
সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন পে কমিশনের সিদ্ধান্ত নেবে আগামী সরকার —অর্থ উপদেষ্টা
নভেম্বর ১০, ২০২৫
সংবিধানে গণভোটের বিধান নেই, এর জন্য নির্বাচিত সরকার ও সংসদ লাগবে: জয়নুল আবেদীন
নভেম্বর ১০, ২০২৫আলু অনেক দেশের মানুষের প্রধান খাদ্য। কিন্তু আমাদের দেশে এর পরিচিতি মূলত সবজি হিসেবেই। দেশে গত মৌসুমে উৎপাদিত আলুর প্রায় ৩০ লাখ টন উদ্বৃত্ত রয়ে গেছে। এগুলো হিমাগারে সংরক্ষণ করা হয়েছে।
আলু অনেক দেশের মানুষের প্রধান খাদ্য। কিন্তু আমাদের দেশে এর পরিচিতি মূলত সবজি হিসেবেই। দেশে গত মৌসুমে উৎপাদিত আলুর প্রায় ৩০ লাখ টন উদ্বৃত্ত রয়ে গেছে। এগুলো হিমাগারে সংরক্ষণ করা হয়েছে। এ আলুতে কৃষকের কেজিপ্রতি ১০-১৫ টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে। উৎপাদন বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে আলুর বহুমাত্রিক ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে কৃষকরা লাভবান হতেন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিশ্বে চিপস, বিস্কুট, স্টার্চ, বায়োপ্লাস্টিক, মেডিকেলসহ বিভিন্ন খাতে আলুর ব্যবহার বাড়ছে। তবে বাংলাদেশে এখনো সেভাবে আলুর ইন্ডাস্ট্রিয়াল ব্যবহার গড়ে ওঠেনি। ফলে উদ্বৃত্ত আলু কৃষকের গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশে আলু চাহিদার তুলনায় উদ্বৃত্ত থাকে। ফলে প্রতি বছর উৎপাদন মৌসুমে দাম একেবারে কমে আসে। এতে কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হন।
বাংলাদেশ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যানুযায়ী, সবশেষ ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশে ৪ লাখ ৯৪ হাজার ৯০০ হেক্টর জমিতে আলুর আবাদ হয়। উৎপাদন হয় ১ কোটি ১৫ লাখ ৭৩ হাজার ৬০০ টন। অন্যদিকে বিভিন্ন সরকারি সংস্থার তথ্যমতে, দেশে বার্ষিক আলুর চাহিদা ৮০ লাখ টনের মতো। এছাড়া বীজ হিসেবে ব্যবহারের জন্য আরো ৮-১০ টনের চাহিদা রয়েছে। ফলে গত মৌসুমে উৎপাদিত আলুর ২৫-৩০ লাখ টন উদ্বৃত্ত রয়ে গেছে, যেগুলো বিভিন্ন হিমাগারে সংরক্ষণ করা হয়েছে।
কৃষি বিপণন অধিদপ্তর বলছে, সারা দেশে ৩৮৪টি হিমাগার রয়েছে। এসব হিমাগারে ধারণক্ষমতা ৩২ লাখ ৭০ হাজার ১৫৭ টন। এছাড়া কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের ‘আলুর বহুমুখী ব্যবহার, সংরক্ষণ ও বিপণন উন্নয়ন’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় ১৩ জেলায় কৃষক পর্যায়ে ৫৩৯টি অ-হিমায়িত মডেল ঘর রয়েছে। সব মিলিয়ে হিমাগার ও অ-হিমায়িত মডেল ঘরে ৩২ লাখ ৮৯ হাজার ২৭ টন আলু সংরক্ষণের সুযোগ রয়েছে। গত মৌসুমে উৎপাদিত আলুর মধ্যে ৩১ লাখ ৫১ হাজার ৩৯৭ টন হিমাগারে সংরক্ষণ করা হয়। এর মধ্যে বীজ আলু রয়েছে ১০ লাখ ২৭ হাজার ২৬৪ টন। এ বিপুল পরিমাণ আলু এখন কৃষকের জন্য মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কেননা কেজিপ্রতি ১০-১৫ টাকা পর্যন্ত লোকসান গুনতে হচ্ছে তাদের।
কৃষি বিপণন অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত মৌসুমে প্রতি কেজি আলু উৎপাদনে কৃষকের খরচ পড়েছে ১৪-১৫ টাকা। বেসরকারি হিসাবে সেটি ১৭ টাকার মতো। এর সঙ্গে হিমাগার ভাড়া, পরিবহন ও শ্রমিক ব্যয় যুক্ত করলে প্রতি কেজিতে কৃষকের খরচ ২৫ টাকার কাছাকাছি। এখন যে দামে বিক্রি হচ্ছে তাতে প্রতি কেজি আলুতে কৃষকের লোকসান ১০-১৫ টাকা।
বাংলাদেশে সবজি ছাড়া আলুর ব্যবহার চিপস, বিস্কুট, ফ্রাই ও পশুখাদ্য হিসেবে। তবে এসব শিল্প আলুর উৎপাদনের তুলনায় ছোট।
চাইনিজ একাডেমি অব এগ্রিকালচারাল সায়েন্সেসের এক গবেষণায় দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্র তাদের উৎপাদনের ৬৪ দশমিক ৪৬ শতাংশ আলু প্রক্রিয়াজাত করে। এর বড় অংশ হিমায়িত ফ্রেঞ্চ ফ্রাই, ফাস্টফুড শিল্পের চাহিদা পূরণ করে। এছাড়া কানাডা ৬৮ শতাংশ, জার্মানিতে মোট উৎপাদনের ৭-৮০ শতাংশ, বেলজিয়ামে ৮০ শতাংশ, চীন ১৫ শতাংশ এবং পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে এ হার ৭ শতাংশ। অন্যদিকে বাংলাদেশে মোট উৎপাদিত আলুর ৩-৪ শতাংশ সবজির বাইরে অন্যান্য কাজে ব্যবহৃত হয় বলে জানিয়েছেন খাতসংশ্লিষ্টরা।
স্ট্যাটিস্টার তথ্য বলছে, ২০১৯ সালে আলু প্রক্রিয়াজাতের বৈশ্বিক বাজার ছিল ৩১ বিলিয়ন ডলার। যেটি ২০৩০ সালে ৫১ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
দেশের বাজারে বিভিন্ন প্রকারের চিপস ও পটেটো বিস্কুট বাজারজাত করে প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ। গ্রুপটির পরিচালক (বিপণন) কামরুজ্জামান কামাল বণিক বার্তাকে বলেন, ‘চিপস-বিস্কুটের মতো প্রসেসড খাবার তৈরিতে প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের বার্ষিক ২০ হাজার টনের মতো আলু প্রয়োজন হয়। জাতীয় উৎপাদনের ৩-৪ শতাংশের মতো আলু প্রসেসড খাবারে রূপান্তরিত হয়। বাকিটা তরকারি হিসেবে খাওয়া হয়। দেশে আলুর প্রসেসড খাবারের মার্কেট ধীরে ধীরে বড় হচ্ছে।’
প্রসেসিং খাতে বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ রয়েছে জানিয়ে কামরুজ্জামান কামাল বলেন, ‘বাংলাদেশে আলুর জাত একটি চ্যালেঞ্জ। সব জাতের আলু দিয়ে সব ধরনের প্রসেসিং খাবার বানানো যায় না। সঠিক ব্যবস্থাপনা ও সঠিক সংরক্ষণও একটি চ্যালেঞ্জ। কৃষকরা যেভাবে সংরক্ষণ করেন সব সময় হয়তো সেটি সঠিক প্রক্রিয়ায় হয় না। অনেক সময় আলুর গুণগত মান নষ্ট হয়ে যায়।’
এ বিষয়ে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বারি) কন্দাল ফসল গবেষণা কেন্দ্রের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. মোশাররফ হোসেন মোল্লা বণিক বার্তাকে বলেন, ‘আমাদের বার্ষিক ৭০-৮০ লাখ টন আলুর চাহিদা রয়েছে। বাংলাদেশে মূলত সবজি হিসেবেই আলু ব্যবহার করা হয়। চিপস, বিস্কুট, ফ্রেঞ্চ ফ্রাইসহ অন্যান্য পণ্য


