
বিভিন্ন জেলায় খালেদা জিয়ার গায়েবানা জানাজা
জানুয়ারি ১, ২০২৬
আইন ও সালিশ কেন্দ্রের পর্যবেক্ষণ ২০২৫ সালে মব সন্ত্রাসে নিহত ১৯৭, মানবাধিকার পরিস্থিতি উদ্বেগজনক
জানুয়ারি ১, ২০২৬পৌষের মাঝামাঝি সময়ে দেশে শীতের তীব্রতা আরো বেড়েছে। দুই বিভাগসহ ২১ জেলার ওপর দিয়ে বইছে শৈত্যপ্রবাহ।
পৌষের মাঝামাঝি সময়ে দেশে শীতের তীব্রতা আরো বেড়েছে। দুই বিভাগসহ ২১ জেলার ওপর দিয়ে বইছে শৈত্যপ্রবাহ। গতকাল মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে গোপালগঞ্জে ৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। দুদিনের ব্যবধানে যশোরেও তাপমাত্রা নেমেছে ৭ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। আশপাশের কয়েকটি জেলার তাপমাত্রাও নিম্নমুখী। অগ্রহায়ণের শেষ ভাগে এসে উত্তরের জেলা পঞ্চগড়ে শীতের তীব্রতা দেখা দেয়। ১১ ডিসেম্বর জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৮ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময়ে উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় শীতের তীব্রতাও দেখা দেয়। তবে হিমালয়ের নিকটবর্তী অঞ্চলটিতে তাপমাত্রা কিছুটা বাড়লেও ঘন কুয়াশায় তীব্র শীত অনুভূত হচ্ছে।
গোপালগঞ্জ আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবু সুফিয়ান বলেন, ‘গতকালের তাপমাত্রা আগের দিনের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। সোমবার গোপালগঞ্জে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১২ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। একদিনের ব্যবধানে তাপমাত্রা কমেছে প্রায় ৫ দশমিক ৩ ডিগ্রি। গতকাল সকালে বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯৭ শতাংশ। শীতে এ ধরনের তাপমাত্রা স্বাভাবিক হলেও সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ তাপমাত্রার মধ্যে ১০ ডিগ্রি পার্থক্য থাকলে শীতের তীব্রতা বেশি অনুভূত হয়। এখানে কয়েক দিন ধরে তাই হয়েছে। এটিকে আমরা মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহ হিসেবে বিবেচনা করছি। শুক্রবার থেকে জেলার তাপমাত্রা কিছুটা বাড়তে পারে। তবে জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহের শেষ দিকে আরেকটি শৈত্যপ্রবাহের সম্ভাবনা রয়েছে।’
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, গতকাল খুলনা ও বরিশাল বিভাগে শৈত্যপ্রবাহ বয়ে গেছে। এছাড়া মাদারীপুর, গোপালগঞ্জ, রাজশাহী, পাবনা ও সিরাজগঞ্জেও শৈত্যপ্রবাহ বইছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের মাপকাঠি অনুযায়ী, যখন কোনো এলাকায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৮ দশমিক ১ থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস থাকে, তখন তাকে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বলে। তাপমাত্রা ৬ দশমিক ১ থেকে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস হলে তাকে বলা হয় মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ। তাপমাত্রা ৪ দশমিক ১ থেকে ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস হলে তা তীব্র শৈত্যপ্রবাহ বলে গণ্য করা হয়। আর তাপমাত্রা ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে গেলে তাকে অতি তীব্র শৈত্যপ্রবাহ বলা হয়।
দুদিনের ব্যবধানে যশোরে ফের মৃদু শৈত্যপ্রবাহ শুরু হয়েছে। গতকাল জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৭ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
যশোর বিমান বাহিনীর আবহাওয়া অফিস জানায়, যশোরাঞ্চলে পৌষের দ্বিতীয় সপ্তাহেই ব্যারোমিটারের পারদ নেমে গেছে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে। শুরু হয় মৃদু শৈত্যপ্রবাহ। ২৭ ডিসেম্বর তাপমাত্রা নেমে যায় ৮ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। এটি ওইদিন দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল। এর আগে ২৬ ডিসেম্বরও দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছিল যশোরে। এরপর তিনদিন তাপমাত্রার ব্যারোমিটারের পারদ সামান্য ঊর্ধ্বমুখী হলেও শীত কমেনি। বরং সূর্যের দেখা না মেলায় কুয়াশা আর উত্তরের বাতাসে বেড়েছে শীতের তীব্রতা। যশোরে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ বিরাজ করছে।
পার্শ্ববর্তী জেলা চুয়াডাঙ্গাও কুয়াশাচ্ছন্ন হয়ে রয়েছে। বৃষ্টির পানির মতো ঝরছে কুয়াশা। প্রবাহিত হচ্ছে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ। গত চারদিন সূর্যের দেখা মেলেনি। আরো দুদিন জেলায় এমন আবহাওয়া বিরাজ করবে বলে জানিয়েছেন আবহাওয়া পর্যবেক্ষকরা।
চুয়াডাঙ্গা প্রথম শ্রেণীর আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জামিনুর রহমান জানান, গতকাল সকাল ৯টায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯৬ শতাংশ। এদিন সকাল ৬টায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৮ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
তিনদিন ধরে মেহেরপুরে সূর্যের দেখা না মিললেও তাপমাত্রা ১২-১৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করছিল। হঠাৎ মঙ্গলবার রাত থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে শুরু করেছে। একই সঙ্গে বাড়ছে শীতের তীব্রতা।
আবহাওয়া অফিস বলছে, গতকাল সকাল ৬টায় জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৮ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় বাতাসের গড় আর্দ্রতা ছিল ৯৬ শতাংশ, যা এ সময়ের মধ্যে মেহেরপুরের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা বলে মনে করা হচ্ছে।
এদিকে উত্তরাঞ্চলে তাপমাত্রা সামান্য বাড়লেও ঘন কুয়াশা ও হিমেল বাতাসে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত ঘন কুয়াশায় ঢেকে থাকছে পুরো অঞ্চল। প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হচ্ছে না সাধারণ মানুষ।
উত্তরের জেলা রাজশাহীতেও বাড়ছে শীতের তীব্রতা। রাজশাহী আবহাওয়া অফিস বলছে, গতকাল বেলা ১১টায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৮ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর আগে মঙ্গলবার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১২ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গত ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে রাজশাহীতে তাপমাত্রা কমেছে ৪ ডিগ্রি।
শীতের কারণে শিশু ও বয়স্কদের ঠাণ্ডাজনিত রোগের প্রকোপ দেখা দিয়েছে। মৌসুমি এ রোগে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ায় হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোয় বেড়েছে রোগীর চাপ।
অগ্রহায়ণের মাঝামাঝিতে পঞ্চগড়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ দেখা দিলেও তাপমাত্রা এখন কিছুটা বেড়েছে। তবে কুয়াশার চাদরে রয়েছে উত্তরের কয়েকটি জেলা।
আবহাওয়া অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, গতকাল সকালে রংপুরে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১২ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এদিন পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় তাপমাত্রা ছিল ১২ দশমিক ডিগ্রি। এছাড়া ঠাকুরগাঁওয়ে ১২ দশমিক ৪, নীলফামারীর সৈয়দপুরে ১২ দশমিক ৫, দিনাজপুরে ১২ দশমিক ১, কুড়িগ্রামের রাজারহাটে ১২ দশমিক ২, লালমনিরহাটে ১৩ ডিগ্রি ও গাইবান্ধায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ১৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস।


