এলপিজি অটোগ্যাস সংকটে প্রায় সব ফিলিং স্টেশন বন্ধ
জানুয়ারি ১০, ২০২৬
বগুড়ার আলু রফতানি হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্য, সিঙ্গাপুর মালয়েশিয়াসহ ৭ দেশে
জানুয়ারি ১০, ২০২৬
এলপিজি অটোগ্যাস সংকটে প্রায় সব ফিলিং স্টেশন বন্ধ
জানুয়ারি ১০, ২০২৬
বগুড়ার আলু রফতানি হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্য, সিঙ্গাপুর মালয়েশিয়াসহ ৭ দেশে
জানুয়ারি ১০, ২০২৬

টাইম ম্যাগাজিন তেহরানে বিক্ষোভে গুলি, দুইশর বেশি নিহতের দাবি চিকিৎসকের

নিহতদের অধিকাংশই তরুণ এবং তাদের শরীরে তাজা বুলেটের আঘাত রয়েছে। বিশেষ করে উত্তর তেহরানের একটি পুলিশ স্টেশনের সামনে অবস্থানরত বিক্ষোভকারীদের ওপর মেশিনগান দিয়ে গুলি চালানো হয়, যাতে অনেকেই ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান।

ইরানের রাজধানী তেহরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে দুই শতাধিক মানুষ নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছেন এক চিকিৎসক। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি টাইম ম্যাগাজিনকে জানান, তেহরানের অন্তত ছয়টি হাসপাতালে বৃহস্পতিবার রাত থেকে কমপক্ষে ২১৭ জন বিক্ষোভকারীর মৃত্যু নথিভুক্ত হয়েছে।

ওই চিকিৎসক আরো জানান, নিহতদের অধিকাংশই তরুণ এবং তাদের শরীরে তাজা বুলেটের আঘাত রয়েছে। বিশেষ করে উত্তর তেহরানের একটি পুলিশ স্টেশনের সামনে অবস্থানরত বিক্ষোভকারীদের ওপর মেশিনগান দিয়ে গুলি চালানো হয়, যাতে অনেকেই ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান। অ্যাক্টিভিস্টদের দাবি, শুধুমাত্র ওই একটি ঘটনাতেই অন্তত ৩০ জন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।

টাইম ম্যাগাজিনের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে যে, শুক্রবার তেহরানের হাসপাতালগুলো থেকে মরদেহ সরিয়ে নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এটিকে প্রকৃত নিহতের সংখ্যা লুকানোর চেষ্টা হিসেবে দেখছেন অনেকে। যদিও হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্ট নিউজ এজেন্সি (এইচআরএএনএ) এখন পর্যন্ত ৬৩ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে। তবে ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট ও পরিচয় শনাক্তকরণ জটিলতার কারণে এই সংখ্যা আরো অনেক বেশি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার রাত থেকে দেশজুড়ে ইন্টারনেট ও ফোন সংযোগ প্রায় সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করে দেয়া হয়েছে। এরই মধ্যে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলা হয়েছে, ‘নাশকতাকারীদের’ প্রতি কোনো করুণা দেখানো হবে না। তেহরানের প্রসিকিউটর ঘোষণা করেছেন যে, বিক্ষোভকারীদের মৃত্যুদণ্ড পর্যন্ত হতে পারে। এমনকি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর পক্ষ থেকে অভিভাবকদের সতর্ক করে বলা হয়েছে, তাদের সন্তানরা বিক্ষোভে গিয়ে গুলিবিদ্ধ হলে যেন কোনো অভিযোগ না করা হয়।

ইরানের এই দমনপীড়নকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি সরাসরি চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বৃহস্পতিবারই ট্রাম্প সতর্ক করেছিলেন যে, বিক্ষোভকারীদের হত্যা করা হলে ইরানকে ‘চরম মূল্য’ দিতে হবে। উল্লেখ্য, গত ২৮ ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভ বর্তমানে ইরানের ৩১টি প্রদেশেই ছড়িয়ে পড়েছে। শুরুতে অর্থনৈতিক সংকটের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ থাকলেও এখন তা সরাসরি শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের দাবিতে রূপ নিয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *