
উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও ক্রমবর্ধমান বেকারত্বে জনজীবনে বড় অভিঘাত
জানুয়ারি ৫, ২০২৬
তারেক রহমানের সঙ্গে গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট নেতাদের বৈঠক মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তিকে রাজনীতি থেকে দূরে রাখার আহ্বান
জানুয়ারি ৫, ২০২৬বৈশ্বিক উত্তেজনা | উত্তর কোরিয়া | হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র | কিম জং উন | যুক্তরাষ্ট্র | ভেনেজুয়েলা
ভেনেজুয়েলাকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক উত্তেজনার মধ্যেই অত্যাধুনিক হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়েছে উত্তর কোরিয়া। দেশটির সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উন নিজে এই ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ পরীক্ষা তদারকি করেছেন বলে জানিয়েছে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম। বিশ্লেষকদের মতে, এটি কেবল সামরিক পরীক্ষা নয়, বরং চলমান আন্তর্জাতিক সংকটে একটি স্পষ্ট রাজনৈতিক বার্তা।
উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা কোরিয়ান সেন্ট্রাল নিউজ এজেন্সি (কেসিএনএ) জানায়, এই পরীক্ষার মূল লক্ষ্য ছিল পরমাণু বাহিনীকে যুদ্ধ পরিস্থিতির জন্য আরও প্রস্তুত করা। রাষ্ট্রীয় বিবৃতিতে বলা হয়, সাম্প্রতিক ‘ভূরাজনৈতিক সংকট’ এই ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষাকে বিশেষ তাৎপর্য দিয়েছে। যদিও সরাসরি কোনো দেশের নাম উল্লেখ করা হয়নি, তবে এতে স্পষ্টভাবে ইঙ্গিত করা হয়েছে ভেনেজুয়েলাকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক তৎপরতার দিকে।
বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপান রোববার নিশ্চিত করেছে যে তারা পিয়ংইয়ংয়ের কাছাকাছি এলাকা থেকে দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ শনাক্ত করেছে। এটি চলতি বছরে উত্তর কোরিয়ার প্রথম ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা, যা পূর্ব এশিয়ায় নিরাপত্তা উদ্বেগ নতুন করে উসকে দিয়েছে।
বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ংয়ের বেইজিং সফরের ঠিক কয়েক ঘণ্টা আগেই এই ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালানো হয়। প্রেসিডেন্ট লি সফরের আগে আশা প্রকাশ করেছিলেন যে, চীন উত্তর কোরিয়ার ওপর তার প্রভাব ব্যবহার করে কোরীয় উপদ্বীপে উত্তেজনা কমাতে এবং সিউল-পিয়ংইয়ং সম্পর্ক উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে। ঠিক এমন সময় ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষাকে অনেকেই কৌশলগত বার্তা হিসেবে দেখছেন।
সোমবার প্রকাশিত কেসিএনএ প্রতিবেদনে কিম জং উনের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়, সাম্প্রতিক পরীক্ষায় প্রমাণ হয়েছে যে উত্তর কোরিয়ার পরমাণু বাহিনী বাস্তব যুদ্ধ পরিস্থিতির জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত। কিম বলেন, “আমাদের পরমাণু বাহিনীকে কার্যকর যুদ্ধ সক্ষমতায় নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য অর্জিত হয়েছে।”
তিনি আরও জানান, এই ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক প্রতিরোধ ব্যবস্থা ধাপে ধাপে আরও শক্তিশালী করার অংশ। কিম জং উনের বক্তব্যে স্পষ্ট যে, পিয়ংইয়ং নিজেদের নিরাপত্তা হুমকির মুখে মনে করছে এবং সে অনুযায়ী সামরিক সক্ষমতা জোরদার করছে।
হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তি বিশ্ব সামরিক কৌশলে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত। এই ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র শব্দের গতির পাঁচ গুণেরও বেশি বেগে চলতে পারে এবং প্রচলিত ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এড়াতে সক্ষম। ফলে উত্তর কোরিয়ার এই সক্ষমতা যুক্তরাষ্ট্র, দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ভেনেজুয়েলা সংকটকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অবস্থান কঠোর হওয়ায় উত্তর কোরিয়া সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। ওয়াশিংটনের সঙ্গে দীর্ঘদিনের বৈরিতা থাকা দেশটি বৈশ্বিক অস্থিরতার সুযোগে নিজেদের সামরিক শক্তি প্রদর্শনের মাধ্যমে কৌশলগত ভারসাম্য রক্ষা করতে চাইছে।
আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ইতোমধ্যেই এই ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার নিন্দা জানিয়েছে এবং কোরীয় উপদ্বীপে উত্তেজনা কমানোর আহ্বান জানিয়েছে। তবে উত্তর কোরিয়ার পক্ষ থেকে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, তারা তাদের জাতীয় নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় কোনো আপস করবে না।
সব মিলিয়ে, ভেনেজুয়েলা ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাড়তে থাকা উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে উত্তর কোরিয়ার এই ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা বৈশ্বিক রাজনীতিতে নতুন করে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। এতে স্পষ্ট হচ্ছে, চলমান আন্তর্জাতিক সংকটগুলো একে অপরের সঙ্গে জড়িয়ে আরও জটিল রূপ নিচ্ছে।


