
জেনেসিসের বৈশ্বিক বিক্রি ১৫ লাখ ছাড়াল
জানুয়ারি ৬, ২০২৬
সাড়ে তিন বছরের বেশি সময় পর ফিরছে বিটিএস
জানুয়ারি ৬, ২০২৬সুন্দরবনে পর্যটকবাহী জালিবোটসহ লঞ্চ ও ট্রলার চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে মালিক পক্ষ।
সুন্দরবনে পর্যটকবাহী জালিবোটসহ লঞ্চ ও ট্রলার চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে মালিক পক্ষ। ফলে দূর-দূরান্ত থেকে আসা দেশী-বিদেশী পর্যটকরা ফিরে যাচ্ছেন। রোববার নৌ-পরিবহন অধিদপ্তর মোংলার ফেরিঘাট এলাকায় থাকা অন্তত ৩০টি জালিবোটের ওপরের অবকাঠামো অপসারণ করে। এর প্রতিবাদে ক্ষতিগ্রস্ত বোট মালিকরা ধর্মঘটের ডাক দিয়েছেন।
এ অবস্থায় গতকাল সকাল থেকেই সুন্দরবনে পর্যটকদের প্রবেশ ও ভ্রমণ বন্ধ রয়েছে। এদিন ভোর থেকে সুন্দরবনের উদ্দেশ্যে দূর-দূরান্ত থেকে মোংলার পিকনিক কর্নারে আসা দেশী-বিদেশী পর্যটকরা ফিরে যেতে বাধ্য হন।
যশোর থেকে আসা সাজেদ রহমান বলেন, ‘পরিবার ও প্রতিবেশীদের নিয়ে সুন্দরবন ভ্রমণে এসে মোংলার পিকনিক কর্নারে আটকে পড়েছিলাম। গাড়ি থেকে নামার পর শুনছি সুন্দরবনে যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম জালিবোটসহ অন্যান্য নৌযানের ধর্মঘট চলছে। তাই ফিরে যাচ্ছি।’
দিনাজপুর থেকে পরিবারসহ আসা তামান্না বেগম বলেন, ‘এখানে এসে দেখি নৌযান চলাচল বন্ধ। আমরা আর সুন্দরবনে যেতে পারছি না। কী করব আর, ফিরে যেতে হবে এখন।’
খুলনার চুকনগর থেকে আসা রেজাউল করিম বলেন, ‘আমরা এক বাসে ৫৪ জন এসেছি। এসে দেখি সুন্দরবনে যাওয়ার সব নৌযান চলাচল বন্ধ। আসাটাই হলো বৃথা।’
মোংলা বন্দর যন্ত্রচালিত মাঝি-মাল্লা সংঘের দাবি, মোংলায় পর্যটকবাহী ৪০০ জালি বোট রয়েছে। প্রতিটি বোটের ট্রেড লাইসেন্সসহ অন্যান্য কাগজপত্র রয়েছে। কিন্তু তারপরও হঠাৎ করে তাদের অন্তত ৩০টি জালিবোটের ওপরের অংশের অবকাঠামো কেটে ও ভেঙে সেসব মালামাল নিয়ে যায় নৌ-পরিবহন অধিদপ্তর। এতে বোটের সৌন্দর্যের পাশাপাশি পর্যটকদের স্বাচ্ছন্দ্যে বসার পরিবেশ নষ্ট হয়েছে। এর প্রতিবাদে ধর্মঘটের ডাক দিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত বোট মালিকেরা।
মোংলা বন্দর যন্ত্রচালিত মাঝি-মাল্লা সংঘের সাধারণ সম্পাদক সোহাগ হাওলাদার বলেন, ‘আমরা মূলত ফরেন শিপের জালিবোট সংস্কার করে পর্যটকদের যাতায়েতের জন্য ব্যবহার করি। কোস্টগার্ডের নির্দেশনা অনুযায়ী আমাদের বোটে মাত্র ১০ জন পযটক যাতায়েত করে। আমাদের সব ধরনের বৈধ কাগজপত্র রয়েছে। ট্রেড লাইসেন্স করেছি, মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের অনুমতিও নিয়েছি। কিন্তু এখন হঠাৎ করে নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ আমাদের লাইসেন্স করতে বলছে। যেখানে প্রতি বছর ২৫ হাজার টাকা দিতে হবে। এটা আমাদের জন্য খুবই কষ্টকর। মাত্র তিন মাস ট্রলার চালাতে পারি, প্রতি বছর ২৫ হাজার টাকা দেয়া অসম্ভব। এসব বলার পরও তারা আমাদের বোটের ওপরের অংশের অবকাঠামো কেটে ও ভেঙে সেসব মালামাল নিয়ে যায়। এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে আমরা সকাল থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য ধর্মঘট ডেকেছি। এসব সমাধান না হওয়া পর্যন্ত ধর্মঘট চলবে।’
এ ব্যাপারে নৌ-পরিবহন অধিদপ্তরের খুলনার পরিদর্শক মো. রাশেদুল আলম বলেন, ‘জালিবোটগুলোর ওপরের অংশের অবকাঠামো অপসারণ করা হয়েছে। যাতে বোটের স্থিতিশীলতা বজায় থাকে, দুর্ঘটনাকবলিত না হয়। মূলত আমাদের উদ্দেশ্য হলো পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।’


