ইসিতে আপিল শুনানির পঞ্চম দিনে প্রথম অর্ধে মনোনয়ন ফিরে পেলেন ২৮ জন
জানুয়ারি ১৪, ২০২৬
বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের অভিবাসী ভিসা প্রক্রিয়াকরণ স্থগিত করেছে যুক্তরাষ্ট্র
জানুয়ারি ১৫, ২০২৬
ইসিতে আপিল শুনানির পঞ্চম দিনে প্রথম অর্ধে মনোনয়ন ফিরে পেলেন ২৮ জন
জানুয়ারি ১৪, ২০২৬
বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের অভিবাসী ভিসা প্রক্রিয়াকরণ স্থগিত করেছে যুক্তরাষ্ট্র
জানুয়ারি ১৫, ২০২৬

ইরানে বিক্ষোভে ২৫৭১ জন নিহতের দাবি মানবাধিকার সংস্থার

নিহতদের মধ্যে ২ হাজার ৪০৩ জন বিক্ষোভকারী, ১৪৭ জন সরকার-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, ১৮ বছরের কম বয়সী ১২ জন এবং বিক্ষোভে জড়িত নন এমন ৯ জন বেসামরিক নাগরিক রয়েছেন।

ইরানে গত কয়েকদিন ধরে চলা সরকারবিরোধী বিক্ষোভে ২ হাজার ৫৭১ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্টস নিউজ এজেন্সি বা এইচআরএএনএ। সংস্থাটির তথ্য বলছে, নিহতদের মধ্যে ২ হাজার ৪০৩ জন বিক্ষোভকারী, ১৪৭ জন সরকার-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, ১৮ বছরের কম বয়সী ১২ জন এবং বিক্ষোভে জড়িত নন এমন ৯ জন বেসামরিক নাগরিক রয়েছেন।

ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা বিবিসি তাদের প্রতিবেদনে জানিয়েছে, মৃতের এ সংখ্যা গত কয়েক দশকে ইরানে সংঘটিত যেকোনো বিক্ষোভ বা অস্থিরতার তুলনায় অনেক বেশি। একই সঙ্গে এটি দেশটির ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লব ঘিরে সৃষ্ট বিশৃঙ্খলার স্মৃতি মনে করিয়ে দেয়।

মূল্যস্ফীতির জেরে শুরু হওয়া এ বিক্ষোভ গত তিন বছরে ইরানি কর্তৃপক্ষের জন্য সবচেয়ে বড় অভ্যন্তরীণ চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়েছে বলে জানিয়েছে রয়টার্স। গত বছর ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনার পর আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ার প্রেক্ষাপটে এ অস্থিরতা দেখা দেয়। মূলত গত ডিসেম্বরের শেষ দিকে এ বিক্ষোভ শুরু হয় এবং খুব দ্রুত তা দেশটির ধর্মতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার বিরুদ্ধে এক ব্যাপক আন্দোলনের রূপ নেয়।

গতকাল মঙ্গলবার তেহরানের বিক্ষোভ থেকে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) যে ছবি প্রকাশ করেছে, তাতে খামেনির মৃত্যুর আহ্বান জানিয়ে গ্রাফিতি ও স্লোগান দেখা গেছে—যা ইরানে মৃত্যুদণ্ডযোগ্য অপরাধ বলে ধরা হতে পারে। আন্দোলন শুরুর পর এদিনই দেশটির সরকারি এক কর্মকর্তা জানান, বিক্ষোভে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যসহ অন্তত ২ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এ সংখ্যা আরো বেশি হতে পারে বলেও জানান তিনি। তবে তিনি এ ঘটনার জন্য অজ্ঞাত সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে দায়ী করেছেন।

ইরান সরকার বলছে, শান্তিপূর্ণ অর্থনৈতিক বিক্ষোভ বৈধ হলেও নিরাপত্তা বাহিনী কড়া অবস্থান নিচ্ছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো জানিয়েছে, শত শত মানুষ নিহত ও হাজার হাজার মানুষ আটক হয়েছে। কয়েক দিন ইন্টারনেট বন্ধ থাকায় তথ্য পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। যদিও ফোন পরিষেবা আংশিক ফিরেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে সংঘর্ষ ও আগুন লাগানোর দৃশ্য দেখা গেছে।

এদিকে নিহতের সংখ্যা বাড়তে থাকায় মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প লেখেন, ইরানি দেশপ্রেমিকরা, বিক্ষোভ চালিয়ে যাও—তোমাদের প্রতিষ্ঠানগুলো দখল করে নাও। বিক্ষোভকারীদের নির্বিচার হত্যাকাণ্ড বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত আমি ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে সব বৈঠক বাতিল করেছি। সহায়তা আসছে।

শুধু তাই নয়, এ অস্থিরতার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইরানের ওপর চাপ আরো বাড়ানো হয়েছে। ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন, যারা ইরানের সঙ্গে ব্যবসা করবে, তাদের পণ্যের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে। ইরান একটি বড় তেল রফতানিকারক দেশ হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের এ সিদ্ধান্তে চীন, তুরস্ক, ইরাক ও ভারতের মতো অংশীদার দেশগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এরই মধ্যে চীন এ শুল্ক আরোপের তীব্র সমালোচনা করেছে।

তবে এর কয়েক ঘণ্টা পরই ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, যথাযথ পদক্ষেপ নেয়ার আগে তার প্রশাসন বিক্ষোভে নিহতদের সঠিক সংখ্যা সম্পর্কে একটি নির্ভরযোগ্য প্রতিবেদন পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে। ইরানের নিরাপত্তা বাহিনী সম্পর্কে ট্রাম্প বলেন, আমার কাছে মনে হচ্ছে তারা খুবই খারাপ আচরণ করেছে, কিন্তু তা এখনো নিশ্চিত নয়।

এরপরই ট্রাম্পকে যেকোনো পদক্ষেপ নেয়া থেকে বিরত থাকার সতর্কবার্তা দেন ইরানি কর্মকর্তারা। দেশটির সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব আলি লারিজানি যুক্তরাষ্ট্রের এ অবস্থানের জবাবে লেখেন, আমরা ইরানের জনগণের প্রধান হত্যাকারীদের নাম ঘোষণা করছি: এক, ট্রাম্প ও দুই, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *