অত্যাবশ্যকীয় ওষুধ নিয়ে হাইকোর্টের রুল সব অংশীজনকে টাস্কফোর্সে অন্তর্ভুক্তির নির্দেশ কেন নয়
জানুয়ারি ২৩, ২০২৬
দেশে হালাল পণ্য বাজার পাচ্ছে না
জানুয়ারি ২৩, ২০২৬
অত্যাবশ্যকীয় ওষুধ নিয়ে হাইকোর্টের রুল সব অংশীজনকে টাস্কফোর্সে অন্তর্ভুক্তির নির্দেশ কেন নয়
জানুয়ারি ২৩, ২০২৬
দেশে হালাল পণ্য বাজার পাচ্ছে না
জানুয়ারি ২৩, ২০২৬

শুল্কমুক্ত সুতা আমদানির সুবিধা বাতিলের সিদ্ধান্ত কার্যকরের দাবি দেশের সব স্পিনিং মিল ১ ফেব্রুয়ারি থেকে বন্ধের হুঁশিয়ারি বিটিএমএর

ভারত থেকে শুল্কমুক্ত সুতা আমদানিতে বন্ড সুবিধা বাতিলের সিদ্ধান্ত দ্রুত বাস্তবায়ন করার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএমএ)।

ভারত থেকে শুল্কমুক্ত সুতা আমদানিতে বন্ড সুবিধা বাতিলের সিদ্ধান্ত দ্রুত বাস্তবায়ন করার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএমএ)। অন্যথায় আগামী ১ ফেব্রুয়ারি থেকে সব সুতা উৎপাদক মিল বন্ধ করে দেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন সংগঠনটির নেতারা। গতকাল রাজধানীর কারওয়ান বাজারে অবস্থিত বিটিএমএর কার্যালয়ে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন সংগঠনের সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল।

তিনি বলেন, ‘আজকে আমাদের স্পিনিং শিল্প এতদূর এসেছে, যেখানে কোনো প্রণোদনা ছিল না, বন্ডেড ওয়্যারহাউজ ছিল না, তবু এতদূর এসেছি। কিন্তু আজ আমরা এমন এক সময়ে দাঁড়িয়ে আছি, যাকে আমি দ্বিধা ছাড়াই বলতে চাই জাতীয় অর্থনৈতিক সংকট বা একধরনের স্টেট অব ইমার্জেন্সি। কারণ এ সংকট কোনো একক প্রতিষ্ঠান বা খাতের নয়। যদি এ সুবিধা বাতিল না হয় তাহলে এর প্রভাব পড়বে দেশের ব্যাংক খাত, কর্মসংস্থান, রফতানি আয় ও সামগ্রিক অর্থনীতির ওপর। দুই দশকের বেশি সময় ধরে আমরা এ খাতে বিনিয়োগ করেছি। শুধু টেক্সটাইল ও স্পিনিং খাতেই প্রায় ২২-২৩ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ রয়েছে। এ বিনিয়োগ যদি এখন বসে যায়, তাহলে প্রশ্ন হচ্ছে ব্যাংকের নন-পারফর্মিং লোন কোথায় যাবে? লক্ষ লক্ষ মানুষের কর্মসংস্থানের কী হবে? আমরা সরকারের কাছে কখনো স্থায়ী সুবিধা চাইনি। আমরা বলেছি, এটা আজীবনের জন্য নয়, এটা এ সংকটকাল পার করার জন্য। কিন্তু সরকার আমাদের সঙ্গে কোনো আলোচনা করছে না। আমরা দেশের জিডিপির ১৩ শতাংশ অবদান রাখছি। কিন্তু আমাদের জন্য সরকারের ১৩ মিনিট সময় হয় না। উপদেষ্টা, রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে সরকার আলোচনার সময় পায়। ব্যবসায়ীদের জন্য তাদের কোনো সময় থাকে না। বছরের একটা দিন বসার সুযোগ পায় না। অথচ সরকার বলে, আমরাই অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি। আমাদের জন্য সময় নেই। তাহলে কীভাবে দেশ অগ্রসর হচ্ছে?’

এ সময় তিনটি দাবি সরকারের কাছে তুলে ধরেন শওকত আজিজ রাসেল। তার মধ্যে রয়েছে ১০ শতাংশ ইমিডিয়েট ইনসেনটিভ, যাতে আন্তর্জাতিকভাবে সাবসিডাইজড দামের সঙ্গে টিকে থাকতে পারে স্পিনিং শিল্প। দ্বিতীয়ত, সেফগার্ড ডিউটি, যা ইন্দোনেশিয়া, তুরস্কসহ বহু দেশে আছে এবং নীতিসহায়তা—যাতে টেক্সটাইল, তৈরি পোশাক, অ্যাকসেসরিজ ও গার্মেন্টস একে অপরের পরিপূরক হয়ে টিকে থাকতে পারে।

তিনি বলেন, ‘দুঃখের বিষয় হচ্ছে সরকার ব্যবসা ফ্যাসিলিটেট করার বদলে ব্যবসা করতেই বেশি আগ্রহী। ইডিএফ ফান্ড, বন্দর, চার্জ—সব জায়গা থেকেই লাভের হিসাব করা হচ্ছে। কিন্তু সরকার কী একবারও ভেবেছে, এ খাত থেকেই ভ্যাট, করপোরেট ট্যাক্স, টার্নওভার ট্যাক্স আসে এবং রফতানি আয়ের ৮৫ শতাংশের অধিক অর্জিত হয় টেক্সটাইল উৎস থেকে। আমরা যখন বলি টার্নওভার ট্যাক্স কম নয়, তখন সেটা বাস্তব। আমরা ব্যাংকের দায় শোধ করছি, কর্মসংস্থান ধরে রেখেছি। গত ২৫ বছরে যে পরিমাণ রিটেনশন ও ভ্যালু অ্যাডিশন করেছি তা কি বিবেচনায় নেয়া হচ্ছে? অথচ আজকের বাস্তবতা হচ্ছে আমরা প্রতি কেজি সুতায় ৩০ সেন্ট করে লোকসান করছি। আমাদের পুঁজির অর্ধেকের বেশি শেষ হয়ে গেছে। তুলা আমদানির সক্ষমতাও হারিয়ে যাচ্ছে। ফলে ৫০ শতাংশ কারখানা বন্ধ হয়েছে। বাকি কারখানাগুলো অর্ধেক বা আংশিক সক্ষমতায় চলছে।’

সংবাদ সম্মেলনে ভারত থেকে কটন সুতা আমদানির সুবিধা তুলে ধরে বিটিএমএ। তথ্য বলছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ভারত থেকে বাংলাদেশ সুতা আমদানি করেছে ৫৫৬ দশমিক ১২ কেজি, যার দাম প্রায় ১ হাজার ৭৯৪ মিলিয়ন ডলার। আগের অর্থবছরে (২০২৩-২৪) আমদানি করা হয় ১ হাজার ৪৯৩ মিলিয়ন ডলারের। তার আগের বছরগুলো থেকে ধারাবাহিকভাবে আমদানি বাড়ছে, এমন তথ্য পাওয়া যায়। গত ২২ মাসে ১৩৭ শতাংশ আমদানি বেড়েছে, যা ১০ থেকে ৩০ কাউন্টের মধ্যে এসেছে।

শওকত আজিজ রাসেল বলেন, ‘আমাদের দেশে সংকট তৈরি হলে সেটা সমাধানে লম্বা সময় চলে যায়। অথচ ভারত সংকটে পড়লে ২-৩ ঘণ্টার মধ্যেই সিদ্ধান্ত নেয়।’ সরকার যদি কৃষিতে ভর্তুকি দিতে পারে, ব্যাংক লুটের টাকা যদি উপেক্ষা করা যায়, তাহলে ভ্যালু অ্যাডিশন করা এ শিল্পে সাময়িক সহায়তা কেন দেয়া যাবে না প্রশ্ন তার। ভারত সরকারের টেক্সটাইল খাতে প্রণোদনা ও নীতিসহায়তার তথ্য জানায় বিটিএমএ। সেখানে দেখা যায়, দেশটির কেন্দ্রীয় সরকার ও প্রাদেশিক সরকার বিভিন্ন কর্মসূচিতে আর্থিক সহায়তা ও নীতিসহায়তা দেয়।

আমদানিতে বন্ড সুবিধা বাতিল মানে শুল্ক সুবিধা নয় দাবি করে বিটিএমএর পরিচালক মো. বাদশাহ মিয়া বলেন, ‘এটি নতুন কোনো শুল্ক সুবিধা নয়। বরং আমদানির পর আমদানি করা সুতা থেকে দেয়া ডিউটি ফেরত নেয়ার একটি অপশন মাত্র। এখন বাংলাদেশে বহু অ্যাকসেসরিজ ও ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ শিল্প গড়ে উঠেছে। তাহলে যে পণ্য আমরা নিজেরাই শতভাগ উৎপাদনে সক্ষম, সেই পণ্য কি বন্ড সুবিধা দিয়ে আমদানিতে উৎসাহিত করা যুক্তিসংগত? আমার জানামতে, পৃথিবীর কোনো দেশই স্থানীয় শিল্প ধ্বংস করে আমদানিকে এভাবে উৎসাহ দেয় না। আজ আমাদের বহু স্পিনিং মিল বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। এর প্রভাব এরই মধ্যে দেখা যাচ্ছে। ভারতের সুতার দাম বাড়তে শুরু করেছে। যদি আমাদের মিলগুলো বন্ধ হয়ে যায়, ভবিষ্যতে সুতার দাম আরো বাড়বে, তখন পোশাক খাতে এর প্রভাব পড়বে।’

সম্প্রতি ভারত থেকে সুতা আমদানি কমিয়ে আনতে বন্ড সুবিধা বাতিল করতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে দেয়া চিঠি দিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। তবে এ সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে বন্ড সুবিধা বাতিল না করার দাবি জানিয়েছে পোশাক শিল্প মালিকদের দুই সংগঠন বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ। তাদের দাবি, সরকার স্পিনিং শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখতে গিয়ে দেশের বৃহৎ রফতানিকারক পোশাক শিল্পকে ধ্বংস করছে। তবে বিজিএমইএ ও বিকেএমইএর বক্তব্য সঠিক নয় বলে দাবি বিটিএমএর। সংবাদ সম্মেলনে বিটিএমএ সভাপতি বলেন, ‘আমরা একে অপরের পরিপূরক। এ সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্রে বিকেএমইএ, বিজিএমইএ ও বিটিএমএর সঙ্গে আলোচনা করেই ট্যারিফ কমিশন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন দিয়েছে।’

সংবাদ সম্মেলনে আরো বক্তব্য দেন বিটিএমএর পরিচালক চৌধুরী মোহাম্মদ হানিফ শোয়েব, সাবেক পরিচালক মো. মোশাররফ হোসেন ও রাজীব হায়দার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *