হাদি হত্যার বিচার হবে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে —আইন উপদেষ্টা
ডিসেম্বর ২৩, ২০২৫
ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি ১৬৫
ডিসেম্বর ২৩, ২০২৫
হাদি হত্যার বিচার হবে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে —আইন উপদেষ্টা
ডিসেম্বর ২৩, ২০২৫
ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি ১৬৫
ডিসেম্বর ২৩, ২০২৫

প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারে হামলা ১৭ জন গ্রেফতার: ডিএমপি

দৈনিক প্রথম আলো ও দ্য ডেইলি স্টার কার্যালয়ে হামলার ঘটনায় প্রথম আলোর পক্ষ থেকে অজ্ঞাতনামা ৪০০-৫০০ জনকে আসামি করে রোববার রাতে তেজগাঁও থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়।

দৈনিক প্রথম আলো ও দ্য ডেইলি স্টার কার্যালয়ে হামলার ঘটনায় প্রথম আলোর পক্ষ থেকে অজ্ঞাতনামা ৪০০-৫০০ জনকে আসামি করে রোববার রাতে তেজগাঁও থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। মামলাটি করা হয় সন্ত্রাসবিরোধী আইন, বিশেষ ক্ষমতা আইন ও সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশে। এ মামলায় সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনার সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত ১৭ জনকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। এছাড়া গ্রেফতারকৃত এক ব্যক্তির কাছ থেকে লুট করা নগদ ৫০ হাজার টাকা ও লুটের টাকায় কেনা একটি টেলিভিশন ও একটি ফ্রিজ উদ্ধার করা হয়েছে।

গতকাল রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন্স) এসএন মো. নজরুল ইসলাম।

অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার জানান, ১৮ ডিসেম্বর রাত আনুমানিক ১১টা ১৫ মিনিট থেকে ১৯ ডিসেম্বর রাত ২টা ৩০ মিনিটের মধ্যে অজ্ঞাতনামা কয়েক হাজার লোক বেআইনিভাবে সমবেত হয়ে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে প্রথম আলো কার্যালয়ে হামলা ও অগ্নিসংযোগ করে। এ সময় পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছলে তারা পুলিশের ওপরও মারমুখী আচরণ করে। পরবর্তী সময়ে আরো অতিরিক্ত পুলিশ ও সেনাবাহিনী এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। ফায়ার সার্ভিসও দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে অগ্নিনির্বাপণসহ ভবনে আটকে পড়াদের উদ্ধার করে। গণমাধ্যমের ওপর ন্যক্কারজনক এ হামলার ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করে গ্রেফতারের জন্য ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কাজ শুরু করেছে। ওই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে প্রথম আলো কর্তৃপক্ষ তেজগাঁও থানায় একটি মামলা দায়ের করেছে। ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ এবং গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এ ন্যক্কারজনক ঘটনার সঙ্গে জড়িত এ পর্যন্ত মোট ১৭ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

গ্রেফতার হয়েছেন মো. নাইম, মো. আকাশ আহমেদ সাগর, মো. আব্দুল আহাদ, মো. বিপ্লব, মো. নজরুল ইসলাম ওরফে মিনহাজ, মো. জাহাঙ্গীর, মো. সোহেল রানা, মো. হাসান, রাসেল ওরফে সাকিল, মো. আব্দুল বারেক শেখ ওরফে আলামিন, মো. রাশেদুল ইসলাম, মো. সোহেল রানা, শফিকুল ইসলাম, মো. প্রান্ত সিকদার ওরফে ফয়সাল আহমেদ প্রান্ত, আবুল কাশেম, রাজু হোসাইন চাঁদ ও সাইদুর রহমান।

এদিকে গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে ১৫ আসামিকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। গতকাল ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানার আদালত এ আদেশ দেন। গতকাল বিকালে আসামিদের আদালতের হাজতখানায় আনা হয়। সেখান থেকে বিকাল সোয়া ৫টার দিকে তাদের আদালতে তোলা হয়।

ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী বলেন, ‘মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তেজগাঁও থানার পুলিশ পরিদর্শক আবদুল হান্নান তদন্তকাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাদের কারাগারে রাখার আবেদন করেন। অন্যদিকে আসামিদের মধ্যে ১২ জনের জামিন চেয়ে তাদের আইনজীবীরা আবেদন করেন। তিনজনের কোনো আইনজীবী ছিলেন না। পরে আদালত তাদের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।’

সেদিন তাহলে পুলিশ কোনো অ্যাকশনেই যায়নি? এমন প্রশ্নে নজরুল ইসলাম বলেন, ‘অ্যাকশনে গেছি, যতটুকু আমরা প্রয়োজন মনে করছি, যতটুকু আমাদের অবস্থা ছিল সেটা। অ্যাকশন যেটা সর্বোচ্চ, গুলি করা পর্যন্ত যেতে পারতাম। কিন্তু আমরা ওইটা অ্যাভোয়েড করার চেষ্টা করছি।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *