
সারা দেশে মোবাইল হ্যান্ডসেটের দোকান বন্ধ, ভোগান্তিতে গ্রাহকরা
জানুয়ারি ৩, ২০২৬
যে কৌশলে ভেনিজুয়েলায় হামলা চালিয়ে মাদুরোকে গ্রেফতার করে যুক্তরাষ্ট্র
জানুয়ারি ৩, ২০২৬চট্টগ্রামের একমাত্র দ্বীপ উপজেলা সন্দ্বীপে যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম নদীপথ।
চট্টগ্রামের একমাত্র দ্বীপ উপজেলা সন্দ্বীপে যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম নদীপথ। বঙ্গোপসাগরের তীরবর্তী সন্দ্বীপ চ্যানেলের প্রায় ১৫ কিলোমিটার নৌপথে প্রতিদিন কয়েক হাজার মানুষ ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে। দ্বীপে যাতায়াতে সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয় কুমিরা-গুপ্তছড়া ঘাট একক ইজারাদারের অধীনে থাকায় নিম্নমানের সেবার পাশাপাশি বাড়তি ভাড়া গুনতে হতো যাত্রীদের। তবে চব্বিশের ৫ আগস্ট-পরবর্তী সময়ে ভাড়া কমানোর পাশাপাশি একক ইজারাদারের বিপরীতে আনা হয় উন্মুক্ত নৌযান। কিছুদিন সেবার মান বাড়লেও ফের সংকটে পড়েছেন যাত্রীরা। উভয় পাড়ে যানবাহনের নৈরাজ্য, নৌপথে বালি উত্তোলন ও অবৈধ বাল্কহেড চলাচল আর পলি জমে ভাঙন ও নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়েছে সন্দ্বীপ নৌপথ।
যাত্রীরা বলছেন, সন্দ্বীপের সঙ্গে যোগাযোগের সবচেয়ে জনপ্রিয় কুমিরা-গুপ্তছড়া নৌরুটে আগে প্রতিজন যাত্রীর স্পিডবোট ভাড়া ছিল ৩৮০ টাকা। ৫ আগস্টের পর ঘাট উন্মুক্ত করে দেয়ার ফলে ভাড়া কমিয়ে ২৫০ টাকা নির্ধারণ করে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)। এর আগে চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের সঙ্গে দ্বন্দ্বের কারণে এই রুটে ইজারাগ্রহীতা প্রতিষ্ঠান ছাড়া আর কেউ নৌযান পরিচালনা করতে পারত না। ঘাট উন্মুক্ত ও ভাড়া কমানোর পর ইজারাগ্রহীতা প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি আরো একটি প্রতিষ্ঠান স্পিডবোট সার্ভিস দেয়া শুরু করে। কিন্তু সম্প্রতি নৌ রুটটির উভয় প্রান্তে পলি জমে ভাটার সময় যাত্রী ভোগান্তির পাশাপাশি চলাচল ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে।
সন্দ্বীপে যাতায়াতে ভোগান্তি, অবৈধ নৌযান ও বাল্কহেডের কারণে নিরাপত্তা ঝুঁকিসহ ঘাটে যানবাহন প্রবেশ ও পার্কিং থেকে বাড়তি অর্থ সংগ্রহের বিষয়ে জানতে চাইলে বিআইডব্লিউটিএর উপপরিচালক নয়ন শীল বণিক বার্তাকে বলেন, ‘সন্দ্বীপের প্রধান নৌরুট কুমিরা-গুপ্তছড়া ঘাটের যাত্রীসেবা উন্নয়নে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছি। অবৈধ বালি উত্তোলন বন্ধ করা, বাল্কহেড চলাচলের বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা দিতে সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকেও জানিয়েছি। প্রতিজন যাত্রীর কাছ থেকে নৌ পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ২৪০ টাকা আদায় করলেও বিআইডব্লিউটিএ শুধু যাত্রীপ্রতি ১০ টাকা করে সরকারি ফি আদায় করে। ঘাট এলাকায় পার্কিং ও যানবাহন প্রবেশের ক্ষেত্রে অর্থ সংগ্রহের সঙ্গে বিআইডব্লিউটিএ সম্পৃক্ত নয়। সরকারি জমিতে পার্কিং বানিয়ে যাত্রী ও যানবাহনচালকদের কাছ থেকে জোরপূর্বক অর্থ আদায়ের বিষয়টি আমরা শুনেছি। এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
যাত্রীদের অভিযোগ, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে তিন চাকার থ্রি-হুইলার চলাচল নিষিদ্ধ থাকায় সন্দ্বীপে চলাচলকারী যাত্রীদের ভোগান্তি এমনিতে বেশি। চট্টগ্রাম শহর থেকে লোকাল বাসে করে সীতাকুণ্ড উপজেলার কুমিরা এলাকায় আসতে হয়। এরপর রিকশা কিংবা অটোরিকশায় ঘাট এলাকায় আসতে হয়। তবে সন্দ্বীপে যাতায়াতকারী যাত্রীর সংখ্যা বেশি হওয়ায় চট্টগ্রাম শহর থেকে লোকাল প্রাইভেট কার সার্ভিস চালু হয়েছে। এ সার্ভিসটি জনপ্রিয় হলেও প্রতিবার কুমিরা ঘাটে প্রবেশের সময় চাঁদা দেয়ার কারণে যাত্রীপ্রতি ভাড়াও বেড়ে গেছে। আবার যাত্রী নামিয়ে পার্কিং এলাকায় যানবাহন রাখা হলে সেখানেও অর্থ পরিশোধের কারণে যাত্রীদের ওপর বাড়তি ভাড়ার চাপ বেড়েছে।
এদিকে কুমিরা-গুপ্তছড়াসহ সন্দ্বীপ চ্যানেলের বিভিন্ন নৌরুটে যত্রতত্র ড্রেজার বসিয়ে বালি উত্তোলনের ফলে যাত্রী ও পণ্যবাহী নৌযানের ঝুঁকির বিষয়টি জানিয়ে সরকারি একাধিক সংস্থাকে চিঠি দিয়েছে বিআইডব্লিউটিএ। সন্দ্বীপ চ্যানেল সম্পূর্ণ বিআইডব্লিউটিএর নিয়ন্ত্রণাধীন এবং একটি সংরক্ষিত উপকূলীয় নৌপথ। তাছাড়া বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা (সংশোধন) আইন, ২০২৩-এর ধারা ৫(৩) এবং জারীকৃত বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা বিধিমালা, ২০২৫-এর বিধি ৭(১৫) অনুযায়ী, ড্রেজিং কার্যক্রমে বাল্কহেড বা প্রচলিত বলগেট ড্রেজার ব্যবহার নিষিদ্ধ। কিন্তু সরজমিনে চট্টগ্রাম বন্দরের দরপত্রের মাধ্যমে ইজারা দেয়া বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান সন্দ্বীপ চ্যানেলের অভ্যন্তরে বালি উত্তোলন করছে। অবৈধ বাল্কহেডসহ ড্রেজারের কারণে সন্দ্বীপ চ্যানেলের নাব্য ঝুঁকি ছাড়াও নৌচলাচল চরম ঝুঁকিতে পড়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২ ডিসেম্বর সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকেও একই বিষয়ে তদারকি করতে চিঠি দিয়েছে বিআইডব্লিউটিএ। নৌদুর্ঘটনা প্রতিরোধে ব্যবস্থা নিতে কুমিরা-গুপ্তছড়া, বাঁশবাড়িয়া-গুপ্তছড়া ও বাঁশবাড়িয়া-গাছুয়া নৌপথে ড্রেজার দিয়ে উত্তোলন প্রতিরোধে যৌথ অভিযান মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করতে উপজেলা প্রশাসনকে প্রস্তাব দেয় বিআইডব্লিউটিএ চট্টগ্রামের বন্দর ও পরিবহন বিভাগ। প্রায় এক মাস হয়ে গেলেও এ বিষয়ে উভয় সংস্থাই কার্যকর কোনো উদ্যোগ নিতে পারেনি। শীত মৌসুমে প্রতিদিন ছয় থেকে সাত হাজার যাত্রী সন্দ্বীপে চলাচল করায় যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি রয়েছে বলে মনে করেন যাত্রীরা।
সন্দ্বীপের একাধিক ব্যবসায়ীর অভিযোগ, একসময় সন্দ্বীপে পণ্য পরিবহন হতো চাক্তাই-খাতুনগঞ্জ থেকে নৌপথে। কর্ণফুলী নদী হয়ে সন্দ্বীপের বিভিন্ন পয়েন্টে পণ্য নিয়ে যেত ট্রলার। কিন্তু এক দশক ধরে কুমিরা-গুপ্তছড়া ঘাট দিয়েই অধিকাংশ পণ্য পরিবহন হয়। সন্দ্বীপ চ্যানেলে যত্রতত্র ড্রেজার বসানোর পাশাপাশি প্রতিনিয়ত চলাচলকারী বাল্কহেডের কারণে পণ্যবাহী নৌযানও ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। বিভিন্ন সময়ে দুর্ঘটনার কবলেও পড়েছে অনেক নৌযান। তাছাড়া নিয়মিত কার্যকর ড্রেজিংয়ের অভাবে উভয় পাড়ে ভাটার সময় নৌচলাচলে ভোগান্তির মধ্যে পড়তে হচ্ছে।
কুমিরা ঘাটে আসা যানবাহন থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা আলমগীর হোসেন বণিক বার্তাকে বলেন, ‘সরু সড়কের কারণে যানবাহনের কারণে প্রায়ই যানজট হয়। স্থানীয় ব্যক্তিদের জমিতে ঘাটে আসা যানবাহন রাখা হয়। এটা বিআইডব্লিউটিএ কিংবা জেলা পরিষদের জমি নয়। ঘাটে আসা যানবাহনের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে কিছু যুবক ১০ টাকা, ২০ টাকা উত্তোলন করে। তারা সারাদিন সময় ব্যয় করে, এজন্য যানবাহন থেকে সামান্য কিছু টাকা উত্তোলন দোষের কিছু নয়।’
তবে যানবাহনচালকদের নাজেহাল করা কিংবা যানবাহন থেকে প্রতিবার ১০০ টাকা হারে চাঁদা আদায়ের বিষয়টি অস্বীকার করেন তিনি।


