
৯ কোটি টাকা আত্মসাৎ আনসার-ভিডিপি ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপক গ্রেফতার
ডিসেম্বর ১, ২০২৫
দেশজুড়ে শব্দদূষণ, বায়ুদূষণ ও পরিবেশবিরোধী কার্যক্রম দমনে সমন্বিত অভিযান
ডিসেম্বর ১, ২০২৫অবশেষে আজ থেকে প্রবালদ্বীপ সেন্ট মার্টিনের উদ্দেশে শুরু হচ্ছে পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল।
অবশেষে আজ থেকে প্রবালদ্বীপ সেন্ট মার্টিনের উদ্দেশে শুরু হচ্ছে পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল। সরকারি ১২ নির্দেশনা অনুসরণ করে দুই মাস (৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত) দ্বীপটিতে রাত্রিযাপনের সুযোগ পাচ্ছেন পর্যটকরা।
গত ১ নভেম্বর থেকে পর্যটকদের জন্য সেন্ট মার্টিন উন্মুক্ত করা হলেও রাতযাপনের বিধিনিষেধ থাকায় ছাড়েনি কোনো জাহাজ। তবে দ্বীপবাসী, হোটেল মালিক ও টেকনাফের সচেতন মহল জানিয়েছে, টেকনাফ থেকে সেন্ট মার্টিনে জাহাজ চলাচল শুরু হলে অল্প খরচে কম সময়ে প্রচুর পর্যটক আসবেন।
কক্সবাজার শহরের নুনিয়ারছড়া বিআইডব্লিউটিএর ঘাট থেকে সেন্ট মার্টিনের উদ্দেশে যাত্রা করতে জেলা প্রশাসনের অনুমতি পেয়েছে চারটি জাহাজ। তবে আজ থেকে কেয়ারী সিন্দাবাদ, কর্ণফুলী ও বার আউলিয়া—এ তিন জাহাজ চলাচল করবে। প্রতিদিন দুই হাজার পর্যটক এসব জাহাজে করে বঙ্গোপসাগর পাড়ি দিয়ে যাবেন সেন্ট মার্টিন।
পর্যটকদের বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের অনুমোদিত ওয়েব পোর্টালের মাধ্যমে অনলাইনে টিকিট কিনতে হবে, যেখানে ট্রাভেল পাস ও কিউআর কোড সংযুক্ত থাকবে। কিউআর কোড ছাড়া টিকিট অবৈধ গণ্য হবে। প্রথম দিনের যাত্রায় তিনটি জাহাজের অগ্রিম প্রায় ১২শ টিকিট এরই মধ্যে বিক্রি হয়ে গেছে বলে জাহাজ কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে।
সেন্ট মার্টিনের হোটেল সী-প্রবালের পরিচালক আব্দুল মালেক জানান, দ্বীপে রাতযাপনের অনুমতি থাকায় পর্যটক আগমন কিছুটা বাড়বে। কয়েকদিন ধরে অনেক পর্যটক রুম বুকিং দিয়েছেন। তবে দুই মাসের পর্যটন অনুমতিতে দ্বীপে কারো ব্যবসা হবে না।
কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান বলেন, ‘সেন্ট মার্টিন আমাদের সম্পদ। সরকারের আরোপিত নির্দেশনাগুলো সবার মেনে চলা উচিত। আশা করছি দ্বীপের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় পর্যটকসহ সংশ্লিষ্টরা প্রশাসনকে সহযোগিতা করবে।’
কেয়ারী ট্যুরসের কক্সবাজারের ইনচার্জ নুর মোহাম্মদ ছিদ্দিকী বলেন, চলতি মৌসুমের প্রথম যাত্রার জন্য অনুমতিপ্রাপ্ত জাহাজগুলোর সব প্রস্তুতি ভালোভাবে নেয়া হয়েছে। পর্যটকদের ভ্রমণ সুন্দর ও নিরাপদ করতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে কেয়ারী সিন্দাবাদ ও কেয়ারী ক্রুজ দেরিতে অ্যাপস খোলার কারণে বুকিং কম হয়েছে।
দীর্ঘদিন পর পর্যটকদের আগমনের খবরে প্রাণচাঞ্চল্য বিরাজ করছে দ্বীপের বাসিন্দাদের মাঝে, নানা সংকটেও ভ্রমণপিয়াসুদের বরণে প্রস্তুত তারা।
সেন্ট মার্টিনের (ভারপ্রাপ্ত) ইউপি চেয়ারম্যান ফয়েজুল ইসলাম বলেন, ‘পর্যটন ব্যবসাই আমাদের বেঁচে থাকার অন্যতম অবলম্বন, পর্যটকদের বরণে এখানকার মানুষ মুখিয়ে আছে। হয়তো অনেক সংকট আমাদের আছে, তার পরও দ্বীপবাসী আতিথেয়তায় কোনো কমতি রাখবে না।’
সেন্ট মার্টিনের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সরকারের জারি করা ১২টি নির্দেশনা এবার কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করবে জেলা প্রশাসন। প্রশাসন জানিয়েছে, এবার দ্বীপে ভ্রমণের সময়সূচি ও পর্যটক সংখ্যা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে।
নির্দেশনা অনুযায়ী, রাতে সেন্ট মার্টিনের সৈকতে আলো জ্বালানো, শব্দ সৃষ্টি বা বারবিকিউ পার্টি নিষিদ্ধ করার পাশাপাশি কেয়াবনে প্রবেশ, কেয়া ফল সংগ্রহ-বিক্রি, সামুদ্রিক কাছিম, পাখি, প্রবাল, রাজকাঁকড়া, শামুক-ঝিনুকসহ জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি হয় এমন কার্যক্রমে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।
এছাড়া সৈকতে মোটরসাইকেল, সি-বাইক বা যেকোনো মোটরচালিত যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। পাশাপাশি পলিথিন ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা এবং একবার ব্যবহার্য প্লাস্টিক (চিপসের প্যাকেট, স্ট্র, মিনিপ্যাক সাবান-শ্যাম্পু, ছোট প্লাস্টিক বোতল ইত্যাদি) নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে প্লাস্টিকের বোতলের পরিবর্তে নিজস্ব পানির ফ্লাস্ক ব্যবহারের পরামর্শ দেয়া হয়েছে।


