাজিনের সঙ্গে সম্প্রতি কথা বলেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমান। টাইম গতকাল প্রকাশিত সাক্ষাৎকারভিত্তিক দীর্ঘ প্রতিবেদনে তারেক রহমানকে মৃদুভাষী এবং অন্তর্মুখী মানুষ হিসেবে উল্লেখ করেছে, যিনি অন্যকে মূল্যায়ন করার চেয়ে শুনতেই বেশি পছন্দ করেন। লন্ডনে তার প্রিয় কাজ ছিল রিচমন্ড পার্কে ঘুরে বেড়ানো, চিন্তায় ডুবে থাকা অথবা ইতিহাসের বই পড়া। প্রিয় সিনেমা এয়ার ফোর্স ওয়ান। তার কথায়, ‘আমি সম্ভবত সিনেমাটি আটবার দেখেছি!’
লন্ডনে ১৭ বছরের নির্বাসিত জীবন কাটিয়ে গত বছরের ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফেরার কয়েকদিন পর তারেক রহমান তার মা, বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে হারিয়েছেন। প্রসঙ্গ উঠতেই ভেজা চোখে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেছেন, ‘এ ঘটনাটা আমার হৃদয়ে খুব ভারী হয়ে আছে।’ সঙ্গে যোগ করে বলেন, ‘কিন্তু তার কাছ থেকেই আমি শিক্ষা পেয়েছি যে দায়িত্ব থাকলে আপনাকে তা পালন করতেই হবে।’
তারেক রহমান টাইমকে স্পষ্ট করে বলেছেন, ‘জনগণ গণতন্ত্রে ফিরে যেতে চায় যেখানে তারা স্বাধীনভাবে কথা বলতে পারবেন, যেখানে তারা নিজেদের প্রকাশ করতে পারবেন।’
প্রতিবেদনে দেশের জন্য তারেক রহমানের বিভিন্ন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে তিনি ১২ হাজার মাইল খাল খনন করতে চান, মাটির ক্ষয় রোধে বছরে পাঁচ কোটি গাছ লাগাতে চান। ধোঁয়াশায় আচ্ছাদিত রাজধানী ঢাকায় ৫০টি নতুন সবুজ স্থান তৈরি করতে চান যেন নগরবাসী সুস্থ পরিবেশে শ্বাস নিতে পারেন। আবর্জনা পুড়িয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন, অভিবাসী শ্রমিকদের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য কারিগরি কলেজের পুনর্গঠন এবং স্বাস্থ্যসেবার উন্নতিতে বেসরকারি হাসপাতালের সঙ্গে অংশীদারত্বের মতো পরিকল্পনা তার রয়েছে। তারেক রহমান বলেছেন, ‘আমি যদি আমার পরিকল্পনার মাত্র ৩০ শতাংশও বাস্তবায়ন করতে পারি, তাহলে আমি নিশ্চিত বাংলাদেশের মানুষ আমাকে সমর্থন করবেন।’
টাইমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসন বাংলাদেশের ওপর ২০ শতাংশ পাল্টা শুল্ক আরোপ করেছে, যা বাংলাদেশের রফতানিনির্ভর অর্থনীতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। তারেক রহমান বলেছেন যে তিনি দেশের বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে এবং সম্ভাব্য সমাধান নিয়ে আলোচনা করার উপায় অনুসন্ধান করছেন। তিনি বলেছেন, ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প তার দেশের স্বার্থ দেখবেন। আর আমি আমার দেশের স্বার্থ দেখব। কিন্তু আমরা একে অপরকে সাহায্যও করতে পারি। আমি নিশ্চিত যে মি. ট্রাম্প খুবই যুক্তিসংগত একজন মানুষ।’
বাংলাদেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির দুর্বল অবস্থা নিয়ে প্রতিবেদনে বিভিন্ন বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে। তারেক রহমান টাইমকে বলেছেন, ‘আমাদের প্রথম অগ্রাধিকার হবে আইনের শাসন নিশ্চিত করা, মানুষ যাতে রাস্তায় নিরাপদে চলতে পারেন, ব্যবসা করার জন্য নিরাপদ পরিবেশ থাকে তা নিশ্চিত করা।’
নীতিগতভাবে তিনি কোনো রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ করাকে পছন্দ করেন না। এ প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেছেন, ‘কারণ আজ যদি আপনি কোনো রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ করেন, তাহলে কী নিশ্চয়তা আছে যে আগামীকাল আপনি আমাকে নিষিদ্ধ করবেন না? তবে যদি কেউ কোনো ধরনের অপরাধ করে, তবে তাকে অবশ্যই পরিণতি ভোগ করতে হবে।’
লন্ডনের জীবনের কী মিস করেন জানতে চাইলে কোনো দ্বিধা ছাড়াই তারেক রহমান বলেছেন, ‘আমার স্বাধীনতা।’ কথাগুলো বলার সময় তিনি তার বাড়ির চারপাশে ঘিরে থাকা ১০ ফুট কাঁটাতারের বেড়ার দিকে তাকিয়ে ছিলেন। টাইমকে তিনি বলেন, ‘এই বাড়িতে এসে যখন এতসব নিরাপত্তা ব্যবস্থা দেখেছি, তখন আমার মনে একটা ক্লাসট্রোফোবিক (দমবন্ধ করা) অনুভূতি জাগে।’
টাইমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, লন্ডনে বসবাসের সময় আশপাশের দোকানগুলোতে ঘুরে বেড়ানো কিংবা ফোর্ট উইলিয়াম পর্যন্ত লেক্সাস চালিয়ে মেয়ে জাইমাকে অবাক করে দেয়ার দিন আর তারেক রহমানের নেই। কিন্তু এ নিয়ে তিনি কোনো অভিযোগ করছেন না; তিনি দেখিয়ে দিচ্ছেন যে তার প্রত্যাবর্তন কোনো ইচ্ছার বশে নয়, বরং উদ্দেশ্যনির্ভর, তার দেশের জনগণের ভাগ্য উন্নত করার দৃঢ় সংকল্পের দ্বারা উদ্দীপ্ত। তিনি একটি প্রিয় চলচ্চিত্রের উক্তি তুলে ধরেন, যা মূল বিষয়টিকে তুলে ধরে। তবে এটি এয়ার ফোর্স ওয়ানের নয়, বরং স্পাইডার-ম্যানের—তারেক রহমান বলেন, ‘বড় ক্ষমতার সঙ্গে বড় দায়িত্বও আসে। আর আমি এটা খুব বিশ্বাস করি।’


