
আজ থেকে স্টার সিনেপ্লেক্সে হুমায়ূন আহমেদ সপ্তাহ
নভেম্বর ৭, ২০২৫
যারা নির্বাচন ঠেকানোর চেষ্টা করছে, তারা পতিত স্বৈরাচারী সরকারের দোসর : শফিকুল আলম
নভেম্বর ৭, ২০২৫৭ নভেম্বর বাংলাদেশের ইতিহাসে এক স্মরণীয় ও তাৎপর্যপূর্ণ দিন— জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস। এই দিনটি কেবল একটি রাজনৈতিক পালাবদলের দিন নয়; বরং এটি জাতির ঐক্য, আত্মমর্যাদা ও রাষ্ট্রীয় পুনর্গঠনের এক নতুন সূচনা। ১৯৭৫ সালের রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে সিপাহি-জনতার ঐক্যে সংঘটিত বিপ্লব দেশকে দিশাহীনতা থেকে মুক্ত করে নতুন আশার আলো দেখিয়েছিল। সেই বিপ্লবেরই ধারাবাহিকতায় নেতৃত্বে উঠে আসেন একজন দূরদর্শী রাষ্ট্রনায়ক— রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান।
জিয়াউর রহমান আধুনিক বাংলাদেশের ভিত্তি গঠনে যে নীতিনির্ধারণ করেছিলেন, তার মূল লক্ষ্য ছিল একটি স্বনির্ভর ও মর্যাদাবান রাষ্ট্র গড়ে তোলা। ১৯৭৭ সালে ঘোষিত তাঁর ১৯ দফা কর্মসূচি ছিল জাতীয় উন্নয়নের রূপরেখা, যার অন্যতম স্তম্ভ ছিল স্বাধীন ও ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি।
স্বাধীন ও ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতির স্থপতি
রাষ্ট্রপতি জিয়া উপলব্ধি করেছিলেন, সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশকে যদি কোনো আন্তর্জাতিক বলয়ের অধীন রাখা হয়, তবে তার স্বাধীনতা ও উন্নয়ন সীমাবদ্ধ হয়ে পড়বে। তাই তিনি ঘোষণা দেন—
“সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও সঙ্গে বৈরিতা নয়।”
এই নীতির আলোকে বাংলাদেশ পূর্ব-পশ্চিম উভয় ব্লকের সঙ্গে সমান সম্পর্ক বজায় রাখে। চীনের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার, ইসলামিক বিশ্বে অংশগ্রহণ, ইউরোপ ও মার্কিন অর্থনীতির সঙ্গে সংযোগ—সব মিলিয়ে বাংলাদেশের কূটনৈতিক পরিধি বহুগুণে সম্প্রসারিত হয়।
বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের মর্যাদাবোধ
জিয়াউর রহমানের সময়েই বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি নতুন উচ্চতায় পৌঁছে। তাঁর কূটনৈতিক তৎপরতায় বাংলাদেশ ইসলামিক সম্মেলন সংস্থা (ওআইসি)-তে সক্রিয় ভূমিকা নেয়, যার ফলে মধ্যপ্রাচ্যে শ্রমবাজার উন্মুক্ত হয় এবং রেমিট্যান্স অর্থনীতির ভিত্তি স্থাপিত হয়। একই সঙ্গে পশ্চিমা বিশ্বের বাজারে বাংলাদেশি তৈরি পোশাক শিল্প প্রবেশের পথ তৈরি হয়, যা পরবর্তীকালে দেশের প্রধান রপ্তানি খাতে পরিণত হয়।
দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা: সার্কের সূচনা
রাষ্ট্রপতি জিয়ার অন্যতম দূরদর্শী পদক্ষেপ ছিল দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতার ধারণা উপস্থাপন, যা পরবর্তীতে সার্ক (SAARC) হিসেবে বাস্তব রূপ লাভ করে। তাঁর প্রস্তাবের মূলে ছিল— আঞ্চলিক প্রতিযোগিতা নয়, বরং পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে স্থিতিশীলতা ও উন্নয়ন। সার্ক প্রতিষ্ঠা বাংলাদেশের কূটনৈতিক ইতিহাসে এক মাইলফলক।
জাতিসংঘ ও বৈশ্বিক নীতি
জাতিসংঘের সনদ, জোট নিরপেক্ষ আন্দোলন এবং উপনিবেশবাদের বিরোধিতায় জিয়াউর রহমানের অবস্থান ছিল স্পষ্ট ও দৃঢ়। তিনি বিশ্বশান্তি ও মানবাধিকারের পক্ষে উচ্চকণ্ঠ ছিলেন এবং জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় কোনো আপস করেননি। তাঁর দক্ষ কূটনৈতিক উদ্যোগেই গঙ্গার পানিবণ্টন ও রোহিঙ্গা সংকটের মতো জটিল ইস্যুতেও বাংলাদেশ সম্মানজনক অবস্থান ধরে রাখতে সক্ষম হয়।
উপসংহার
৭ নভেম্বরের বিপ্লব ও সংহতির চেতনা কেবল অতীতের গৌরবগাথা নয়—এটি আজও আমাদের জাতীয় ঐক্যের প্রতীক। জিয়াউর রহমানের পররাষ্ট্রনীতি আমাদের শিখিয়েছে, আত্মমর্যাদা ও স্বাধীন অবস্থান ছাড়া কোনো জাতি প্রকৃত অর্থে উন্নত হতে পারে না।
আজকের বিশ্বায়নের যুগে, যেখানে আন্তর্জাতিক কূটনীতি প্রতিদিন নতুন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি, সেখানে শহীদ জিয়ার পররাষ্ট্রদর্শন এখনও প্রাসঙ্গিক ও দিকনির্দেশক।
জাতীয় ঐক্য, স্বাধীনতা ও আত্মমর্যাদার যে যাত্রা ৭ নভেম্বর শুরু হয়েছিল—সেই চেতনার ধারাবাহিকতা রক্ষা করেই আমরা গড়তে পারি শান্তি, সাম্য ও মানবিক মর্যাদার বাংলাদেশ।
জাকির হোসেন, সম্পাদক, সিটিনিউজ সেভেন ডটকম


