
১০ মাসে সাড়ে ২৮ লাখ কনটেইনার হ্যান্ডলিং করেছে চট্টগ্রাম বন্দর
নভেম্বর ২৫, ২০২৫
কক্সবাজারে ৪০ হাজার ইয়াবাসহ নৌবাহিনীর ভুয়া সদস্য আটক
নভেম্বর ২৫, ২০২৫ঝিনাইদহে ছয়টি উপজেলা রয়েছে। সবকটিতেই বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ডের (বিআরডিবি) কার্যালয় রয়েছে।
ঝিনাইদহে ছয়টি উপজেলা রয়েছে। সবকটিতেই বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ডের (বিআরডিবি) কার্যালয় রয়েছে। ১৯৮৬-৮৭ অর্থবছরে এসব ভবন নির্মাণ করা হয়। বছরের পর বছর সংস্কার না করায় সদর উপজেলা, শৈলকুপা, মহেশপুর, কালীগঞ্জ ও কোটচাঁদপুরে বিআরডিবির অফিস ভবন জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। ভবনগুলোয় ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছেন অন্তত ১৮০ কর্মকর্তা ও কর্মচারী। ২০২১ সালে শুধু হরিণাকুণ্ডু উপজেলার অফিস ভবনটি সংস্কার করা হয়।
সেবাপ্রত্যাশীরা বলছেন, ভবনের ভেতরে দাঁড়ালে মনে আতঙ্ক দেখা দেয়। ভবনগুলোর যে অবস্থা হয়েছে, তাতে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। শঙ্কার মধ্যেই কর্মকর্তারা যেমন কাজ করছেন, সেবাপ্রত্যাশীরাও তেমনি সেবা নিচ্ছেন।
মহেশপুরের বাসিন্দা হাবিবুর রহমান বলেন, ‘এভাবে সরকারি দপ্তর চলতে পারে না। দুর্ঘটনা ঘটলে তার দায় কে নেবে?’
স্থানীয় কৃষক আব্দুল মালেক বলেন, ‘অফিসে ঢুকলেই মনের মধ্যে ভয় কাজ করে। ছাদ থেকে পলেস্তারা খসে পড়ছে। নতুন ভবন নির্মাণ বা পুরনো ভবনে বড় ধরনের সংস্কার দরকার।’
সেবা নিতে আসা গৃহিণী শারমিন আক্তার বলেন, ‘অফিসে দাঁড়িয়ে থাকতে ভয় লাগে। কখন কোথা থেকে কী মাথায় পড়ে তা বলা যায় না। অথচ বছরের পর বছর পার হলেও বিষয়টি কেউ গুরুত্ব দিচ্ছে না।’
ব্যবসায়ী মিজানুর রহমান বলেন, ‘একটা সরকারি দপ্তর এভাবে চলতে পারে না। যে দপ্তর গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর উন্নয়নের পথ দেখায়, তাদের ভবনই ভেঙে পড়ছে।’
সেবাপ্রত্যাশী নাজমুল হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘ভবনের ফাটল, ছাদ ভাঙা আর দেয়াল খসে পড়া প্রতিদিনই দেখি। কেউই নিরাপদ নয়। বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার আগেই ভবন সংস্কার করা দরকার।’
শিক্ষক নূরুল ইসলাম বলেন, ‘বিআরডিবি গ্রামীণ উন্নয়নকাজের প্রাণকেন্দ্র। অথচ অফিসগুলোর অবস্থা দেখলে ভয় লাগে। কর্মকর্তারা ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছেন। কর্তৃপক্ষের উচিত জরুরি ভিত্তিতে ভবনগুলো সংস্কার করা।’
বিআরডিবির তথ্যমতে, ১৯৮৬-৮৭ অর্থবছরে ঝিনাইদহ সদর, শৈলকুপা, মহেশপুর, কালীগঞ্জ, কোটচাঁদপুর ও হরিণাকুণ্ডু উপজেলায় বিআরডিবির ভবন নির্মাণ করা হয়। এর মধ্যে ২০২১ সালে সংস্কার করা হয় হরিণাকুণ্ডু উপজেলা কার্যালয়ের ভবনটি। বাকি পাঁচটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ভবনের দেয়াল ও ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ছে। এতে প্রায়ই আহত হচ্ছেন সেবাপ্রত্যাশী ও দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। কোথাও কোথাও সিলিংয়ের বড় অংশ ভেঙে পড়েছে। ভেজা দেয়ালে ফাটল তৈরি হয়েছে।
এ বিষয়ে বিআরডিবি ঝিনাইদহের উপপরিচালক মোহাম্মদ মোক্তার হোসেন বলেন, ‘পাঁচ উপজেলার মধ্যে দুটি ভবন সংস্কারের জন্য আবেদন পাঠানো হয়েছে। পাস হলে আগামী মাসে একটি ও পর্যায়ক্রমে অন্যগুলো সংস্কার করা হবে।’


