
যশোরে ঘুমের ওষুধ না দেওয়ায় মহিলা আওয়ামী লীগ নেত্রীর নেতৃত্বে ফার্মেসি ভাঙচুর
ডিসেম্বর ১, ২০২৫
কেউ চোরাপথে হাঁটার চেষ্টা করলে আরেকটি ৫ আগষ্ট হবে: জামায়াত আমির
ডিসেম্বর ১, ২০২৫মোঃ জাকির হোসেন, সম্পাদক – সিটি নিউজ সেভেন
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে বেগম খালেদা জিয়া এমন একটি নাম, যাকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক যাত্রাপথ বহুবার নতুন দিকনির্দেশনা পেয়েছে। তিনি শুধু একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রী নন, বরং দেশের জাতীয় রাজনৈতিক ধারার গুরুত্বপূর্ণ ও প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব। বর্তমানে তিনি যে গুরুতর শারীরিক জটিলতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন, তা রাজনৈতিক মতাদর্শের বাইরে গিয়ে পুরো জাতিকে উদ্বিগ্ন করে তুলেছে। একজন প্রবীণ নেত্রীর স্বাস্থ্য সংকট আমাদের মানবিকতার জায়গায় আঘাত করে।
ফুসফুস ও হৃদযন্ত্রের গুরুতর সংক্রমণ নিয়ে বেগম খালেদা জিয়া এখন রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে সংকটাপন্ন অবস্থায় চিকিৎসাধীন। চিকিৎসকদের সর্বোচ্চ চেষ্টা সত্ত্বেও তাঁর শারীরিক পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ায় তাঁকে ভেন্টিলেশন সাপোর্টে নেওয়া হয়েছে—যা বোঝায় তাঁর শারীরিক অবস্থার নাজুকতা এবং উন্নত চিকিৎসার গুরুত্ব কতটা প্রবল। সোমবার (১ ডিসেম্বর) দুপুরে তাঁর সাবেক প্রেস সেক্রেটারি মারুফ কামাল খান সোহেল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে এ তথ্য জানান। সেই পোস্টে তিনি খালেদা জিয়ার সুস্থতার জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া প্রার্থনা করেছেন। এই খবর প্রকাশের পর দেশের মানুষের মনে দুশ্চিন্তা আরও গভীর হয়েছে।
মানুষের জীবনে অসুস্থতা আসবেই—এটি মানবজীবনেরই অংশ। কিন্তু একটি জাতীয় নেতৃত্ব, যিনি দীর্ঘদিন রাষ্ট্র পরিচালনা করেছেন, জনগণের জন্য কাজ করেছেন, দেশের রাজনীতির একটি বিশাল সময়কে নেতৃত্ব দিয়েছেন—সেই মানুষের অসুস্থতা জাতির জন্যও একটি উদ্বেগের বিষয় হয়ে ওঠে। কারণ, রাজনীতি যাই হোক, মানবতা সকল ভেদাভেদকে ছাপিয়ে যায়। একজন মা, একজন বয়োজ্যেষ্ঠ নারী, একজন জাতীয় নেত্রীর প্রতি শ্রদ্ধা ও শুভকামনা জানানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।
চিকিৎসকরা তাঁকে সর্বোচ্চ চিকিৎসা নিশ্চিত করতে দিন-রাত নিরলস পরিশ্রম করছেন। বিশ্বের যেখানেই হোক, উন্নত চিকিৎসার সুযোগ পাওয়া একজন মানুষের মৌলিক অধিকার। তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে নিয়মিত চিকিৎসা আপডেট জানানো হচ্ছে, আর দেশজুড়ে তাঁর সমর্থক, শুভানুধ্যায়ী, সাধারণ নাগরিক—সবাইই তাঁর দ্রুত সুস্থতার জন্য দোয়া করছেন। বহু মসজিদে বিশেষ মোনাজাত হচ্ছে, সামাজিক মাধ্যমে মানুষ তাঁদের উদ্বেগ প্রকাশ করছেন, বিদেশ থেকেও অনেকে তাঁর আরোগ্য কামনা করে বার্তা পাঠাচ্ছেন। এটি নিঃসন্দেহে বেগম জিয়ার প্রতি মানুষের ভালোবাসা ও আবেগের একটি বড় প্রমাণ।
একজন গণমাধ্যমকর্মী হিসেবে আমি মানুষের এই আবেগ গভীরভাবে উপলব্ধি করি। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে বহু প্রতিকূলতা, মামলা, সমালোচনা, বিতর্ক—সব অতিক্রম করে খালেদা জিয়া যে মানসিক দৃঢ়তা দেখিয়েছেন, তা একজন নেত্রীর বড় গুণ। আজ তিনি শারীরিকভাবে যে চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি, তার বিরুদ্ধে লড়াই করার শক্তি আল্লাহ তাঁকে দান করুন—এটাই আমাদের প্রার্থনা। আল্লাহ তাঁর রোগ হালকা করে দিন, কষ্ট দূর করে দিন এবং দ্রুত সুস্থতা দান করুন।
রাজনীতিতে মতভেদ থাকতেই পারে; এটি গণতান্ত্রিক চর্চার অংশ। কিন্তু অসুস্থতার সময়ে একজন মানুষের পাশে দাঁড়ানো, তাঁর সুস্থতা কামনা করা—এটি সভ্যতার চিহ্ন এবং মানবিকতার প্রতীক। আমরা যখন একজন অসুস্থ মানুষ, বিশেষ করে একজন প্রবীণ নারীর আরোগ্য কামনা করি, তখন সেখানে দল বা মতের বিভাজন থাকে না। আমাদের উচিত হবে, তাঁর পরিবারকে মানসিক শক্তি দেওয়া, চিকিৎসকদের সর্বোচ্চ সহায়তা করা, এবং দেশজুড়ে শান্ত ও সহনশীল পরিবেশ বজায় রাখা।
এ মুহূর্তে আমার আন্তরিক প্রার্থনা—
আল্লাহ তায়ালা তাঁর জন্য শিফায় কামিলা দান করুন।
তাঁকে সুস্থ করে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিন।
জাতিকে এই সংকটময় পরিস্থিতি থেকে রক্ষা করুন।
একটি দেশের রাজনীতি, সমাজ এবং সাধারণ মানুষের অনুভূতিতে বেগম খালেদা জিয়ার স্থান সবসময়ই বিশেষ ছিল এবং রয়েছে। তাঁর সুস্থতা ফিরে পাওয়া শুধু তাঁর দলের জন্য নয়, বরং ন্যায়-অন্যায়, ভালো-মন্দ, মানবতা—এই সকল ক্ষেত্রে একটি স্বস্তির বার্তা হবে।
শেষে, সিটি নিউজ সেভেন-এর পক্ষ থেকে এবং ব্যক্তিগতভাবে আমি আবারও তাঁর দ্রুত আরোগ্য কামনা করছি।
আল্লাহ তাঁকে দ্রুত সুস্থতা দান করুন—আমিন।
— মোঃ জাকির হোসেন
সম্পাদক, সিটি নিউজ সেভেন


