বরিশাল নগরের বেশির ভাগ ভবনে নেই অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা
ডিসেম্বর ১৩, ২০২৫
গুলিবিদ্ধ ওসমান হাদি বিভিন্ন দল ও সংগঠনের নিন্দা-প্রতিবাদ
ডিসেম্বর ১৩, ২০২৫
বরিশাল নগরের বেশির ভাগ ভবনে নেই অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা
ডিসেম্বর ১৩, ২০২৫
গুলিবিদ্ধ ওসমান হাদি বিভিন্ন দল ও সংগঠনের নিন্দা-প্রতিবাদ
ডিসেম্বর ১৩, ২০২৫

ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে হিলির মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিস্তম্ভ

১৯৭১ সালের ১৯ এপ্রিল বিকালে হানাদার বাহিনী দিনাজপুরের হিলিতে (হাকিমপুর) অবস্থানরত তৃতীয় ইস্ট বেঙ্গলের আলফা কোম্পানি ও মুক্তিযোদ্ধাদের ওপর ত্রিমুখী আক্রমণ করে।

১৯৭১ সালের ১৯ এপ্রিল বিকালে হানাদার বাহিনী দিনাজপুরের হিলিতে (হাকিমপুর) অবস্থানরত তৃতীয় ইস্ট বেঙ্গলের আলফা কোম্পানি ও মুক্তিযোদ্ধাদের ওপর ত্রিমুখী আক্রমণ করে। হানাদার বাহিনীর প্রচণ্ড আক্রমণে টিকে থাকতে না পেরে ছত্রভঙ্গ হয়ে যান মুক্তিযোদ্ধারা। সন্ধ্যার দিকে ভারতের অভ্যন্তরে অবস্থান নেন তারা। সেই যুদ্ধে ইস্ট বেঙ্গলের ছয় সৈনিক শহীদ হন। এরপর ৯ ও ১০ ডিসেম্বর ভারতীয় ২০২ নম্বর মাউন্ট ব্রিগেডের নেতৃত্বে যৌথ বাহিনীর অবিরাম আক্রমণে পরাজিত হয় পাকিস্তানি সেনারা। ১১ ডিসেম্বর শত্রুমুক্ত হয় হিলি। মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি ধরে রাখতে উপজেলার মুহাড়াপাড়ায় ২০১৫ সালের অক্টোবরে প্রায় ৪০ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত হয় স্মৃতিস্তম্ভ। তবে রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে স্মৃতিস্তম্ভটি এখন ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। প্রধান ফটকের লোহার দরজাসহ সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য লাগানো বিভিন্ন ধাতব অংশ চুরি হয়ে গেছে। খসে পড়ছে দেয়ালের পলেস্তারা।

বীর মুক্তিযোদ্ধা লিয়াকত আলী বলেন, ‘১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় দেশের সবচেয়ে বড় যে সম্মুখযুদ্ধ সংঘটিত হয়, সেটি হিলির মুহাড়াপাড়া এলাকায়। ৯ ও ১০ ডিসেম্বর পাকিস্তানি বাহিনীর সঙ্গে প্রচণ্ড যুদ্ধ সংঘটিত হয়। তাদের পরাজিত করে ১১ ডিসেম্বর হিলি শত্রুমুক্ত ঘোষণা করা হয়। সেই যুদ্ধে বহু বীর মুক্তিযোদ্ধা ও মিত্র বাহিনীর সদস্য শহীদ হন। তাদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে এখানে তৈরি করা হয় স্মৃতিস্তম্ভ। তবে রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে স্মৃতিস্তম্ভটি আজ ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে আছে। সেখানকার অনেক কিছুই চুরি হয়ে গেছে। আমরা চাই এটি পুনরায় নির্মাণ করা হোক। যাতে শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি আমরা শ্রদ্ধা জানাতে পারি।’

স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য এ স্মৃতিস্তম্ভটি নির্মাণ করা হয়। তখন থেকে এটি সংরক্ষিত এলাকা হিসেবে সীমানা প্রাচীরসহ গেট নির্মাণ করে রাখা হয়। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণ না করায় বর্তমানে এর অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। রেলিং, দরজাসহ টাইলস পর্যন্ত চুরি হয়ে গেছে। কিন্তু প্রশাসনের কোনো নজরদারি নেই।

স্থানীয় বাসিন্দা বকুল আহমেদ বলেন, ‘দেশ স্বাধীনের পর যাদের জন্ম তারা তো যুদ্ধ দেখেনি। কিন্তু এসব স্মৃতিস্তম্ভের মাধ্যমে যুদ্ধের স্মৃতি সম্পর্কে জানতে পারছিলাম। অযত্ন ও অবহেলায় পড়ে থাকা স্মৃতিস্তম্ভটি ধ্বংস হওয়ার উপক্রম হয়েছে।’

এ ব্যাপারে হাকিমপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অশোক বিক্রম চাকমা বলেন, ‘মহান মুক্তিযুদ্ধের ঐতিহাসিক নিদর্শনটি পরিদর্শন করেছি। প্রকৌশলীকে নির্দেশনা দিয়েছি এটি সংস্কার করতে। সেখানে আলোকসজ্জার ব্যবস্থাসহ রক্ষণাবেক্ষণের জন্য সিসিটিভির আওতায় আনা হবে। এছাড়া মাদকসেবীদের আনাগোনা বন্ধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনাসহ অন্য বিষয়ে জরুরি পদক্ষেপ নেয়া হবে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *