‘জাতীয় পর্যায়ে বয়সভিত্তিক ক্রিকেট টুর্নামেন্ট আয়োজন করা হবে’
নভেম্বর ২২, ২০২৫
টেলিযোগাযোগ এবং ওষুধ ও রসায়ন খাতের শেয়ারে নেতিবাচক রিটার্ন
নভেম্বর ২২, ২০২৫
‘জাতীয় পর্যায়ে বয়সভিত্তিক ক্রিকেট টুর্নামেন্ট আয়োজন করা হবে’
নভেম্বর ২২, ২০২৫
টেলিযোগাযোগ এবং ওষুধ ও রসায়ন খাতের শেয়ারে নেতিবাচক রিটার্ন
নভেম্বর ২২, ২০২৫

বন্যায় সুরক্ষা পেতে গাইবান্ধার চরে গড়ে উঠেছে ক্লাস্টার ভিলেজ

গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার ফজলুপুর ইউনিয়নের উজালডাঙা চর। ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙনে চরের মানচিত্র বদলেছে বারবার।

গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার ফজলুপুর ইউনিয়নের উজালডাঙা চর। ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙনে চরের মানচিত্র বদলেছে বারবার। ঘরবাড়ি, ফসলি জমি, গবাদিপশু—সব হারিয়ে অনেকেই বাস্তুচ্যুত। কেউ ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন গ্রাম, কেউ শহর কিংবা জেলা। কেউ রয়ে গেছে মাটির কাছে। প্রতি বছর বন্যায় ঘরবাড়ি হারিয়ে অন্যের জমিতে আশ্রয় নেয়া, জীবন-জীবিকার লড়াই চালানোই ছিল এখানকার মানুষের নিয়তি। তবে সেই দৃশ্যপট পাল্টে দিয়েছে ক্লাস্টার ভিলেজ। বালি ও মাটি ভরাট করে আট ফুট উঁচুতে তৈরি করা হয়েছে ঘর। যাতে বন্যার পানি ঢুকতে না পারে। বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা গণউন্নয়ন কেন্দ্রে (জিইউকে) প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে।

ক্লাস্টার ভিলেজ হলো বন্যা বা নদীভাঙনের কারণে বাস্তুচ্যুত মানুষদের জন্য নির্মিত একটি কমিউনিটি বা আবাসন প্রকল্প, যা একটি নির্দিষ্ট এলাকায় আশ্রয়, উন্নয়ন এবং জীবনযাত্রার মান উন্নত করতে সাহায্য করে। এটি সাধারণত নদীগর্ভে জেগে ওঠা চর বা দুর্গম এলাকায় তৈরি করা হয়, যেখানে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা, যেমন টেকসই আবাসন, স্বাস্থ্যসেবা ও জীবিকা নির্বাহের ব্যবস্থা থাকে। নদীর মাঝে গড়ে তোলা উজালডাঙা ক্লাস্টার ভিলেজে রয়েছে ৪০টি পরিবার। উঁচু জমিতে সারিবদ্ধভাবে নির্মিত টিনশেড ঘরগুলো এখন এসব পরিবারের নিরাপদ আশ্রয়স্থল। প্রতিটি পরিবার পেয়েছে নিজস্ব পাকা ল্যাট্রিন, সোলার বিদ্যুৎ লাইন এবং পাঁচ পরিবার মিলে একটি নলকূপ। নারীদের জন্য রয়েছে আলাদা গোসলখানা।

ক্লাস্টার গ্রামের বাসিন্দা আজিজুল হক বলেন, ‘আগে নদীর পানি উঠলেই চিন্তা হতো ঘরে থাকতে পারব কিনা। এখন আমরা নিশ্চিন্তে ঘুমাতে পারি।’

গণউন্নয়ন কেন্দ্রের নির্বাহী প্রধান এম আবদুস সালাম বণিক বার্তাকে বলেন, ‘উজালডাঙা ক্লাস্টার ভিলেজের ৪০টি পরিবারের জন্য স্থায়ী ও নিরাপদ বাসস্থান গড়ে তোলা হয়েছে। যে চর একসময় ছিল বন্যা ও দারিদ্র্যের প্রতীক, আজ তা হয়ে উঠেছে আশার প্রতীক। এখানকার মানুষ তাদের জীবিকার উন্নয়নে পরিকল্পনা করছে এবং অবশ্যই তাদের জীবনমান উন্নয়ন হবে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *