
রাশিয়া থেকে ৩০ হাজার টন সার উপহার পেল বাংলাদেশ
জানুয়ারি ২০, ২০২৬
ভারত থেকে সুতা আমদানিতে বন্ড সুবিধা বাতিল হলে ধ্বংস হবে দেশের পোশাক খাত
জানুয়ারি ২০, ২০২৬ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও চট্টগ্রাম শাহ আমানত বিমানবন্দরের সঙ্গে নগর যোগাযোগে সময় কমেছে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে ও মেট্রোরেল সুবিধায়।
ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও চট্টগ্রাম শাহ আমানত বিমানবন্দরের সঙ্গে নগর যোগাযোগে সময় কমেছে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে ও মেট্রোরেল সুবিধায়। ফলে আকাশপথে ভ্রমণের চাহিদা বাড়লেও ফ্লাইট সংখ্যা না বাড়ায় ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে টিকিটের দাম বেড়েছে অস্বাভাবিকভাবে। যাত্রীদের অভিযোগ, বাড়তি ভাড়া দিয়েও সুবিধাজনক সময়ে ফ্লাইট মিলছে না।
আকাশপথে দেশে অভ্যন্তরীণ যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ রুট ঢাকা-চট্টগ্রাম। পর্যটক ছাড়াও ব্যবসায়ী, সরকারি কর্মকর্তারা বিমানে চড়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে ভ্রমণ করেন। একসময় বিমানবন্দর থেকে সড়কপথে গন্তব্যে পৌঁছতে দীর্ঘসূত্রতা ও ভোগান্তির কারণে অনেক যাত্রী আগ্রহ থাকা সত্ত্বেও বিমানে ভ্রমণ এড়িয়ে চলতেন। কিন্তু এখন ঢাকা ও চট্টগ্রামে বিমানবন্দরমুখী এক্সপ্রেসওয়ে, ঢাকায় মেট্রোরেল সুবিধায় বিমানে মানুষের আগ্রহ বেড়েছে। তবে অপর্যাপ্ত ফ্লাইটের কারণে বাড়তি ভাড়ার পাশাপাশি টিকিট সংগ্রহেও ভোগান্তিতে পড়ছেন উড়োজাহাজে ঢাকা-চট্টগ্রাম ভ্রমণকারীরা।
একসময় দেশে একাধিক বেসরকারি উড়োজাহাজ পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান থাকলেও বর্তমানে সেটি সীমিত হয়ে এসেছে। দেশের প্রথম বেসরকারি মালিকানাধীন জিএমজি এয়ারলাইনস বন্ধ হওয়ার পর ধারাবাহিকভাবে ইউনাইটেড এয়ার, রিজেন্ট এয়ারওয়েজ, ইউএস-বাংলার মতো একাধিক বেসরকারি কোম্পানি অপারেশনে আসে। তবে এক দশকের মধ্যেই ইউনাইটেড এয়ার ও রিজেন্ট এয়ারওয়েজ বন্ধ হয়ে যায়। এরপর নভোএয়ার কার্যক্রম পরিচালনা করলেও প্রতিযোগিতায় টিকতে না পেরে কার্যক্রম অনেকটা গুটিয়ে নিয়েছে। এখন অভ্যন্তরীণ রুটে মূলত রাষ্ট্রায়ত্ত বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের পাশাপাশি বেসরকারি ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস ও এয়ার অ্যাস্ট্রা নিয়মিত অপারেশন করছে। এর মধ্যে এয়ার অ্যাস্ট্রা ইউএস-বাংলা গ্রুপের মালিকানাধীন।
এক দশক ধরে চট্টগ্রামের যোগাযোগ ব্যবস্থা ছিল খুবই নাজুক। বিশেষ করে চট্টগ্রাম শহর থেকে পতেঙ্গায় শাহ আমানত বিমানবন্দরে পৌঁছতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময়ক্ষেপণ হতো। আবার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ঢাকার প্রধান প্রধান এলাকায় যেতেও যানজটের ভোগান্তি ছিল চরমে। যে কারণে বিমানে ভ্রমণে অনাগ্রহ তৈরি হয়েছিল। তবে ঢাকায় মেট্রো রেল, বিমানবন্দর থেকে ঢাকার প্রধান কয়েকটি এলাকা সংযোগকারী এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে চালুর পর যাতায়াতে বড় পরিবর্তন এসেছে। অন্যদিকে আগে চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় অবস্থিত শাহ আমানত বিমানবন্দরে সড়কপথে যাতায়াত ছিল খুবই ভোগান্তির। শহরের আগ্রাবাদ বাণিজ্যিক এলাকা পেরিয়ে বন্দর ও চট্টগ্রাম কাস্টমসসংলগ্ন দুই লেনের সড়ক দীর্ঘ যানজটে এমনিতে ভোগান্তির মধ্যে থাকত যাত্রীরা। এরপর চট্টগ্রাম রফতানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা (সিইপিজেড), কর্ণফুলী ইপিজেডসহ বিভিন্ন বাণিজ্যিক স্থাপনা পেরিয়ে বিমানবন্দরে যেতে প্রায়ই কয়েক ঘণ্টা সময় লেগে যেত। ২০২৩ সালের ১৪ নভেম্বর লালখান বাজার থেকে পতেঙ্গা পর্যন্ত এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে উদ্বোধন করা হয়। বর্তমানে মাত্র ২৫-৩০ মিনিটের মধ্যেই বিমানবন্দরে পৌঁছতে সক্ষম হওয়ায় চট্টগ্রামের ব্যবসায়িক পরিমণ্ডল কিংবা সরকারি কর্মকর্তাদের মধ্যেই বিমানে চলাচলের আগ্রহ বেড়েছে।
ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুরস প্রতিষ্ঠান বি-ফ্রেশের চেয়ারম্যান মো. শামসুল ইসলাম বণিক বার্তাকে বলেন, ‘ঢাকা-চট্টগ্রামে উড়োজাহাজে যাত্রীদের চাপ অনেক বেড়েছে এটা সত্য। বিশেষ করে উভয় দিকে সড়কের সুবিধা বেড়ে যাওয়ায় দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছতে চাওয়া যাত্রীদের আগ্রহ বেড়েছে। কিন্তু চাহিদা বাড়লেও এয়ারলাইনসগুলো চাইবে লাভ করতে। এ রুটে সপ্তাহের শেষে ও সপ্তাহের শুরুতে যাত্রী চাপ বেশি থাকে। কিন্তু চাহিদা অনুযায়ী এয়ারলাইনসের সংকটে পর্যাপ্ত ফ্লাইট না থাকায় পিক সময়গুলোতে টিকিটের দাম বেড়ে যায়। তাছাড়া ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে যেকোনো একমুখী ফ্লাইটে সর্বোচ্চ সংখ্যক যাত্রী পেলেও অধিকাংশ সময়ই সক্ষমতার অর্ধেক যাত্রী পরিবহন করতে হয়। এজন্য কোম্পানিগুলো লাভজনক রুটকেই সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য দেয়।’
খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঢাকা থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত উভয়মুখী ফ্লাইটে যাত্রী চাহিদা থাকে। একজন যাত্রী বা পর্যটক উড়োজাহাজে কক্সবাজার ভ্রমণ করলে সিংহভাগই ফিরতি পথে উড়োজাহাজেই ঢাকায় ভ্রমণ করে। যার কারণে কক্সবাজারের ফ্লাইটগুলোতে ৮০-৯৫ শতাংশ পর্যন্ত যাত্রী অকুপেন্সি হয়। যা এয়ারলাইনস কোম্পানিগুলোর জন্য লাভজনক। কিন্তু চট্টগ্রামের ক্ষেত্রে বিষয়টি ভিন্ন। অনেকেই একমুখী যাতায়াতের কারণে সবচেয়ে পিক সময়ের একটি ফ্লাইট ফিরতি পথে অর্ধেকেরও কম যাত্রী নিয়ে যাত্রা করতে হয়। এ কারণে আগ্রহ থাকলেও ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে ফ্লাইট বাড়ানোর ক্ষেত্রে অনীহা রয়েছে বেসরকারি এয়ারলাইনসগুলোর।
জানতে চাইলে এভিয়েশন অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এওএবি) ও নভোএয়ারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মফিজুর রহমান বণিক বার্তাকে বলেন, ‘ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে বিমানে যাত্রী চাহিদা বেড়েছে এটা সত্য। কিন্তু ঢাকার তুলনায় ঢাকা-কক্সবাজার রুটে উড়োজাহাজ পরিচালনাকারী কোম্পানিগুলো বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে। সড়কের যাতায়াত সুবিধায় যাত্রী বাড়লেও অধিকাংশ এয়ারলাইনসই ডোমেস্টিক ফ্লাইটে মুনাফা করতে পারে না। এ কারণে সবচেয়ে চাহিদাসম্পন্ন দিনগুলোতে যাত্রী চাহিদা বেশি থাকলেও কাঙ্ক্ষিত ফ্লাইট চালাতে তেমন একটা আগ্রহ নেই।’
ট্রাভেল প্রতিষ্ঠানগুলো বলছে, আগে ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে প্রতিটি ফ্লাইট ইকোনমি ক্লাসে ৩ হাজার থেকে সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকার মধ্যে টিকিট পাওয়া যেত। ছয় মাস ধরে এ রুটে ন্যূনতম ৪ হাজার থেকে সর্বোচ্চ ১৫ হাজার টাকায়ও টিকিট বিক্রি হয়। বিশেষ করে বৃহস্পতিবার বিকাল থেকে রোববার সকাল পর্যন্ত যাত্রী চাপ অনেক বেশি থাকে। আবার কোনো উৎসব কিংবা টানা সরকারি বন্ধের সময়ে এ রুটে যাত্রী চাপ অনেক বেশি থাকে। তখন চাহিদার কারণে দ্রুত ইকোনমি টিকিটের বিক্রি শেষ হয়ে চড়া দামে বাড়তি স্ল্যাপের টিকিটগুলো বিক্রি হয়। মূলত অধিকাংশ সময়ই বিভিন্ন ফ্লাইটের একাধিক স্ল্যাপের টিকিট অবিক্রীত থাকলেও সর্বোচ্চ চাহিদার সময় কয়েক গুণ বেশি দামের টিকিটগুলোও বিক্রি হয়ে যায়।
জানা গেছে, বর্তমানে দেশে অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট পরিচালনায় যুক্ত রয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস, নভোএয়ার ও এয়ার অ্যাস্ট্রা। নভোএয়ার, এয়ার অ্যাস্ট্রা ও বাংলাদেশ বিমানের ফ্লাইট সীমিত হলেও সবচেয়ে বেশি ফ্লাইট পরিচালনা করে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস। এর মধ্যে বাংলাদেশ বিমান ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে সরাসরি উড়োজাহাজ চালানোর পাশাপাশি বিদেশগামী ফ্লাইটের অবিক্রীত টিকিটে ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটের যাত্রী পরিবহন করে। খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, সীমিত ফ্লাইট সংখ্যা ও প্রতিযোগিতা কম থাকায় বিপুল চাহিদা থাকা সত্ত্বেও অনেক সময় যাত্রীরা কাঙ্ক্ষিত সময়ের ফ্লাইট ও প্রত্যাশিত সেবা পাচ্ছেন না।
নিয়মিত ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে উড়োজাহাজে চলাচল করেন চট্টগ্রামের ব্যবসায়ী এমএইচ গ্রুপের চেয়ারম্যান মোশারফ হোসেন। তিনি বণিক বার্তাকে বলেন, ‘সড়কপথের সুবিধা বেড়ে যাওয়ায় গুরুত্বপূর্ণ কাজে ঢাকা কিংবা চট্টগ্রামে যাওয়া ব্যবসায়ীসহ যাত্রীরা আকাশপথে আগ্রহী হয়েছে। চাহিদা বাড়লেও সীমিত ফ্লাইটের কারণে অধিকাংশ সময়ই চাহিদামতো টিকিট পাওয়া যায় না। বিশেষ করে ব্যবসায়ীরা দ্রুত ঢাকার কাজ শেষ করে রাতের ফ্লাইটে চট্টগ্রাম আসতে চাইলে কাঙ্ক্ষিত ফ্লাইট পাচ্ছেন না। দেশে একসময় একাধিক উড়োজাহাজ সংস্থা ছিল। এখন চাহিদা কয়েক গুণ বাড়লেও এসব কোম্পানির সংখ্যা অনেক কমেছে। ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটের যাত্রীদের সুবিধার কথা বিবেচনায় নিয়ে রাষ্ট্রায়ত্ত বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের এ রুটে ফ্লাইট সংখ্যা বাড়ানো উচিত।’


