জুলাই আন্দোলনের সময় মামার বাসা থেকে তুলে নিয়ে গেছিল ডিজিএফআই: হাসনাত
ডিসেম্বর ৯, ২০২৫
শিশুদের ইংরেজি শেখানোর উদ্যোগ পুনাকের
ডিসেম্বর ১০, ২০২৫
জুলাই আন্দোলনের সময় মামার বাসা থেকে তুলে নিয়ে গেছিল ডিজিএফআই: হাসনাত
ডিসেম্বর ৯, ২০২৫
শিশুদের ইংরেজি শেখানোর উদ্যোগ পুনাকের
ডিসেম্বর ১০, ২০২৫

রাষ্ট্রপতির সঙ্গে আজ কমিশনের বৈঠক নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা আজ সন্ধ্যায় কিংবা আগামীকাল

ত্রয়োদশ ‎জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিন।

ত্রয়োদশ ‎জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিন। জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে সাধারণত রাষ্ট্রপতি ও প্রধান বিচারপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করে নির্বাচনের প্রস্তুতির বিষয়ে অবহিত করে থাকেন সিইসি। সে রীতি মেনেই প্রধান নির্বাচন কমিশনার গতকাল দুপুরে প্রধান বিচারপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এর আগে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গেও নির্বাচন কমিশনাররা দেখা করেছেন।

ভোটের আগে সর্বোচ্চ আনুষ্ঠানিকতা তফসিল ঘোষণা, যেখানে ভোটের তারিখসহ যাবতীয় কার্যক্রমের সময়সীমা নির্ধারিত থাকে। আর তফসিলের আগে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ, এরপর জাতির উদ্দেশে সিইসির ভাষণ রীতি হিসেবে পালন করে আসছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সঙ্গে আজ দুপুর সাড়ে ১২টায় সিইসিসহ চার নির্বাচন কমিশনার সাক্ষাৎ করবেন বলে জানা গেছে। বৈঠক শেষে সন্ধ্যায়ই তফসিল ঘোষণা হতে পারে, কিংবা সর্বোচ্চ বৃহস্পতিবারের মধ্যে তা প্রকাশ করা হবে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ। রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণায় ভাষণের সবকিছু চূড়ান্ত। বিটিভি ও বেতারকে চিঠি দিয়েছে ইসি সচিবালয়। ভাষণের মাধ্যমে তফসিল হবে। ১০ ডিসেম্বর (আজ) হতে পারে। আর তো সময় নেই। ১১ ডিসেম্বরের (আগামীকাল) মধ্যে তফসিল দিতে হবে।’

প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে একই কথা বলেন সিইসি এএমএম নাসির উদ্দিনও। তবে তিনি বার উল্লেখ না করে কেবল বলেছেন, ‘এ সপ্তাহে তফসিল ঘোষণা হয়ে যাবে।’ সে হিসাবে চলতি সপ্তাহে কার্যদিবস রয়েছে শুধু আজ বুধবার ও আগামীকাল বৃহস্পতিবার।

ইসি সূত্রে জানা গেছে, সিইসির ভাষণ আজ তার কক্ষেই রেকর্ড করা হবে। এরপর রেকর্ডকৃত ভাষণ দেখে ইসি নির্দেশনা দেবে, যা পরে সম্প্রচারের মাধ্যমে তফসিল ঘোষণা হবে। ইসির অতীতের প্রথা ও রীতি অনুযায়ী লক্ষ করা গেছে, যেদিন প্রধান নির্বাচন কমিশনারের ভাষণ রেকর্ড করা হয় সে রাতেই সাধারণত সম্প্রচার করা হয়। তবে এবার সে রীতি ভাঙলে পরদিন অর্থাৎ আগামীকাল বেলা ১১টার মধ্যে ভাষণ সম্প্রচার করা হবে।

প্রধান বিচারপতির সঙ্গে সাক্ষাতের বিষয়ে সিইসি বলেন, ‘প্রধান বিচারপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে এসেছি। উনি এ মাসে অবসরে যাবেন। আমরা একসঙ্গে কাজ করেছি। সেজন্য উনার সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাৎ করতে এসেছি।’

‘নির্বাচনের জন্য প্রধান বিচারপতির কাছে ম্যাজিস্ট্রেট চেয়েছেন কিনা, সহযোগিতা চেয়েছেন কিনা’—এ প্রশ্নের জবাবে সিইসি বলেন, ‘ইলেক্টোরাল ইনকোয়ারি কমিটি, যাতে উনারা (বিচারিক হাকিম) ডেপ্লয় করবেন—আমাদের শিডিউল ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে, এ কাজটা যাতে ত্বরান্বিত করেন উনি; সেটা উনাকে রিকোয়েস্ট করেছি।’

প্রধান বিচারপতি আপনাকে কি আশ্বস্ত করেছেন— এ প্রশ্নে সিইসি বলেন, ‘উনি জাস্ট ওই ইলেক্টোরাল ইনকোয়ারি কমিটিতে যে লোকজন দেয়ার কথা আছে, ডেপ্লয়মেন্ট আছে, ব্যবস্থা নিচ্ছেন এবং নেবেন। কোনো অসুবিধা হবে না—এটা অ্যাশিউর করেছেন।’

নির্বাচনে অনিয়ম রোধে প্রতিটি সংসদীয় আসনের জন্য ‘ইলেক্টোরাল ইনকোয়ারি কমিটি’ বা নির্বাচনী তদন্ত কমিটি গঠন করে থাকে নির্বাচন কমিশন। নির্বাচনী অপরাধ, আচরণবিধি এবং সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতিতে অনিয়ম-সংক্রান্ত বিষয়গুলো অনুসন্ধান করে নির্বাচন কমিশনকে জানায় এ কমিটি। দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে প্রতিটি আসনেই এ কমিটি ছিল, যাতে একজন যুগ্ম জেলা জজ, প্রয়োজনবোধে সিনিয়র সহকারী জজ রাখা হয়।

আরেক প্রশ্নের জবাবে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেন, ‘মামলা নিয়ে প্রধান বিচারপতির সঙ্গে কোনো কথা হয়নি।’

এদিকে নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণায় ভাষণের সবকিছু চূড়ান্ত। রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে বুধবার সন্ধ্যায় অথবা বৃহস্পতিবার তফসিল ঘোষণা করা হবে। আর তফসিল ঘোষণায় রাজনৈতিক দলসহ সবার সহযোগিতার বিষয়ে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেয়া হবে।’ এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশন আজ দুপুরে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে যাবে বলেও জানান তিনি।

এছাড়া চূড়ান্ত পোস্টাল ব্যালটে নিষিদ্ধ বা স্থগিত—কোনো দলের প্রতীক থাকবে না বলেও জানান নির্বাচন কমিশনার রহমানেল মাছউদ।

তফসিল ঘোষণার পর থেকে নির্বাচনী পরিবেশের সব দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের মন্তব্য করে রহমানেল মাছউদ বলেন, ‘আমরা তাদের (রাজনৈতিক দল) স্পষ্ট করে বলে দিয়েছি, লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তফসিল ঘোষণার পর আমাদের কব্জায় (নিয়ন্ত্রণে) থাকবে। এখন পার্টি পার্টি যদি মারামারি করে, সেক্ষেত্রে আমাদের দায় নেই।’

ফেব্রুয়ারির নির্বাচন ঘিরে কোনো চ্যালেঞ্জ রয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমার জানা মতে তেমন কোনো চ্যালেঞ্জ নেই। আপনাদের (সাংবাদিক) যেসব চ্যালেঞ্জ নজরে আসে, আগে আমাদের জানান।’ তবে আইন-শৃঙ্খলাকে প্রধান চ্যালেঞ্জ চিহ্নিত করে এ নির্বাচন কমিশনার বলেন, ‘দেশের স্থিতিশীলতা, নাগরিকদের নিরাপত্তা ও উন্নয়নের জন্য আইন-শৃঙ্খলা এমন এক জিনিস—যেটা ছাড়া একদিনও চলে না। নিরাপত্তা থাকবে বলে আমরা মনে করছি।’

নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলে নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকারও বেশকিছু তথ্য দেন। তিনি বলেন, ‘সরকারের উপদেষ্টা বা অন্য যেকোনো পদে থেকে কেউ আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না।৷এমনকি কোনো প্রার্থীর পক্ষে ভোটের প্রচারেও অংশ নিতে পারবেন না।’

নির্বাচনের প্রস্তুতির বিষয়ে আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন। তফসিল ঘোষণা এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। তফসিল ঘোষণার জন্য যে প্রস্তুতি প্রয়োজন তা সম্পন্ন করেছে ইসি। আসনবিন্যাস, আইন অনুযায়ী রিটার্নিং অফিসার, সহকারী রিটার্নিং অফিসার যারা থাকবেন তাদের প্রজ্ঞাপন, বিভিন্ন বিষয়ে ২০টির মতো পরিপত্র জারি হবে। মোবাইল কোর্ট, ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ, ইলেক্টোরাল ইনকোয়ারি কমিটি নিয়োগ, বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ, মনিটরিং সেল গঠন, আইন-শৃঙ্খলার সেল গঠন—এ ফরমেটগুলো রেডি রয়েছে। তফসিল ঘোষণার পর পরই সেগুলো ধারাবাহিকভাবে আমরা জারি করব।’

এদিকে ভোটের তফসিল ঘোষণার পর অনুমতি ছাড়া সব ধরনের আন্দোলন-সমাবেশ করা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। প্রধান উপদেষ্টার নির্দেশে গতকাল দুপুরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয় বলে জানিয়েছে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং। অন্তর্বর্তী সরকার বলেছে, তফসিল ঘোষণার পর থেকে নির্বাচন পর্যন্ত যেকোনো ধরনের বেআইনি ও অনুমোদনহীন জনসমাবেশ, জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করে এমন আন্দোলন কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে। যারা বেআইনিভাবে সভা-সমাবেশে অংশ নেবেন তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জানিয়েছে, আগামী ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে অনুষ্ঠেয় ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন যেন অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ, গ্রহণযোগ্য ও উৎসবমুখর হয়—এটিই বর্তমানে অন্তর্বর্তী সরকারের মূল লক্ষ্য। একটি সুন্দর নির্বাচন আয়োজনের জন্য যা করণীয় সরকার সেদিকেই মনোনিবেশ করছে।

অনুমোদনহীন সভা-সমাবেশ ও আন্দোলন নিয়ে সতর্ক করে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, ‘অনেকেরই ন্যায্য দাবি-দাওয়া রয়েছে। গত দেড় বছরে দুই হাজারের বেশি আন্দোলন-বিক্ষোভ সংঘটিত করে অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে আন্দোলনকারীরা দাবি-দাওয়া উপস্থাপন করেছেন। সরকার ন্যায্য দাবিতে সবসময়ই সাড়া দিয়েছে, আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনা করে সমাধানে পৌঁছতে চেষ্টা করেছে। কিন্তু আমরা এখন নির্বাচনমুখী সময়ে আছি। এ কারণে সবার যা কিছু দাবি-দাওয়া আছে তা নির্বাচন-পরবর্তী সরকারের কাছে উপস্থাপনের জন্য অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে আহ্বান জানানো হচ্ছে। আমরা আশা করব, এ সময়ের মধ্যে কেউ দাবি-দাওয়া নিয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি বা স্বাভাবিক পরিবেশ বিঘ্ন করবেন না।’

আসন্ন সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর সশস্ত্র বাহিনীসহ দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত সব বাহিনী নির্বাচনী পরিবেশ নিশ্চিতে কাজ করবে। দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় সশস্ত্র বাহিনীসহ অন্যান্য বাহিনীর প্রায় নয় লাখ সদস্য নিয়োজিত থাকবেন, যা এ যাবৎকালের মধ্যে সর্বোচ্চ। সুষ্ঠু নির্বাচন পরিচালনার জন্য এরই মধ্যে দেড় লাখ পুলিশ সদস্যকে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *