
মানবতাবিরোধী অপরাধ চানখারপুলে ৬ হত্যা মামলার রায় আজ
জানুয়ারি ২৬, ২০২৬
প্রধান উপদেষ্টা নীলফামারীর বাংলাদেশ–চীন মৈত্রী হাসপাতাল গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসা কেন্দ্রে পরিণত হবে
জানুয়ারি ২৬, ২০২৬বিবিসির সাবেক জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক স্যার মার্ক টালি মারা গেছেন। ভারতের নয়াদিল্লির একটি হাসপাতালে গতকাল তিনি মারা যান বলে জানিয়েছে বিবিসি হিন্দি সার্ভিস। তার বয়স হয়েছিল ৯০ বছর।
বিবিসির সাবেক জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক স্যার মার্ক টালি মারা গেছেন। ভারতের নয়াদিল্লির একটি হাসপাতালে গতকাল তিনি মারা যান বলে জানিয়েছে বিবিসি হিন্দি সার্ভিস। তার বয়স হয়েছিল ৯০ বছর।
১৯৬৪ সালে বিবিসিতে যোগ দেন মার্ক টালি। ১৯৯৪ সালে অবসর নেয়ার পর ফ্রিল্যান্স সাংবাদিকতায় নিজেকে যুক্ত রেখেছিলেন তিনি। বিবিসির ৩০ বছরের চাকরিজীবনে তিনি ২০ বছর ছিলেন দিল্লি ব্যুরোর প্রধান।
ভারতে বিবিসির হয়ে দায়িত্ব পালনের সময় একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধকালে বাংলাদেশের পাশে এসে দাঁড়িয়েছিলেন মার্ক টালি। তখন তিনি ছিলেন বিবিসির দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক সংবাদদাতা। মুক্তিযুদ্ধের খবর সংগ্রহ করতে তিনি সে বছরের এপ্রিলের শেষ সপ্তাহে বাংলাদেশে আসেন। সীমান্তবর্তী শরণার্থী শিবির ও বিভিন্ন জেলা ঘুরে তিনি বাঙালিদের দুর্দশা আর যুদ্ধের প্রকৃত চিত্র তুলে ধরেন। তার পাঠানো খবর বাংলাদেশের পক্ষে আন্তর্জাতিক জনমত গঠনে ভূমিকা রেখেছিল। এজন্য বাংলাদেশ সরকার ২০১২ সালে তাকে ‘মুক্তিযুদ্ধ মৈত্রী সম্মাননা’য় ভূষিত করে।
ভারত সরকারও মার্ক টালিকে ‘পদ্মশ্রী’ ও ‘পদ্মভূষণ’ সম্মাননায় ভূষিত করে। স্বদেশ থেকে তিনি পান নাইটহুড খেতাব।
যুক্তরাজ্যের নাগরিক মার্ক টালির জন্ম ভারতের কলকাতার টালিগঞ্জে ১৯৩৫ সালের ২৪ অক্টোবর। তার ব্যবসায়ী বাবা তখন ভারতে ছিলেন। শৈশব কলকাতায় কাটলেও নয় বছর বয়সে ইংল্যান্ডে ফিরে যান তিনি। স্কুল-কলেজে পড়াশোনা করেন সেখানেই। মার্ক টালির স্ত্রী মার্গারেট ও চার সন্তান লন্ডনে থাকলেও তিনি নিজে ভারতেই থাকতেন।
যুক্তরাজ্যের গণমাধ্যমে তাকে প্রায়ই বিবিসির অন্যতম খ্যাতনামা বিদেশ সংবাদদাতা হিসেবে বর্ণনা করা হয়। তার মৃত্যুর খবর জানিয়ে বিবিসি লিখেছে, বহু বছর তিনি পরিচিত ছিলেন বিবিসির ‘ভয়েস অব ইন্ডিয়া’ হিসেবে।
কাশ্মীর মনিটর লিখেছে, দক্ষিণ এশিয়ার সম্প্রচার সাংবাদিকতার দিকপাল মার্ক টালি নিজেই এক প্রতিষ্ঠান হয়ে উঠেছিলেন। ভারত-পাকিস্তানসহ দক্ষিণ এশিয়াজুড়ে একটি প্রজন্মের কাছে তার কণ্ঠস্বর ছিল বিবিসিরই সমার্থক।
সাংবাদিকতার পাশাপাশি বেশ কয়েকটি বই লিখেছেন মার্ক টালি। সাংবাদিক হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে তিনি এ অঞ্চলের বহু ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী হয়েছেন, সেগুলো লিপিবদ্ধ করেছেন সংবাদ আর নিজের লেখায়। তার বইগুলোয় ভারতের সামাজিক ও সংস্কৃতি কাঠামোর সঙ্গে তার গভীর সম্পৃক্ততার ছাপ স্পষ্ট। তার লেখা বইয়ের মধ্যে রয়েছে অমৃতসর: মিসেস গান্ধীস লাস্ট ব্যাটল, রাজ টু রাজীব: ফর্টি ইয়ার্স অব ইন্ডিয়ান ইনডিপেনডেন্স, নো ফুল স্টপ ইন ইন্ডিয়া, আনএন্ডিং জার্নি, ইন্ডিয়া: দ্য রোড অ্যাহেড, হার্ট অব ইন্ডিয়া।


